কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে নদী ও অতিবৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় ভয়াবহ কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি নামার কোনো পথ না থাকায় বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ শত শত মানুষ চরম অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।
সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ এবং জোয়ারের কারণে নদী ও খালের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলেও এলাকায় পানি চলাচলের প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা পথগুলো অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় এই বিপুল পরিমাণ পানি আর নামতে পারছে না। ফলে নদী ও বৃষ্টির মিশ্রিত পানি জমে গিয়ে তৈরি হয়েছে স্থায়ী কৃত্রিম বন্যা পরিস্থিতি।
এলাকার এই তীব্র জলাবদ্ধতার পেছনে স্থানীয়দের একটি বড় অভিযোগ সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এলাকায় সিআইসি (ক্যাম্প ইন-চার্জ) অফিসের ভবনটি সঠিকভাবে বা পরিকল্পিতভাবে নির্মাণ না হওয়া এবং পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা না রাখায় বিশাল এলাকার পানি পুরোপুরি আটকে গেছে। এই ভবন নির্মাণের পর থেকে পানি চলাচলের পথটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে শত শত সাধারণ পরিবারকে। রান্নাবান্নার চুলা ডুবে যাওয়ায় এলাকায় তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
জনগণের এই চরম দুর্ভোগের কথা জানতে পেরে দ্রুত পাশে দাঁড়িয়েছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনিক চৌধুরী। তিনি পানিবন্দী মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, জনগণের কষ্ট লাঘবে প্রশাসন অত্যন্ত আন্তরিক। অতি দ্রুত এই কৃত্রিম জলাবদ্ধতা নিরসন করে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে মানুষ দ্রুত তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারে।
এদিকে বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন সিকদার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধানের ঘোষণা দিয়ে বলেন
“এখানে পূর্বে পানি চলাচলের জন্য যে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা ‘ছড়া’ বা রাস্তা ছিল, আমরা ঠিক সেই আগের ছড়ার মতোই পানি নিষ্কাশনের রাস্তা পুনরায় সচল করে দেব। কোনো বাধা বা প্রতিবন্ধকতা রেখে মানুষকে কষ্টে রাখা যাবে না। খুব শীঘ্রই পানি নামানোর ব্যবস্থা করা হবে।”
উদ্ধার ও স্থায়ী সমাধানের এই জোড়া আশ্বাসে বুক বাঁধছেন দুর্গত এলাকার মানুষ। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী আশা করছেন, ইউএনও মহোদয় ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগে সিআইসি অফিসের কারণে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর হবে এবং পূর্বের ছড়াটি সচল হয়ে তারা এই স্থায়ী অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবেন।
টেকনাফ প্রতিনিধি মিসবাহ উল্লাহ প্রতিবেদনে বিস্তারিত দেখুন 



















