“আমি জায়গা পেলেই গাছ লাগাই, কারণ আমি তো পৃথিবীর জন্য গাছ লাগাই, নিজের জন্য নয়।”—এমন মানবিক ও পরিবেশবান্ধব বার্তা দিয়ে সবাইকে বেশি বেশি বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানিয়েছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম-সেবা।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে জেলা প্রশাসন ও সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের আয়োজনে মাসব্যাপী ‘খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি। জেলা প্রশাসক মিজ্ হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কেএমপি কমিশনার তার বৃক্ষপ্রেম এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যক্তিগত উদ্যোগের নানা দিক তুলে ধরেন।
শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাবার হাত ধরে বাগান করার অভ্যাস গড়ে ওঠে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে রূপগঞ্জে তার নিজস্ব একটি বাগান রয়েছে। গাজীপুরে কর্মরত অবস্থায় তিনি সহস্রাধিক গাছ রোপণ করেছেন। আর খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে যোগদানের পর গত সাত মাসে পুলিশ লাইন্স, বিভিন্ন থানা ও নিজ বাসভবনসহ নানা স্থানে সাড়ে ৫০০টিরও বেশি গাছ লাগিয়েছেন।
তিনি জানান, একটি বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় প্রায় সাড়ে ১২ হাজার বৃক্ষের চারা সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে এসব চারা কেএমপির আটটি থানায় বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আটটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করা হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব তুলে ধরে কেএমপি কমিশনার বলেন, নির্বিচারে বন উজাড়, পাহাড় কাটা এবং গাছ ধ্বংসের কারণে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এর ফল হিসেবে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি ও তীব্র তাপপ্রবাহের মতো দুর্যোগ বাড়ছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও এর ভয়াবহ প্রভাব থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।
নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। নিজের জায়গা না থাকলেও যেখানে সুযোগ পাওয়া যায়, সেখানে একটি গাছ রোপণ করলে সেটিই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বন সংরক্ষক (খুলনা অঞ্চল) ইমরান আহমেদসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের মানুষ।
শেখ সৈকত রায়হান ইমন প্রতিনিধি | ১১ জুলাই, ২০২৬ 



















