ঢাকা ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের সবচেয়ে বড় শিল্পাঞ্চলগুলোর একটি গাজীপুর মহানগরকে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় এনে ‘সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।

 

 

পরিকল্পনাটি সফল হলে গাজীপুরই হবে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থাসমৃদ্ধ নগর, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্মার্ট নজরদারি ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি একসঙ্গে কাজ করবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি গাজীপুর। প্রতিদিন লাখো পোশাক শ্রমিক, হাজারো শিল্পপ্রতিষ্ঠান, হাজারো পণ্যবাহী ট্রাক ও অসংখ্য মানুষের চলাচলে ব্যস্ত থাকে এই নগর। শিল্পায়নের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তাও দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। সেই প্রয়োজন থেকেই ‘সেফ সিটি’ প্রকল্পের ভাবনা এসেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি), গাজীপুর সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান সমকালকে জানান, ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের অনুমোদন মিলেছে। এখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো উদ্যোগ। তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ব্যস্ত মোড় ও জনসমাগমস্থলে স্থাপন করা হবে অত্যাধুনিক আইপি ক্যামেরা।

এসব ক্যামেরা শুধু ছবি ধারণই করবে না, বরং এআই প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহজনক গতিবিধি বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তাও দেবে। একই সঙ্গে ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে চিহ্নিত অপরাধীদের শনাক্ত এবং অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনিশন (এএনপিআর) প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহনের চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হবে।

পুরো ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে একটি আধুনিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার। সেখান থেকে একসঙ্গে মহানগরের বিভিন্ন এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। ফলে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযান পরিচালনা সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ‘ডেভেলপমেন্ট অব সেফ সিটি ইন ঢাকা’ প্রকল্পের আওতায় গাজীপুরকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বিবেচনায় এটিকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে আগে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গাজীপুরে সফল বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরবর্তী সময়ে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বড় শহরেও একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, গাজীপুরে স্থানীয় লোকজনের চেয়ে ভাসমান মানুষের সংখ্যা অর্ধেকের বেশি। সেই হিসেবে গাজীপুর মহানগরে বর্তমানে কমপক্ষে ৭০-৮০ লাখ লোকের বসবাস। পোশাক শ্রমিক এবং শিল্পোদ্যোক্তাদের জানমাল ও সম্পদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের লক্ষ্য। একটি নিরাপদ শিল্পনগর গড়ে উঠলে এর সুফল দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। শুধু অপরাধ নিয়ন্ত্রণ নয়, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার এবং নাগরিক সেবাকে আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

দেশের সবচেয়ে বড় শিল্পাঞ্চলগুলোর একটি গাজীপুর মহানগরকে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় এনে ‘সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।

আপডেট সময় : ০৩:৪৪:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

 

 

পরিকল্পনাটি সফল হলে গাজীপুরই হবে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থাসমৃদ্ধ নগর, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্মার্ট নজরদারি ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি একসঙ্গে কাজ করবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি গাজীপুর। প্রতিদিন লাখো পোশাক শ্রমিক, হাজারো শিল্পপ্রতিষ্ঠান, হাজারো পণ্যবাহী ট্রাক ও অসংখ্য মানুষের চলাচলে ব্যস্ত থাকে এই নগর। শিল্পায়নের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তাও দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। সেই প্রয়োজন থেকেই ‘সেফ সিটি’ প্রকল্পের ভাবনা এসেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি), গাজীপুর সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান সমকালকে জানান, ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের অনুমোদন মিলেছে। এখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো উদ্যোগ। তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ব্যস্ত মোড় ও জনসমাগমস্থলে স্থাপন করা হবে অত্যাধুনিক আইপি ক্যামেরা।

এসব ক্যামেরা শুধু ছবি ধারণই করবে না, বরং এআই প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহজনক গতিবিধি বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তাও দেবে। একই সঙ্গে ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে চিহ্নিত অপরাধীদের শনাক্ত এবং অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনিশন (এএনপিআর) প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহনের চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হবে।

পুরো ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে একটি আধুনিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার। সেখান থেকে একসঙ্গে মহানগরের বিভিন্ন এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। ফলে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযান পরিচালনা সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ‘ডেভেলপমেন্ট অব সেফ সিটি ইন ঢাকা’ প্রকল্পের আওতায় গাজীপুরকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বিবেচনায় এটিকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে আগে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গাজীপুরে সফল বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরবর্তী সময়ে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বড় শহরেও একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, গাজীপুরে স্থানীয় লোকজনের চেয়ে ভাসমান মানুষের সংখ্যা অর্ধেকের বেশি। সেই হিসেবে গাজীপুর মহানগরে বর্তমানে কমপক্ষে ৭০-৮০ লাখ লোকের বসবাস। পোশাক শ্রমিক এবং শিল্পোদ্যোক্তাদের জানমাল ও সম্পদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের লক্ষ্য। একটি নিরাপদ শিল্পনগর গড়ে উঠলে এর সুফল দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। শুধু অপরাধ নিয়ন্ত্রণ নয়, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার এবং নাগরিক সেবাকে আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।