ঢাকা ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাইজদীতে সাংবাদিকের বাইক চুরি: ক্রেতা সেজে দুই আন্তঃজেলা চোরকে ধরল সুধারাম থানা পুলিশ

নোয়াখালীর মাইজদী শহর থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ আন্তঃজেলা চোরচক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ। চোর ধরতে পুলিশ ছদ্মবেশে ক্রেতা সেজে ফাঁদ পাতে এবং কৌশলে তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার দক্ষিণ হাতিয়া গ্রামের মো: ফয়সাল (৩৫) এবং চরজব্বার উপজেলার পশ্চিম চরলিয়ার জাহাঙ্গীর আলম (৩২)।
পুলিশ জানায়, গত ১২ জুলাই রাতে মাইজদী-সোনাপুর সড়কের টোকিও ফুডের সামনে থেকে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন ও দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার নোয়াখালী স্টাফ রিপোর্টার আবু নাছের মঞ্জুর একটি ১১০ সিসির কালো রঙের হোন্ডা মোটরসাইকেল চুরি হয়। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের পর জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় তদন্তে নামে পুলিশ।

ক্রেতা সেজে পুলিশের ফাঁদ
এসআই মো: ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গুপ্তচরের সহায়তায় চোরচক্রের সন্ধান পায়। এরপর পুলিশ সদস্যরা ক্রেতা সেজে বাইকটি কেনার জন্য চোরদের সাথে যোগাযোগ করেন। চোরচক্রটি বাইক বিক্রির উদ্দেশ্যে অগ্রিম ১০,০০০ টাকা দাবি করলে পুলিশ তাদের দেওয়া বিকাশ নাম্বারে টাকা পাঠায় এবং দেখা করার একটি স্থান নির্ধারণ করে।

যেভাবে ধরা পড়ল চোরচক্র
গত ১৭ জুলাই রাতে নোয়াখালী পৌরসভার মহব্বতপুর এলাকার কাঞ্চন মেম্বারের পোলে বাইকটি ডেলিভারি দিতে আসে চোর চক্রের সদস্য ফয়সাল। ওৎ পেতে থাকা পুলিশ তাকে হাতেনাতে আটক করে এবং চুরি যাওয়া হোন্ডা বাইকটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে আটক ফয়সালকে দিয়ে কৌশলে তার সহযোগী জাহাঙ্গীর আলমকে ফোন করানো হয়। ১৮ জুলাই গভীর রাতে জাহাঙ্গীর অপর একটি ১২৫ সিসির লাল রঙের হিরো গ্ল্যামার মোটরসাইকেল নিয়ে একই স্থানে পৌঁছালে পুলিশ তাকেও গ্রেফতার করে।
উদ্ধারকৃত আলামত ও পূর্ববর্তী মামলা
অভিযানে সাংবাদিকদের চুরি হওয়া হোন্ডা ১১০ সিসি বাইক (যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫ হাজার টাকা) এবং চোরদের হেফাজতে থাকা আরও একটি হিরো গ্ল্যামার ১২৫ সিসি বাইক (যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা) জব্দ করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতরা আন্তঃজেলা চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে মাইজদী শহরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে আসছিল। গ্রেফতারকৃত ফয়সালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই ও দস্যুতাসহ ১০টি এবং জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ২টি চুরির মামলা রয়েছে।

আইনগত ব্যবস্থা:
আসামিদের বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় ৩৭৯ পেনাল কোড ধারায় মামলা (নং-২৩, তাং- ১৭/০৭/২০২৬) দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

মাইজদীতে সাংবাদিকের বাইক চুরি: ক্রেতা সেজে দুই আন্তঃজেলা চোরকে ধরল সুধারাম থানা পুলিশ

আপডেট সময় : ১২:১৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

নোয়াখালীর মাইজদী শহর থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ আন্তঃজেলা চোরচক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ। চোর ধরতে পুলিশ ছদ্মবেশে ক্রেতা সেজে ফাঁদ পাতে এবং কৌশলে তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার দক্ষিণ হাতিয়া গ্রামের মো: ফয়সাল (৩৫) এবং চরজব্বার উপজেলার পশ্চিম চরলিয়ার জাহাঙ্গীর আলম (৩২)।
পুলিশ জানায়, গত ১২ জুলাই রাতে মাইজদী-সোনাপুর সড়কের টোকিও ফুডের সামনে থেকে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন ও দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার নোয়াখালী স্টাফ রিপোর্টার আবু নাছের মঞ্জুর একটি ১১০ সিসির কালো রঙের হোন্ডা মোটরসাইকেল চুরি হয়। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের পর জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় তদন্তে নামে পুলিশ।

ক্রেতা সেজে পুলিশের ফাঁদ
এসআই মো: ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গুপ্তচরের সহায়তায় চোরচক্রের সন্ধান পায়। এরপর পুলিশ সদস্যরা ক্রেতা সেজে বাইকটি কেনার জন্য চোরদের সাথে যোগাযোগ করেন। চোরচক্রটি বাইক বিক্রির উদ্দেশ্যে অগ্রিম ১০,০০০ টাকা দাবি করলে পুলিশ তাদের দেওয়া বিকাশ নাম্বারে টাকা পাঠায় এবং দেখা করার একটি স্থান নির্ধারণ করে।

যেভাবে ধরা পড়ল চোরচক্র
গত ১৭ জুলাই রাতে নোয়াখালী পৌরসভার মহব্বতপুর এলাকার কাঞ্চন মেম্বারের পোলে বাইকটি ডেলিভারি দিতে আসে চোর চক্রের সদস্য ফয়সাল। ওৎ পেতে থাকা পুলিশ তাকে হাতেনাতে আটক করে এবং চুরি যাওয়া হোন্ডা বাইকটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে আটক ফয়সালকে দিয়ে কৌশলে তার সহযোগী জাহাঙ্গীর আলমকে ফোন করানো হয়। ১৮ জুলাই গভীর রাতে জাহাঙ্গীর অপর একটি ১২৫ সিসির লাল রঙের হিরো গ্ল্যামার মোটরসাইকেল নিয়ে একই স্থানে পৌঁছালে পুলিশ তাকেও গ্রেফতার করে।
উদ্ধারকৃত আলামত ও পূর্ববর্তী মামলা
অভিযানে সাংবাদিকদের চুরি হওয়া হোন্ডা ১১০ সিসি বাইক (যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫ হাজার টাকা) এবং চোরদের হেফাজতে থাকা আরও একটি হিরো গ্ল্যামার ১২৫ সিসি বাইক (যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা) জব্দ করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতরা আন্তঃজেলা চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে মাইজদী শহরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে আসছিল। গ্রেফতারকৃত ফয়সালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই ও দস্যুতাসহ ১০টি এবং জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ২টি চুরির মামলা রয়েছে।

আইনগত ব্যবস্থা:
আসামিদের বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় ৩৭৯ পেনাল কোড ধারায় মামলা (নং-২৩, তাং- ১৭/০৭/২০২৬) দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।