ঢাকা ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জগন্নাথপুরে দিন-দুপুরে সাংবাদিকের ঘরের তালা ভেঙে ৫৫ হাজার টাকা চুরি, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় এক সাংবাদিকের বসতঘরে দিনদুপুরে সংঘটিত দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ির প্রধান দরজার তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে ওয়াড্রোব ভেঙে নগদ ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বালিকান্দী (বর্তমানে বালিকান্দি মোকামপাড়া) গ্রামে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর ফরীদি জগন্নাথপুর সাংবাদিক ফোরামের আহ্বায়ক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিভিন্ন অনিয়ম, অপরাধ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর ফরীদির স্ত্রী আলেয়া বেগম তাঁদের মেয়ে রাইসাকে নিয়ে আটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। এরপর সকাল প্রায় ১০টার দিকে সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর ফরীদি বসতঘরে তালা লাগিয়ে স্থানীয় কলকলিয়া বাজারে চলে যান। দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে আলেয়া বেগম বাড়িতে ফিরে এসে দেখেন, ঘরের প্রধান দরজার তালা ভাঙা। ঘরে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পান ওয়াড্রোবের তালাও ভাঙা। পরে ড্রয়ারে রাখা নগদ ৫৫ হাজার টাকা না পেয়ে তিনি চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর ফরীদি দ্রুত বাড়িতে ফিরে এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, ঘটনার সময়ের কিছু আগে ও আশপাশে এলাকার চিহ্নিত কয়েকজন চোরকে সাংবাদিকের বাড়ির আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে স্থানীয়দের ধারণা। সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর ফরীদি বলেন, “সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে কোনো একসময় চোরেরা আমার বসতঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ওয়ার্ডরোব ভেঙে নগদ ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। তিনি বলেন কয়েক মাস আগে এলাকায় সংঘটিত কয়েকটি চুরির ঘটনায় আমি সংবাদ প্রকাশ এবং সামাজিকভাবে বিচার-সালিশের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে আজ আমার বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি” এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। দিনের আলোয় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা দ্রুত চোরচক্রকে শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানিয়েছেন, তিনি এ ঘটনায় ২১ শে জুলাই রাতে জগন্নাথপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে চোর চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অবহ্যত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

জগন্নাথপুরে দিন-দুপুরে সাংবাদিকের ঘরের তালা ভেঙে ৫৫ হাজার টাকা চুরি, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি।

আপডেট সময় : ০৮:১০:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় এক সাংবাদিকের বসতঘরে দিনদুপুরে সংঘটিত দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ির প্রধান দরজার তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে ওয়াড্রোব ভেঙে নগদ ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বালিকান্দী (বর্তমানে বালিকান্দি মোকামপাড়া) গ্রামে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর ফরীদি জগন্নাথপুর সাংবাদিক ফোরামের আহ্বায়ক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিভিন্ন অনিয়ম, অপরাধ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর ফরীদির স্ত্রী আলেয়া বেগম তাঁদের মেয়ে রাইসাকে নিয়ে আটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। এরপর সকাল প্রায় ১০টার দিকে সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর ফরীদি বসতঘরে তালা লাগিয়ে স্থানীয় কলকলিয়া বাজারে চলে যান। দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে আলেয়া বেগম বাড়িতে ফিরে এসে দেখেন, ঘরের প্রধান দরজার তালা ভাঙা। ঘরে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পান ওয়াড্রোবের তালাও ভাঙা। পরে ড্রয়ারে রাখা নগদ ৫৫ হাজার টাকা না পেয়ে তিনি চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর ফরীদি দ্রুত বাড়িতে ফিরে এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, ঘটনার সময়ের কিছু আগে ও আশপাশে এলাকার চিহ্নিত কয়েকজন চোরকে সাংবাদিকের বাড়ির আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে স্থানীয়দের ধারণা। সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর ফরীদি বলেন, “সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে কোনো একসময় চোরেরা আমার বসতঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ওয়ার্ডরোব ভেঙে নগদ ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। তিনি বলেন কয়েক মাস আগে এলাকায় সংঘটিত কয়েকটি চুরির ঘটনায় আমি সংবাদ প্রকাশ এবং সামাজিকভাবে বিচার-সালিশের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে আজ আমার বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি” এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। দিনের আলোয় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা দ্রুত চোরচক্রকে শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানিয়েছেন, তিনি এ ঘটনায় ২১ শে জুলাই রাতে জগন্নাথপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে চোর চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অবহ্যত রয়েছে।