কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে নদীপথে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ মাদকসহ এক যুবককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে আনুমানিক ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা মূল্যের ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটের দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী সীমান্ত এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
আটককৃতের পরিচয়
আটককৃত যুবকের নাম হাফিজ উল্লাহ (২১)। তিনি উখিয়া উপজেলার এফডব্লিউ ই-১৮ এলাকার বাসিন্দা আব্দুস শুককুরের ছেলে।
যেভাবে পরিচালিত হলো অভিযান
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক জানান, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে পালংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্তে অবস্থান নেয়। সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৮ থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার উত্তর দিকে এবং শূন্য লাইন (জিরো লাইন) থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আনজুমানপাড়া গ্রামের পানির পয়েন্টের নিচে খালের মুখ এলাকায় ওত পেতে থাকে বিজিবি সদস্যরা।
সকাল ৮টা ২০ মিনিটের দিকে মিয়ানমারের দিক থেকে নদীপথ পাড়ি দিয়ে মাথায় একটি বস্তা নিয়ে এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখা যায়। তার চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে বিজিবি টহল দল তাকে চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় ওই ব্যক্তি বিজিবি দেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করে তাকে আটক করতে সক্ষম হন।
বস্তা তল্লাশিতে মিলল বিপুল ইয়াবা
আটকের পর হাফিজ উল্লাহর মাথায় থাকা বস্তাটি তল্লাশি করে বিজিবি। তল্লাশিকালে বস্তার ভেতর থেকে খাকি রঙের একটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্যাকেটের ভেতরে রাখা নীল রঙের ১২টি কার্টন থেকে মোট ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক হাফিজ উল্লাহ স্বীকার করেছেন যে, তিনি মিয়ানমার সীমান্ত থেকে এই ইয়াবার চালানটি সংগ্রহ করেছিলেন এবং বাংলাদেশে এনে তা চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে বহন করছিলেন।
বিজিবির কঠোর বার্তা ও আইনি পদক্ষেপ
এ বিষয়ে উখিয়া ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক বলেন,
”মাদক সরবরাহকারী ও এর সঙ্গে জড়িত চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারায় নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দেশের যুবসমাজকে রক্ষা করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রচলিত মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
টেকনাফে প্রতিনিধি মিসবাহ উল্লাহ প্রতিবেদনে বিস্তারিত দেখুন 



















