একটি প্রগতিশীল, স্বাবলম্বী ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে নারীর সুশিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। সমাজসংস্কারকদের মতে, সমাজকে টেকসইভাবে বদলে দিতে হলে কেবল নারীর প্রাথমিক শিক্ষা নয়, বরং গুণগত ও সুশিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
শিক্ষা কেবল অক্ষরজ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সুশিক্ষা হলো সেই আলো যা মানুষের চিন্তাশক্তি, নৈতিকতা, স্বাবলম্বিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে জাগ্রত করে। একটি সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাদের উন্নয়ন ও অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো জাতির প্রকৃত অগ্রগতি সম্ভব নয়।
নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছিলেন, “আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি একটি শিক্ষিত জাতি দেব।” এ উক্তিটি নারীর সুশিক্ষার গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। একজন সুশিক্ষিত নারী কেবল নিজের জীবনকে উন্নত করেন না, বরং একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ কান্ডারি হিসেবে ভূমিকা রাখেন। শিশুর প্রথম পাঠশালা হলো তার পরিবার, আর প্রথম শিক্ষক মা। ফলে একজন সুশিক্ষিত নারী তার সন্তানকে সঠিক মূল্যবোধ, নীতি ও আধুনিক চিন্তাধারায় গড়ে তুলতে পারেন, যা ভবিষ্যতে একটি সচেতন সমাজ গঠনে সহায়তা করে।
তাছাড়া, অর্থনীতি ও সামাজিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রেও নারীর অবদান অনস্বীকার্য। সুশিক্ষিত নারী তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হন এবং সামাজিক কুসংস্কার, বাল্যবিয়ে ও যৌতুকের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারেন। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার মাধ্যমে তারা পরিবার ও রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজ পরিবর্তনের সূচনা হয় চিন্তার পরিবর্তন থেকে। আর সেই চিন্তার রূপান্তর ঘটাতে নারীর সুশিক্ষাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। তাই নারীশিক্ষাকে স্রেফ একটি সুযোগ হিসেবে না দেখে, রাষ্ট্রের ও সমাজের অন্যতম প্রধান মূল দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। নারীর সুশিক্ষা নিশ্চিতের মাধ্যমেই একটি নিরাপদ, উন্নত ও মেধাভিত্তিক সমাজ রূপায়ণ সম্ভব।
টেকনাফে প্রতিনিধি মিসবাহ উল্লাহ 



















