প্রথম অনুসন্ধান পর্ব,,,,,
বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ, টেন্ডার বাণিজ্যসহ সরকারি জমি দখল করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) সাবেক বিতর্কিত পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
ডাঃ এইচ. এম. সাইফুল ইসলাম ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সকাল ১১:০০ টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের পরিচালক পদে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।প্রায় সাড়ে তিন বছর তিনি কর্মরত ছিলেন এই সময়ে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি ঘরে তুলেছেন শত কোটি টাকার সাম্রাজ্য বরিশাল শহরের সিএনবি ১ নং পুল সংলগ্ন এলাকায় মেইন রোডের পাশে ১০ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত পাঁচ তলা বিলাসবহুল ভবন যার নাম “লীনা কুঞ্জ” এবং এই ভবনের ১ম ও ২য় তলায় “নিরূপণ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার” নামে বানিজ্য প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে চলছে।
ঠিক পাশেই ডা. সাইফুলের মালিকানাধীন আরও একটি ১০ শতাংশের বিশাল খালি প্লটের রয়েছে।একই সাথে এই ২০ শতাংশ জমির বর্তমান স্থানীয় বাজার ও রিয়েল এস্টেটের মূল্য হিসাব করলে আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা টাকা, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তার ৩০ শতাংশ ও ২০ শতাংশের বেশ কয়েকটি প্লট রয়েছে যার বাজার মূল্য প্রায় শত কোটি টাকা, ব্যক্তিগত ব্যবহৃত দুটি গাড়ি রয়েছে যার বাজার মূল্য কোটি টাকা এছাড়াও নামে বেনামে তার অনেক সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।
সরকারি হাসপাতালের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে এবং নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তিনি গড়ে তুলেছেন শত কোটি টাকার এক বিশাল অবৈধ সম্পদের সাম্রাজ্য।তার সমস্ত সম্পদ সম্পত্তি হিসাব করলে যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২ শত কোটি টাকা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডা. সাইফুল ইসলাম যখন শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন, তখন তিনি নিজেই নেপথ্যে থেকে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনা করতেন বরিশাল শহরের সিএনবি ১ নং পুল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত তাঁর নিজস্ব ‘নিরূপণ হসপিটাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার’।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় গর্ভবতী মহিলাদের টার্গেট করে তিনি হাসপাতালজুড়ে একটি শক্তিশালী দালাল ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে তুলেছিলেন। শেবাচিমে পর্যাপ্ত সরকারি সুবিধা থাকা সত্ত্বেও, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বা ভুল বুঝিয়ে ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রসূতি মায়েদের ফুসলিয়ে বা বাধ্য করে নিয়ে যাওয়া হতো ডা. সাইফুলের ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান ‘নিরূপণ হসপিটাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ’-এ। সেখানে চড়া মূল্যে তাদের সিজারিয়ান বা অন্যান্য অপারেশন সম্পন্ন করে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো।
সরকারি হাসপাতালের প্রধান হয়েও নিজের ব্যক্তিগত ক্লিনিকের ব্যবসার স্বার্থে অসহায় গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলার এই ঘটনা স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তুলেছে।
একজন সরকারি চিকিৎসকের বৈধ আয়ের সাথে এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির হিসাব কোনোভাবেই মেলাতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।
টেন্ডার সিন্ডিকেট ও আর্থিক লুটপাট প্রসূতি মায়েদের জিম্মি করার পাশাপাশি শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক থাকাকালীন চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ কেনাকাটার টেন্ডার এককভাবে নিয়ন্ত্রণ,হাসপাতালের গাছ কেটে বিক্রি এবং ব্লাড ব্যাংক ও প্যাথলজি বিভাগ থেকে নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দৈনিক বড় অঙ্কের টাকা তোলার টার্গেট নির্ধারণ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ডা. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং লাগামহীন দুর্নীতির অভিযোগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইং তারিখে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
এরপরই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলামকে বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি – Officer on Special Duty) হিসেবে সংযুক্ত রাখা হয়েছে।
তার এই অবৈধ সম্পদ এবং দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয় বরাবর অভিযোগ যা করার প্রস্তুতি চলছে।
এই বিষয়ে ডক্টর সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তাকে বারবার ফোন করা হলেও তুমি ফোন রিসিভ করেননি।
দ্বিতীয় পর্ব দেখে চোখ রাখুন পত্রিকার পাতায়।
মেহেদী হাসান,ক্রাইম রিপোর্টারঃ 



















