কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়ন এলাকায় রাতের অন্ধকারে ৯ কাটা জমিতে অবস্থিত প্রায় ২২ পিলি পানবরজ ভাঙচুর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জুনিয়াদহ ইউনিয়নের হরিপুর কলোনীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। গতবুধবার রাত সাড়ে ১২টায় সংঘটিত এই ঘটনায় দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মৃত ইয়াসিন বিশ্বাসের ছেলে সামছুল বিশ্বাস (৬২)। গতকাল শুক্রবার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সামছুলের পানবরজের বিভিন্ন অংশ ভেঙে মাটিতে পড়ে আছে।কোথাও বাঁশের খুঁটি উপড়ে ফেলা হয়েছে। কোথাও বেড়া আবার কোথাও ছনের ছাউনি নষ্ট করা হয়েছে। বরজে পানগাছ মাটিতে লুটিয়ে থাকতে দেখা গেছে প্রায় জায়গাতেই।
পানচাষী সামছুল জানান, সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হয়ে পানবরজে গিয়ে দেখি বেড়া ও ছাউনি ভাংচুর অবস্থায় পড়ে আছে।পানবরজে আসার পথে রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পানপাতা পড়ে থাকতে দেখি। তখনই সন্দেহ হয়। ভেতরে এসে দেখি পানবরজের বেশি অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে।
পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা দাবি করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সামছুল বলেন, একজনের পক্ষে এতগুলো পান ভাঙা সম্ভব নয়। অন্তত ০৫ থেকে ০৭ জন সংঘটিত হয়ে এই কাজ করে থাকতে পারে। এব্যাপারে তিনি ভেড়ামারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সামছুল আরও বলেন, আমার পান বরজ সংলগ্ন জামিয়া সওতুল কোরআন আল ইসমামিয়া মাদ্রাসা, এতিমখানা ও প্রতিবন্ধীদের একটা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যাহার কারণে প্রতিষ্ঠানের অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা মাঝে মাঝেই ফুটবল খেলা খেলে থাকে। ফুটবল খেলার এক পর্যায়ে ফুটবলটি আমার পান বরজে গিয়ে পড়ে একদিন। এরপর তাদের নিষেধ করার পরও ফুটবল আমার পান বরজে প্রায় দিন ফেলতেই থাকলে আমি এই ঘটনার ১০/১২ দিন আগে তাদের ফুটবলটি আমি কেটে নষ্ট করে দি। যার ফলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সাগর আলী ওরফে খোকন আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেই। আমার ধারণা উক্ত মাদ্রাসার কেউ যোগসাজশ করে আমার এই পান বরজের ২২ পিলি পান ভাঙচুর করে ক্ষতি করে। তাই আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সহ ক্ষতিপূরণের দাবি জানায়।
এ ব্যাপারে মোঃ সাগর আলী ওরফে খোকন এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহেদুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ গতকাল পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, ব্যুরো চীফ, দক্ষিণাঞ্চল 



















