ঢাকা ০৭:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্দরের বহির্নোঙরে জলদস্যুতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা জোরদারের দাবি চট্টগ্রাম চেম্বারের

 

 

 

 

 

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যুতার ঘটনা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই)। সংগঠনটির দাবি, এ পরিস্থিতি দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই দ্রুত কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং জলদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক এসব দাবি তুলে ধরেন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত এক মাসে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত তিনটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যুরা হামলা চালিয়ে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও কয়েক কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও দ্রুত কার্যকর সহায়তা পাওয়া যায়নি। এতে বিদেশি জাহাজের মালিক, শিপিং এজেন্ট এবং নাবিকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

চেম্বারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। ফলে বহির্নোঙরে নিরাপত্তাহীনতা শুধু বন্দর কার্যক্রম নয়, জাতীয় অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, জলদস্যুতার ঘটনা অব্যাহত থাকলে বিদেশি শিপিং কোম্পানিগুলোর আস্থা কমে যেতে পারে। এর প্রভাবে জাহাজের বিমা ব্যয় বৃদ্ধি, পণ্য পরিবহনে বিলম্ব এবং সামগ্রিক ব্যবসায়িক ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সরকারের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নের উদ্যোগও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বঙ্গোপসাগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহল বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার, জলদস্যুদের সহযোগী এবং চোরাই মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক জলদস্যুতার প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এবং আন্তর্জাতিক মানের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সার্বক্ষণিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুরও আহ্বান জানায় চট্টগ্রাম চেম্বার।

চিঠিতে আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা রিক্যাপের সর্বশেষ তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে জলদস্যুতা বা চুরির কোনো ঘটনা রেকর্ড হয়নি। তবে চেম্বারের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম ও বন্দর ব্যবস্থাপনার প্রতি আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

বন্দরের বহির্নোঙরে জলদস্যুতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা জোরদারের দাবি চট্টগ্রাম চেম্বারের

আপডেট সময় : ০৭:২১:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

 

 

 

 

 

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যুতার ঘটনা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই)। সংগঠনটির দাবি, এ পরিস্থিতি দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই দ্রুত কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং জলদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক এসব দাবি তুলে ধরেন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত এক মাসে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত তিনটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যুরা হামলা চালিয়ে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও কয়েক কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও দ্রুত কার্যকর সহায়তা পাওয়া যায়নি। এতে বিদেশি জাহাজের মালিক, শিপিং এজেন্ট এবং নাবিকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

চেম্বারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। ফলে বহির্নোঙরে নিরাপত্তাহীনতা শুধু বন্দর কার্যক্রম নয়, জাতীয় অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, জলদস্যুতার ঘটনা অব্যাহত থাকলে বিদেশি শিপিং কোম্পানিগুলোর আস্থা কমে যেতে পারে। এর প্রভাবে জাহাজের বিমা ব্যয় বৃদ্ধি, পণ্য পরিবহনে বিলম্ব এবং সামগ্রিক ব্যবসায়িক ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সরকারের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নের উদ্যোগও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বঙ্গোপসাগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহল বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার, জলদস্যুদের সহযোগী এবং চোরাই মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক জলদস্যুতার প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এবং আন্তর্জাতিক মানের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সার্বক্ষণিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুরও আহ্বান জানায় চট্টগ্রাম চেম্বার।

চিঠিতে আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা রিক্যাপের সর্বশেষ তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে জলদস্যুতা বা চুরির কোনো ঘটনা রেকর্ড হয়নি। তবে চেম্বারের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম ও বন্দর ব্যবস্থাপনার প্রতি আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।