কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার চান্দামারী মন্ডলপাড়া গ্রামে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক চান্দামারী জামে মসজিদ। মোগল আমলের এই প্রাচীন স্থাপনাটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং উত্তরবঙ্গের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শন।
রাজারহাট উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, প্রায় ৫১ শতক জমির ওপর গড়ে উঠেছে এই ঐতিহাসিক মসজিদ। ধারণা করা হয়, ১৫৮৪ থেকে ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে মোগল শাসনামলে এটি নির্মিত হয়। তবে মসজিদে কোনো শিলালিপি না থাকায় নির্মাতার নাম বা সুনির্দিষ্ট নির্মাণসাল আজও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
চান্দামারী জামে মসজিদটি তিন গম্বুজ, তিনটি মিহরাব এবং চারটি মিনারবিশিষ্ট। ইট, চুন ও সুরকির মিশ্রণে নির্মিত এই স্থাপনায় মোগল স্থাপত্যের পাশাপাশি সুলতানি আমলের শিল্পরীতিরও প্রভাব দেখা যায়। মসজিদের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ ফুট, প্রস্থ ২০ ফুট । একসঙ্গে প্রায় ৩০০ মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করতে পারেন।
স্থানীয়দের মুখে মুখে প্রচলিত আছে, একসময় এই এলাকায় সৈন্যদের মহড়া অনুষ্ঠিত হতো। সেই কারণেই এলাকার নাম হয় “চান্দামারী”। যদিও এই তথ্যের পক্ষে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই, তবুও এটি স্থানীয় লোককথার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সময়ের প্রবাহে শত শত বছর পেরিয়ে গেলেও আজও এই মসজিদে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় হয়। জুমা ও ঈদের নামাজে এখানে ভিড় করেন শত শত মুসল্লি। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইতিহাসপ্রেমী, গবেষক ও পর্যটকেরাও এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দেখতে আসেন।
চান্দামারী জামে মসজিদ কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি কুড়িগ্রামের গৌরব, উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাসের এক মূল্যবান নিদর্শন। যথাযথ সংরক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আরও সুন্দরভাবে তুলে ধরা সম্ভব।
মহানন্দ বর্মন,রাজারহাট উপজেলা প্রতিনিধি। 



















