ঢাকা ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্যার দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর; উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ গুরুত্বের নির্দেশ

প্রবল বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যখন হাজারো পরিবার চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি, তখন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দিনভর তিনি বন্যাকবলিত বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সর্বশেষ পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। কোথাও যেন উদ্ধার তৎপরতা, চিকিৎসাসেবা কিংবা ত্রাণ কার্যক্রমে কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে—সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট নির্দেশনা দেন।
এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী, সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও সমন্বিত, দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে নির্দেশ দেন, বন্যাকবলিত এলাকার নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন তিনি।
একই সঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে কোনো অসাধু চক্র যেন চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিতে না পারে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দিতে হবে। কোনো পরিবার যেন মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার কার্যক্রম এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সার্বিক সহায়তায় সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নেওয়া এসব উদ্যোগ বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন সবার প্রত্যাশা—সরকার, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক কর্মী এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন দুর্গত এলাকার লাখো মানুষ।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

বন্যার দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর; উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ গুরুত্বের নির্দেশ

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

প্রবল বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যখন হাজারো পরিবার চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি, তখন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দিনভর তিনি বন্যাকবলিত বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সর্বশেষ পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। কোথাও যেন উদ্ধার তৎপরতা, চিকিৎসাসেবা কিংবা ত্রাণ কার্যক্রমে কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে—সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট নির্দেশনা দেন।
এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী, সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও সমন্বিত, দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে নির্দেশ দেন, বন্যাকবলিত এলাকার নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন তিনি।
একই সঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে কোনো অসাধু চক্র যেন চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিতে না পারে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দিতে হবে। কোনো পরিবার যেন মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার কার্যক্রম এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সার্বিক সহায়তায় সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নেওয়া এসব উদ্যোগ বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন সবার প্রত্যাশা—সরকার, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক কর্মী এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন দুর্গত এলাকার লাখো মানুষ।