ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নানান চড়াই উৎরাই পেড়িয়ে অবশেষে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার গেজেট প্রকাশ, চার ইউনিয়নে অসন্তোষ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলাকে ২ ভাগে বিভক্ত করে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে ৮ জুলাই বুধবার ।

৭ জুলাই মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিকার-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১২১তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠন করা হয়েছে। নতুন উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়নগুলো হলো বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়ন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, নতুন উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অফিস সেট-আপ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, উপজেলা ভূমি অফিস, থানা (পুলিশ স্টেশন), উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস, উপজেলা শিক্ষা অফিস এবং উপজেলা প্রকৌশল অফিসসহ প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে ভূজপুরকে নতুন উপজেলা সদর স্থাপনের সিদ্ধান্তে ভূজপুর ও হারুয়ালছড়ি ২ টি ইউনিয়ন ছাড়া অন্য ৪ টি ইউনিয়নে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গণশুনানী ছাড়া ওই ইউনিয়নগুলোতে নতুন উপজেলা সদর যৌক্তিক ও ন্যায্য স্থান নারায়নহাটে করার দাবীতে এবং সুয়াবিল ইউনিয়নকে বাদ দেওয়ার দাবীতে আন্দোলন কর্মসূচী, মানববন্ধন অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গণশুনানি ও জনমতের পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন ছাড়াই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এ দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন আন্দোলনকারীরা।

তবে সুয়াবিলের বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, “গেজেট প্রকাশিত হওয়ায় নিরুৎসাহিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। গেজেট কোনো অপরিবর্তনীয় বিষয় নয়। এটি মূলত নিকার (জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি ফর প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত) সভার সিদ্ধান্তের একটি ডকুমেন্টেশন পর্যায় মাত্র। জনগণের যৌক্তিক দাবি, গণমত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এরকম হাজারো গেজেট অতীতেও সংশোধন বা পরিবর্তন হয়েছে। তাই হতাশ না হয়ে শান্তিপূর্ণ, আইনসম্মত ও গণতান্ত্রিক উপায়ে আমাদের ন্যায্য দাবির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। গণমানুষের এই আন্দোলন যৌক্তিক পরিণতিতে পৌঁছানো পর্যন্ত আমরা গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখব।”

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

নানান চড়াই উৎরাই পেড়িয়ে অবশেষে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার গেজেট প্রকাশ, চার ইউনিয়নে অসন্তোষ

আপডেট সময় : ০৬:৪৮:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলাকে ২ ভাগে বিভক্ত করে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে ৮ জুলাই বুধবার ।

৭ জুলাই মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিকার-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১২১তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠন করা হয়েছে। নতুন উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়নগুলো হলো বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়ন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, নতুন উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অফিস সেট-আপ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, উপজেলা ভূমি অফিস, থানা (পুলিশ স্টেশন), উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস, উপজেলা শিক্ষা অফিস এবং উপজেলা প্রকৌশল অফিসসহ প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে ভূজপুরকে নতুন উপজেলা সদর স্থাপনের সিদ্ধান্তে ভূজপুর ও হারুয়ালছড়ি ২ টি ইউনিয়ন ছাড়া অন্য ৪ টি ইউনিয়নে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গণশুনানী ছাড়া ওই ইউনিয়নগুলোতে নতুন উপজেলা সদর যৌক্তিক ও ন্যায্য স্থান নারায়নহাটে করার দাবীতে এবং সুয়াবিল ইউনিয়নকে বাদ দেওয়ার দাবীতে আন্দোলন কর্মসূচী, মানববন্ধন অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গণশুনানি ও জনমতের পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন ছাড়াই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এ দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন আন্দোলনকারীরা।

তবে সুয়াবিলের বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, “গেজেট প্রকাশিত হওয়ায় নিরুৎসাহিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। গেজেট কোনো অপরিবর্তনীয় বিষয় নয়। এটি মূলত নিকার (জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি ফর প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত) সভার সিদ্ধান্তের একটি ডকুমেন্টেশন পর্যায় মাত্র। জনগণের যৌক্তিক দাবি, গণমত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এরকম হাজারো গেজেট অতীতেও সংশোধন বা পরিবর্তন হয়েছে। তাই হতাশ না হয়ে শান্তিপূর্ণ, আইনসম্মত ও গণতান্ত্রিক উপায়ে আমাদের ন্যায্য দাবির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। গণমানুষের এই আন্দোলন যৌক্তিক পরিণতিতে পৌঁছানো পর্যন্ত আমরা গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখব।”