ঢাকা ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কর্মচারীর সম্মাননা গ্রহণ করলেন পিটিআই ফেনীর মো. ফরিদুল ইসলাম

 

প্রাথমিক শিক্ষা পদক–২০২৬-এ জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কর্মচারী নির্বাচিত হয়েছেন প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই), ফেনীতে কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর মো. ফরিদুল ইসলাম। ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও প্রাথমিক শিক্ষা পদক জাতীয় পর্যায়ের বাছাই কমিটির সদস্য সচিব মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত ফলাফলে তাকে এ গৌরবময় স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

১৫ জুলাই ২০২৬ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিতদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রীর সবুজ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। একই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের প্রায় দুই লাখ চারা রোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

মো. ফরিদুল ইসলাম ২০১৩ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি “Administration for Service to People” নীতিকে ধারণ করে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সরকারি সেবা প্রদান করে আসছেন। তার দীর্ঘদিনের কর্মনিষ্ঠা ও সেবার স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি জাতীয় পর্যায়ের এই সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

মো. ফরিদুল ইসলাম ১৯৮৭ সালের ১ মার্চ চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর বাকিলা ইউনিয়নের লোধপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল ইসলাম, যিনি কাপাইকাপ মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহকারী। মাতা ফাতেমা বেগম একজন গৃহিণী। তিনি সাত ভাইয়ের মধ্যে একজন।

শিক্ষাজীবনে তিনি ২০০১ সালে দাখিল এবং ২০০৩ সালে আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন কাপাইকাপ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় এসে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ঢাকা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ২০০৮ সালে স্নাতক এবং ২০০৯ সালে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

পরিবারেও দ্বিগুণ আনন্দ

মো. ফরিদুল ইসলামের এই জাতীয় স্বীকৃতির পাশাপাশি তার পরিবারেও এসেছে আরেকটি সুখবর। তার সহধর্মিণী মোসা. কামরুননাহার (মুক্তা) চলতি বছর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ‘শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (মহিলা)’ নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে চৌদ্দগ্রামের পদুয়া (দক্ষিণ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে এ দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে আদিল ফারহান বিন ফরিদ দ্বিতীয় শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে ফাবিহা আকসা বিনতে ফরিদ প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

জাতীয় পর্যায়ের এ সম্মাননা অর্জনের পর মো. ফরিদুল ইসলাম মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন এবং এ স্বীকৃতির জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি দেশ ও জাতির সেবায় ভবিষ্যতেও সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সবার দোয়া কামনা করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কর্মচারীর সম্মাননা গ্রহণ করলেন পিটিআই ফেনীর মো. ফরিদুল ইসলাম

আপডেট সময় : ০৪:০৬:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

 

প্রাথমিক শিক্ষা পদক–২০২৬-এ জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কর্মচারী নির্বাচিত হয়েছেন প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই), ফেনীতে কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর মো. ফরিদুল ইসলাম। ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও প্রাথমিক শিক্ষা পদক জাতীয় পর্যায়ের বাছাই কমিটির সদস্য সচিব মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত ফলাফলে তাকে এ গৌরবময় স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

১৫ জুলাই ২০২৬ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিতদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রীর সবুজ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। একই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের প্রায় দুই লাখ চারা রোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

মো. ফরিদুল ইসলাম ২০১৩ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি “Administration for Service to People” নীতিকে ধারণ করে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সরকারি সেবা প্রদান করে আসছেন। তার দীর্ঘদিনের কর্মনিষ্ঠা ও সেবার স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি জাতীয় পর্যায়ের এই সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

মো. ফরিদুল ইসলাম ১৯৮৭ সালের ১ মার্চ চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর বাকিলা ইউনিয়নের লোধপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল ইসলাম, যিনি কাপাইকাপ মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহকারী। মাতা ফাতেমা বেগম একজন গৃহিণী। তিনি সাত ভাইয়ের মধ্যে একজন।

শিক্ষাজীবনে তিনি ২০০১ সালে দাখিল এবং ২০০৩ সালে আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন কাপাইকাপ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় এসে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ঢাকা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ২০০৮ সালে স্নাতক এবং ২০০৯ সালে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

পরিবারেও দ্বিগুণ আনন্দ

মো. ফরিদুল ইসলামের এই জাতীয় স্বীকৃতির পাশাপাশি তার পরিবারেও এসেছে আরেকটি সুখবর। তার সহধর্মিণী মোসা. কামরুননাহার (মুক্তা) চলতি বছর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ‘শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (মহিলা)’ নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে চৌদ্দগ্রামের পদুয়া (দক্ষিণ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে এ দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে আদিল ফারহান বিন ফরিদ দ্বিতীয় শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে ফাবিহা আকসা বিনতে ফরিদ প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

জাতীয় পর্যায়ের এ সম্মাননা অর্জনের পর মো. ফরিদুল ইসলাম মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন এবং এ স্বীকৃতির জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি দেশ ও জাতির সেবায় ভবিষ্যতেও সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সবার দোয়া কামনা করেন।