ঢাকা ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ লাখ টাকার বিনিময়ে উদ্ধারকৃত মাদক ও প্রাইভেটকার ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ: হাতীবান্ধা থানার চার পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড

 

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদক ও একটি প্রাইভেটকার ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সিসিটিভি ফুটেজে অনৈতিক সমঝোতার দৃশ্য ধরা পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে অভিযুক্ত চার পুলিশ কর্মকর্তাকে থানা থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ (ক্লোজড) করে লালমনিরহাট পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার। তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন— হাতীবান্ধা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তুহিন, এসআই রিমন মিয়া, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল হাকিম এবং এএসআই লুৎফর রহমান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাতীবান্ধা উপজেলার বোর্ডের হাট বাজারের পূর্ব পাশে এক মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন ওই চার কর্মকর্তা। অভিযানে একটি প্রাইভেটকার, একটি মোটরসাইকেল এবং বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, জব্দ করা আলামত থানায় নিয়ে না গিয়ে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে নেওয়া হয়। সেখানে স্থানীয় কয়েকজনের উপস্থিতিতে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে উদ্ধার হওয়া মাদক ও প্রাইভেটকার ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরে ইউনিয়ন পরিষদের সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার বিভিন্ন তথ্য উঠে আসে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনা গোপন করতে এএসআই আব্দুল হাকিম ইউনিয়ন পরিষদের এক কর্মচারীর মোবাইল ফোন থেকে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলারও চেষ্টা করেন।

এদিকে, পরদিন ভবানীপুর গ্রামে আরেকটি অভিযানে গেলে স্থানীয়দের তীব্র বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। এরপর ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ওসি আশরাফুজ্জামান সরকার বলেন, “প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতেই অভিযুক্ত চার কর্মকর্তাকে থানা থেকে ক্লোজড করে লালমনিরহাট পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

১০ লাখ টাকার বিনিময়ে উদ্ধারকৃত মাদক ও প্রাইভেটকার ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ: হাতীবান্ধা থানার চার পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড

আপডেট সময় : ০৫:৪৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

 

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদক ও একটি প্রাইভেটকার ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সিসিটিভি ফুটেজে অনৈতিক সমঝোতার দৃশ্য ধরা পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে অভিযুক্ত চার পুলিশ কর্মকর্তাকে থানা থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ (ক্লোজড) করে লালমনিরহাট পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার। তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন— হাতীবান্ধা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তুহিন, এসআই রিমন মিয়া, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল হাকিম এবং এএসআই লুৎফর রহমান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাতীবান্ধা উপজেলার বোর্ডের হাট বাজারের পূর্ব পাশে এক মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন ওই চার কর্মকর্তা। অভিযানে একটি প্রাইভেটকার, একটি মোটরসাইকেল এবং বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, জব্দ করা আলামত থানায় নিয়ে না গিয়ে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে নেওয়া হয়। সেখানে স্থানীয় কয়েকজনের উপস্থিতিতে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে উদ্ধার হওয়া মাদক ও প্রাইভেটকার ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরে ইউনিয়ন পরিষদের সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার বিভিন্ন তথ্য উঠে আসে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনা গোপন করতে এএসআই আব্দুল হাকিম ইউনিয়ন পরিষদের এক কর্মচারীর মোবাইল ফোন থেকে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলারও চেষ্টা করেন।

এদিকে, পরদিন ভবানীপুর গ্রামে আরেকটি অভিযানে গেলে স্থানীয়দের তীব্র বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। এরপর ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ওসি আশরাফুজ্জামান সরকার বলেন, “প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতেই অভিযুক্ত চার কর্মকর্তাকে থানা থেকে ক্লোজড করে লালমনিরহাট পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।