রূপগঞ্জ ও আশপাশে মানুষের বাসা, গ্যারেজ, বহুতল ভবনেও পদ্মগোখরা, ˆখয়াপানশ ও রাজকেউটের মতো বিষধর সাপ পাওয়া যাচ্ছে| এ নিয়ে মানুষের আতঙ্কও বাড়ছে|
গত ৩ বছরে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সাপ উদ্ধার করেছে ২৫২টি| কাশেম মিয়া বলেন, গেল সপ্তাহে বাড়ির পুকুর থেকে সাড়ে ৩ হাত ল¤^া জাতী সাপ মারলাম| জায়দালের ঘর থেকে কিছু দিন আগে ৪ হাত ল¤^া গোখরা সাপ মারলাম| এছাড়াও নগরপাড়া বালুর সড়কে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন প্রজাতির সাপ মারা হচ্ছে| এ নিয়ে গোটা এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে|
তেতলাব খালপার এলাকার আল আমিন বলেন, “রাতে দেখি দুটি সাপ বাড়িতে ঢুকতে চেষ্টা করছে| এসময় আমি ‘সাপ সাপ’ বলে চিৎকার করলে আশপাশের সবাই ছুটে আসে| চার হাত ল¤^া একটি সাপ মারতে পারলেও অন্যটি চলে যায়|”
শান্তিনগর এলাকার গৃহবধূ আছিয়া আক্তার বলেন, ‘রাতে টয়লেটে যেতেও ভয় লাগে| কয়েক দিন আগে রান্নাঘরে একটি সাপ দেখা যায়| এরপর থেকে সন্তানদের একা কোথাও যেতে দিচ্ছি না|’
তিনি বলেন, ‘আগে বছরে দু-একবার সাপ দেখতাম, এখন প্রায় প্রতিদিনই খবর শুনছি| এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে|’
গত ১ জুলাই একটি বাড়ির ফ্লোর ভেঙে ২টি পদ্মগোখরা, ৭টি বাচ্চা ও ১৮টি ডিম উদ্ধারের কথা জানান আমজাদ| সাপের আতঙ্কে ভাড়াটেরা ওই বাসাই ছেড়ে যান|
কৃষি কর্মকর্তা আফরোজা সুলতানা বলেন, কয়েক বছর আগে চন্দ্রবোড়া বা রাসেলস ভাইপার বিভিন্ন জেলায় আতঙ্ক ˆতরি করেছিল| মানুষ জলাশয় ভরাট করে ফেলছে| এতে সাপের বাসস্থানের সংকট ˆতরি হচ্ছে| সাপের গর্তে বৃষ্টির পানি ঢুকলে সাপ আশ্রয়ের জন্য শুকনা স্থান বা উঁচু স্থানে যাচ্ছে| ভবনের গেটের সঙ্গে বাগানবিলাসের মতো লতানো গাছগুলো বেয়েও সাপ বহুতল ভবনে ঢুকে যাচ্ছে| পাশাপাশি দুই বাড়ির মাঝখানের জায়গায় অনেকে খাবার ফেলেন| সেখানে ইঁদুরের আনাগোনা বাড়ে| ইঁদুর খাওয়ার জন্য সাপ সেখানে যায়, পরে বাসার ভেতরে ঢুকে পড়ে|
সাপের কামড় গ্রামাঞ্চলেই বেশি ঘটে| বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ মোট ১১টি প্রতিষ্ঠানের এক যৌথ জরিপের বলছে, সাপের দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৯৫ শতাংশ গ্রাম, বিশেষত চরের অধিবাসী| এসব ঘটনা ২৪ শতাংশই ঘটাচ্ছে বিষধর সাপ|
ডাঃ তানসিব জুবায়ের নাদিম বলেন, বিষধর সাপে কামড় দিলে কামড়ের জায়গায় তীব্র ব্যথা ও ফোলা ভাব হয়| জায়গাটি লালচে, নীলচে বা কালচে হয়ে যায়| রক্তপাত বা ফোসকা পড়ে| কোবরা ও ক্রেইটের বিষে চোখের পাতা ঝুলে পড়ে, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায় এবং গিলতে, কথা বলতে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়| রাসেলস ভাইপার সাপের বিষে মাড়ি, প্রস্রাব, বমি বা মল দিয়ে রক্ত আসে| রক্তচাপ কমে যাওয়া, কিডনির সমস্যা ও শরীর ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা হয়|
সাপের কামড় এড়াতে মানুষকেও রাতে চলাচলের সময় সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা| বাড়ির আশপাশে ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখতে হবে|
পরিবেশ রক্ষায় সাপের গুরুত্ব তুলে ধরে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা সজল কুমার দাস বলেন, সাপ ক্ষতিকর পোকামাকড় ও ইঁদুর খেয়ে ফসলের উৎপাদন বাড়ায়| ক্যানসার, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ, ব্যথানাশক ওষুধসহ নানা অ্যান্টিভেনম ˆতরি হয় সাপের বিষ থেকে| অথচ বিষ আছে এবং ছোবল মারতে পারে ভেবে মানুষ সাপ দেখামাত্র মেরে ফেলে| তাই সাপ চিনতে হবে, সাপ নিয়ে কুসংস্কার দূর করতে হবে| সাপে কামড় দিলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যেতে হবে|
রূপগঞ্জে বিষধর সাপের উপদ্রব আতঙ্কে মানুষ
-
নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ - আপডেট সময় : ০৮:৩৮:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
- 53
জনপ্রিয় সংবাদ




















