ঢাকা ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপির কণ্ঠস্বর নকল করে পুলিশ সুপারকে বদলির প্রলোভন: খুলনায় দুইজনের লিখিত স্বীকারোক্তি, আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে কেএমপি

জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল এমপির কণ্ঠস্বর (ভয়েস ক্লোন) নকল এবং বিদেশি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ২৫তম বিসিএসের একজন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে পছন্দের জেলায় পদায়ন ও বদলির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার চেষ্টার অভিযোগে খুলনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম বাবু এবং তার সহযোগী মো. হাবিবুর রহমান।

ঘটনার বিবরণী ও অভিযুক্তদের দেওয়া লিখিত মুচলেকা সূত্রে জানা যায়, খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন বানরগাতী (মেটোপোল) এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম বাবু (৩৮) এবং খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার লালুয়া এলাকার মৃত মোসলেম সানার ছেলে মো. হাবিবুর রহমান (৩২) পরস্পর যোগসাজশে এই প্রতারণার পরিকল্পনা করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে তারা ২৫তম বিসিএস ব্যাচের একজন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে টার্গেট করেন। পরে তাকে কাঙ্ক্ষিত জেলায় পদায়নের আশ্বাস দিয়ে প্রতারণার চেষ্টা চালান। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে তারা জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল এমপির কণ্ঠস্বর নকল করে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং ওই কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি লিখিত মুচলেকার মাধ্যমে নিজেদের কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। মুচলেকায় তারা উল্লেখ করেন যে, আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে হুইপের কণ্ঠস্বর নকল করে বিভিন্ন স্থানে কথা বলেছেন এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে জেলা পদায়নের প্রলোভন দেখিয়েছেন।

তবে মুচলেকায় তারা দাবি করেন, ওই পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো ধরনের অর্থ বা আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে সক্ষম হননি।

লিখিত মুচলেকায় নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী ও অপরাধমূলক জালিয়াতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলেও অঙ্গীকার করেন তারা। মুচলেকা প্রদানের সময় সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুল মতিন চৌধুরী ও স্থানীয় বাসিন্দা সুমন।

উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার নাম ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার এবং প্রতারণার চেষ্টার এই অভিযোগ খুলনার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এ বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মাদ জাহিদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপির কণ্ঠস্বর নকল করে পুলিশ সুপারকে বদলির প্রলোভন: খুলনায় দুইজনের লিখিত স্বীকারোক্তি, আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে কেএমপি

আপডেট সময় : ০৬:৫১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল এমপির কণ্ঠস্বর (ভয়েস ক্লোন) নকল এবং বিদেশি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ২৫তম বিসিএসের একজন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে পছন্দের জেলায় পদায়ন ও বদলির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার চেষ্টার অভিযোগে খুলনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম বাবু এবং তার সহযোগী মো. হাবিবুর রহমান।

ঘটনার বিবরণী ও অভিযুক্তদের দেওয়া লিখিত মুচলেকা সূত্রে জানা যায়, খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন বানরগাতী (মেটোপোল) এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম বাবু (৩৮) এবং খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার লালুয়া এলাকার মৃত মোসলেম সানার ছেলে মো. হাবিবুর রহমান (৩২) পরস্পর যোগসাজশে এই প্রতারণার পরিকল্পনা করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে তারা ২৫তম বিসিএস ব্যাচের একজন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে টার্গেট করেন। পরে তাকে কাঙ্ক্ষিত জেলায় পদায়নের আশ্বাস দিয়ে প্রতারণার চেষ্টা চালান। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে তারা জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল এমপির কণ্ঠস্বর নকল করে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং ওই কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি লিখিত মুচলেকার মাধ্যমে নিজেদের কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। মুচলেকায় তারা উল্লেখ করেন যে, আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে হুইপের কণ্ঠস্বর নকল করে বিভিন্ন স্থানে কথা বলেছেন এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে জেলা পদায়নের প্রলোভন দেখিয়েছেন।

তবে মুচলেকায় তারা দাবি করেন, ওই পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো ধরনের অর্থ বা আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে সক্ষম হননি।

লিখিত মুচলেকায় নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী ও অপরাধমূলক জালিয়াতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলেও অঙ্গীকার করেন তারা। মুচলেকা প্রদানের সময় সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুল মতিন চৌধুরী ও স্থানীয় বাসিন্দা সুমন।

উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার নাম ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার এবং প্রতারণার চেষ্টার এই অভিযোগ খুলনার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এ বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মাদ জাহিদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।