ঢাকা ০৭:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিশোরগঞ্জের হাওরে নৌ-ডাকাতদের দৌরাত্ম্য: আতঙ্কে সাধারণ মানুষ, যৌথ অভিযানে প্রশাসন

বর্ষা মৌসুমে কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে নৌপথই এখন সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার একমাত্র ভরসা। কিন্তু এই নির্ভরশীলতাকেই পুঁজি করে হাওরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ নৌ-ডাকাত চক্র। সাম্প্রতিক সময়ে ডাকাতদের দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় অশান্ত হয়ে উঠেছে পুরো হাওরাঞ্চল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাওরের নৌপথগুলোতে একের পর এক দুর্ধর্ষ লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। ডাকাত চক্রের এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ জেলে, ব্যবসায়ী, নৌকার যাত্রী এবং হাওরে ঘুরতে আসা পর্যটকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

সবশেষে ৮ জুলাই রাত সাড়ে ৭টার দিকে ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের বর্শিকুড়া-শেয়ারপুর ব্রিজসংলগ্ন বগাডুবি খাল এলাকায় যাত্রীবাহী ট্রলারে দেশীয় অস্ত্রের মুখে ডাকাতি হয়।
এ সময় ডাকাতরা হাঁড়ি-পাতিল, ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৭৪ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

এদিকে হাওরের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। জেলা পুলিশ, নৌ পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশ যৌথভাবে মাঠে নেমেছে। নৌপথে ডাকাতি রোধে ইতিমধ্যেই বিশেষ নৌ-টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং চিরুনি অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী।

অন্যদিকে হাওরবাসীকে আশ্বস্ত করে ডাকাতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বা কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-অষ্টগ্রাম-মিঠামইন) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তাঁরা জানান, হাওরের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে যেকোনো মূল্যে এই ডাকাত চক্রকে নির্মূল করা হবে।

নিরাপত্তা বাহিনীর এই সাঁড়াশি অভিযান ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কঠোর অবস্থানের পর হাওরবাসী দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির আশা করছেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের হাওরে নৌ-ডাকাতদের দৌরাত্ম্য: আতঙ্কে সাধারণ মানুষ, যৌথ অভিযানে প্রশাসন

আপডেট সময় : ০৮:০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

বর্ষা মৌসুমে কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে নৌপথই এখন সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার একমাত্র ভরসা। কিন্তু এই নির্ভরশীলতাকেই পুঁজি করে হাওরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ নৌ-ডাকাত চক্র। সাম্প্রতিক সময়ে ডাকাতদের দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় অশান্ত হয়ে উঠেছে পুরো হাওরাঞ্চল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাওরের নৌপথগুলোতে একের পর এক দুর্ধর্ষ লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। ডাকাত চক্রের এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ জেলে, ব্যবসায়ী, নৌকার যাত্রী এবং হাওরে ঘুরতে আসা পর্যটকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

সবশেষে ৮ জুলাই রাত সাড়ে ৭টার দিকে ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের বর্শিকুড়া-শেয়ারপুর ব্রিজসংলগ্ন বগাডুবি খাল এলাকায় যাত্রীবাহী ট্রলারে দেশীয় অস্ত্রের মুখে ডাকাতি হয়।
এ সময় ডাকাতরা হাঁড়ি-পাতিল, ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৭৪ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

এদিকে হাওরের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। জেলা পুলিশ, নৌ পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশ যৌথভাবে মাঠে নেমেছে। নৌপথে ডাকাতি রোধে ইতিমধ্যেই বিশেষ নৌ-টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং চিরুনি অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী।

অন্যদিকে হাওরবাসীকে আশ্বস্ত করে ডাকাতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বা কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-অষ্টগ্রাম-মিঠামইন) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তাঁরা জানান, হাওরের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে যেকোনো মূল্যে এই ডাকাত চক্রকে নির্মূল করা হবে।

নিরাপত্তা বাহিনীর এই সাঁড়াশি অভিযান ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কঠোর অবস্থানের পর হাওরবাসী দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির আশা করছেন।