গাজীপুরে অবস্থিত ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বলেছেন, পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমেই কেবল টেকসই ভবিষ্যৎ গঠন সম্ভব এবং এজন্য জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় পরিকল্পনায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের নেতৃত্ব দিতে হবে। রোববার ১২ই জুলাই দি ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ারস বাংলাদেশ (আইইবি)’র সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের উদ্যোগে এবং ডুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কোলাবোরেশনে আয়োজিত ষষ্ঠ বার্ষিক অ্যানুয়াল পেপার মিট (APMCE-2026)-এর সমাপনী অনুষ্ঠান এবং “ইঞ্জিনিয়ারিং এ সাসটেইনেবল ফিউচার : দি রোল অফ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারস ইন এচিভিং দ্য ইউনাইটেড ন্যাশনস সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস” শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে উপাচার্য বলেন, “ব-দ্বীপভূমি হিসেবে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান একদিকে যেমন চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে তেমনি বড় সম্ভাবনাও সৃষ্টি করেছে। ভারত, চীন ও মিয়ানমার থেকে নেমে আসা নদীগুলো বর্ষাকালে বিপুল পরিমাণ পলি ও আকস্মিক ঢল নিয়ে আসে। উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশে এসব প্রাকৃতিক প্রবাহ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করার প্রযুক্তি না থাকলেও, দেশের নরম মাটির নদীতীর অতিরিক্ত পানি শোষণ করার স্বাভাবিক সক্ষমতা রাখে।” উদাহরণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের পাথুরে বাঁধের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে পানি শোষিত না হয়ে প্রবাহের গতি আরও বেড়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, “যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অব্যাহত রাখতে হবে। এসব প্রকল্প বন্ধ করা যাবে না। আমরা বছরের পর বছর খাল ভরাট হতে দেখেছি। পুকুর-জলাশয় ভরাট করে যেখানে-সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করছি—এটি পরিকল্পনার অভাবেরই প্রমাণ।”
অপরিকল্পিত নগরায়ণকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে নিয়ে এর ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, “১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে ধানমন্ডি ও গুলশানের মতো এলাকায় এক বিঘা জমিতে একটি পরিবার বসবাস করত এবং বাড়ির চারপাশে পর্যাপ্ত সবুজায়ন ছিল। অথচ বর্তমানে একই জায়গায় বহুতল ভবনে প্রায় ২০০ জন মানুষ বসবাস করছেন। এর ফলে পয়ঃনিষ্কাশন, ড্রেনেজ ও পানির সংকটসহ নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো শহরের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রয়োজন। শহরে কীভাবে পানি নিষ্কাশন হবে, কীভাবে অবকাঠামো গড়ে উঠবে- এসব আগেই পরিকল্পনা করতে হবে। দুর্যোগের পরে নয়, আগে থেকেই নিতে হবে মোকাবিলার প্রস্তুতি।
উপাচার্য বলেন, পরিবেশগত সংকট ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির উদাহরণ টেনে বলেন, পরবর্তীতে ধারাবাহিক পরিকল্পনার অভাবে অসংখ্য খাল ভরাট হয়ে প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে দীর্ঘ ১৮-২০ বছর বন্ধ থাকা খাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হওয়ার প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ ও কৃষি সেচে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
উপাচার্য আরও বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য এমন নকশা প্রয়োজন যা হবে ব্যবহারবান্ধব, অর্থনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত এবং জলবায়ু সহনশীল। তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের তাত্ত্বিক নয়, বঅরং বাস্তবসম্মত সমাধানমুখী গবেষণা করার আহ্বান জানান। এজন্য আইইবি-ডুয়েট অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী ও সকল কার্যক্রমে সহযোগিতা থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মাননীয় উপাচার্য নিরাপদ, আধুনিক ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে সকল অংশীজনকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
আইইবির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের সচিব প্রকৌশলী মো. নেসার উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন আইইবির অনারারি জেনারেল সেক্রেটারি প্রফেসর ড. মো. সাব্বির মোস্তফা খান, এলজিইডির এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার ও আইইবির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম (খোকা), আইইবির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের ভাইস-চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. আইনুল কবির, ডুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহা. আবু তৈয়ব। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. এস এম আতিকুল ইসলাম।
উপাচার্য অনুষ্ঠানে ডুয়েট থেকে আগত সকল সম্মানিত অতিথি, শিক্ষক, গবেষক, প্রকৌশলী, সহকর্মী এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণকারী সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং সফল অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আইইবির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন ও ডুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
###
টেকসই ভবিষ্যৎ গঠন ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় পরিকল্পনায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের নেতৃত্ব দিতে হবে
-
স্টাফ রিপোর্টার - আপডেট সময় : ০৮:০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
- 19
টেকসই ভবিষ্যৎ গঠন ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় পরিকল্পনায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের নেতৃত্ব দিতে হবে
জনপ্রিয় সংবাদ



















