ঢাকা ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টুপামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্ব, জিডির পর শিক্ষা অফিসে অভিযোগ

নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) গঠনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষকের মধ্যে বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীলফামারী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক।
প্রধান শিক্ষক ফারহানা সুলতানা তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২৯ জুন বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় সহকারী শিক্ষক সায়ফুল ইসলাম (মানিক) তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন, মারধরের উদ্দেশ্যে তেড়ে আসেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। পরে উপস্থিত শিক্ষকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় তিনি নীলফামারী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক সায়ফুল ইসলাম (মানিক) বলেন,
“ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেই প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এলাকার অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিদ্যালয়ের স্টাফদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই বিদ্যুৎসাহী সদস্য হিসেবে সুজন ঋষির নাম উপজেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়। আমি বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বলি, এলাকাবাসী এটি মেনে নেবে না। তখন প্রধান শিক্ষক জানান, কাকে মনোনয়ন দেবেন সেটি তার এখতিয়ার। এরপর উভয়ের মধ্যে উচ্চস্বরে কথা হয়। পরে সহকর্মীরা আমাদের শান্ত করেন এবং আমাকে কক্ষ থেকে বাইরে নিয়ে যান।”
তিনি আরও দাবি করেন, “বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বরাদ্দের হিসাব, ওয়াশ ব্লকের অর্থ ব্যয়, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়েও অনিয়ম রয়েছে। এসব বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
এদিকে, বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারি শিক্ষক —শারমিন সুমি, উম্মে সালমা, সাবিনা আক্তার ও মাহবুবা আক্তার বলেন, প্রধান শিক্ষককে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা ঠিক হয়নি।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

টুপামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্ব, জিডির পর শিক্ষা অফিসে অভিযোগ

আপডেট সময় : ০২:৪৫:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) গঠনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষকের মধ্যে বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীলফামারী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক।
প্রধান শিক্ষক ফারহানা সুলতানা তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২৯ জুন বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় সহকারী শিক্ষক সায়ফুল ইসলাম (মানিক) তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন, মারধরের উদ্দেশ্যে তেড়ে আসেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। পরে উপস্থিত শিক্ষকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় তিনি নীলফামারী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক সায়ফুল ইসলাম (মানিক) বলেন,
“ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেই প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এলাকার অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিদ্যালয়ের স্টাফদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই বিদ্যুৎসাহী সদস্য হিসেবে সুজন ঋষির নাম উপজেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়। আমি বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বলি, এলাকাবাসী এটি মেনে নেবে না। তখন প্রধান শিক্ষক জানান, কাকে মনোনয়ন দেবেন সেটি তার এখতিয়ার। এরপর উভয়ের মধ্যে উচ্চস্বরে কথা হয়। পরে সহকর্মীরা আমাদের শান্ত করেন এবং আমাকে কক্ষ থেকে বাইরে নিয়ে যান।”
তিনি আরও দাবি করেন, “বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বরাদ্দের হিসাব, ওয়াশ ব্লকের অর্থ ব্যয়, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়েও অনিয়ম রয়েছে। এসব বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
এদিকে, বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারি শিক্ষক —শারমিন সুমি, উম্মে সালমা, সাবিনা আক্তার ও মাহবুবা আক্তার বলেন, প্রধান শিক্ষককে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা ঠিক হয়নি।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।