দেশে মাদক কেনাব এবং চোরাচালানের অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এটি কোনো গুজব বা ফেক নিউজ নয়, বরং বাংলাদেশে আইনগতভাবে কার্যকর একটি সিদ্ধান্ত [১]। ২০১৮ সালে প্রথম নির্দিষ্ট পরিমাণ মাদক চোরাচালানের জন্য এই শাস্তি নির্ধারণ করা হয় [১]। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে অনলাইন বা ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক অপরাধের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
আইনের পটভূমি ও সর্বশেষ সংশোধনী
২০১৮ সালের মূল আইন: ২০১৮ সালের ২৭ অক্টোবর ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’ পাস হয় [১]। এই আইন অনুযায়ী, ২০০ গ্রামের বেশি ইয়াবা অথবা ২৫ গ্রামের বেশি হেরোইন বা কোকেন উৎপাদন, পরিবহন বা চোরাচালানের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নির্ধারণ করা হয় ”
[১]。 ২০২৬ সালের ডিজিটাল সংশোধনী: ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে সংশোধিত বিল পাস করে ডিজিটাল মাধ্যমকে এই আইনের আওতায় আনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়
সংশোধিত আইনের মূল দিকসমূহ
ডিজিটাল অপরাধের আওতা: ফেসবুক, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ বা অন্য কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা, বিজ্ঞাপন, সরবরাহ বা লেনদেন করলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে।
সরাসরি মাদক উদ্ধারের বাধ্যবাধকতা শিথিল: অনলাইন অপরাধের ক্ষেত্রে আসামির কাছ থেকে সরাসরি মাদক উদ্ধার না হলেও চলবে। ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ, চ্যাট হিস্ট্রি বা আর্থিক লেনদেনের তথ্যের ভিত্তিতেই অপরাধ প্রমাণিত হলে এই শাস্তি কার্যকর করা যাবে।
* ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ই-ওয়ালেট: মাদক কেনাবেচায় বিটকয়েনসহ যেকোনো ক্রিপ্টোকারেন্সি কিংবা মোবাইল ব্যাংকিং/ই-ওয়ালেট ব্যবহার করলেও তা এই আইনের অধীনে কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
প্রতিবেদন তৈরিতে: হারুন রশিদ শেখ দৈনিক বাংলার সংবাদ
(জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সংশোধিত বিল ও সরকারি গেজেট সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে)
হারুন রশীদ শেখ স্টাফ রিপোর্টার দৈনিক বাংলার সংবাদ 



















