যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ১১ নম্বর বাঁকড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দিগদানা এলাকার মানুষের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত সড়কের একটি অংশ ধসে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। সড়কের মাঝখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, মোটরসাইকেল আরোহী, ভ্যানচালক ও অটোরিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশের অংশে ইঁদুরের গর্তে পানি জমে থাকায় নিচের মাটি ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। একপর্যায়ে ভেতরের অংশ ফাঁপা হয়ে সড়কের মাঝামাঝি একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। বর্তমানে দুর্ঘটনা এড়াতে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে লাল পতাকা টাঙিয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও এখনো স্থায়ী সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দিগদানা এলাকার হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই সড়ক। এ পথ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও স্থানীয় মন্দিরে যাতায়াতের জন্য এই সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু সড়ক ধসে যাওয়ায় বর্তমানে তাদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, এখন একটি মোটরসাইকেলও নিরাপদে ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি অতিক্রম করতে পারছে না। ইতোমধ্যে সেখানে বেশ কয়েকটি ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে বিষয়টি ১১ নম্বর বাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমানকে অবহিত করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অপরদিকে, ১১ নম্বর বাঁকড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জামির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বার্থে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ধস আরও বিস্তৃত হয়ে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পাবে এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
আবু রাসেল স্টাফ রিপোর্টার দৈনিক বাংলার সংবাদ, যশোর প্রতিনিধি 



















