রংপুর বিভাগের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মো. আবু জাফর সোমবার (২৮ জুলাই) বিকেলে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেন। বিকেল ৩টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদে পৌঁছে তিনি পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম, উন্নয়ন প্রকল্প এবং নাগরিক সেবার বিভিন্ন দিক সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোনাব্বর হোসেন, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শ্রী কুমারেশ রায়, ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা অনিমেষ রায়, নয়টি ওয়ার্ডের সদস্য এবং তিনজন সংরক্ষিত নারী সদস্য।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে বিভাগীয় পরিচালক ইউনিয়নের চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে দুটি ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি হাড়িয়ারকুঠি মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র পরিদর্শন করে সেবার মান, চিকিৎসা কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
এ সময় তিনি চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিশেষভাবে মা ও শিশুস্বাস্থ্য, কিশোরী ও গর্ভবতী নারীদের সেবা, সাধারণ রোগীদের ওষুধ সরবরাহ, চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রাপ্যতা এবং স্বাভাবিক প্রসবের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মো. আবু জাফর বলেন, “এটি স্থানীয় সরকার বিভাগের নিয়মিত তদারকি কার্যক্রমের অংশ। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও হিসাবপত্র নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। আজ হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রম ও নথিপত্র যাচাই করে উল্লেখযোগ্য কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি।”
দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের অ্যাম্বুলেন্সটি অকেজো হয়ে পড়ে থাকার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইউনিয়ন পরিষদের জন্য দ্রুত একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।
হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শ্রী কুমারেশ রায় বলেন, “বিভাগীয় পরিচালক ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পরিদর্শনের ভিত্তিতে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি প্রতিবেদন জমা দেবেন।
*শাহাদাত হোসেন সোহাগ (তারাগঞ্জ, রংপুর)* 



















