ঢাকা ০৭:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেট দুনিয়ায় আলোড়ন বর্ষার অপরূপ সৌন্দর্যে রাজনগর–বালাগঞ্জ সড়কে অবস্থিত ভুরভুড়ি জোড়া ব্রিজ এলাকা



‎মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার রাজনগর–বালাগঞ্জ সড়কের ভুরভুড়ি জোড়া ব্রিজ এলাকা বর্ষার অপরূপ সৌন্দর্যে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। চারদিকে বিস্তীর্ণ জলরাশি, সবুজে ঘেরা প্রকৃতি, সারিবদ্ধ গাছপালা, আঁকাবাঁকা সড়ক এবং খোলা আকাশের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মিলিয়ে স্থানটি যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক জীবন্ত ছবি।

‎ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ এলাকার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই প্রতিদিন বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়। সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল হলেই ব্রিজ এলাকায় পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব, ভ্রমণপিপাসু ও প্রকৃতিপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মৌলভীবাজার ছাড়াও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা এবং দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসছেন প্রকৃতির নির্মল সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কেউ স্মরণীয় মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করছেন, আবার কেউ শান্ত পরিবেশে হাঁটাহাঁটি করে কাটাচ্ছেন অবসর সময়।

‎স্থানীয়দের মতে, বর্ষাকালে রাজনগর ও আশপাশের এলাকায় এমন দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থান খুবই কম। ফলে শিশুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস, তরুণ-তরুণীদের আড্ডা, বয়স্কদের হাঁটাচলা এবং পরিবার নিয়ে অবসর সময় কাটানোর অন্যতম জনপ্রিয় স্থানে পরিণত হয়েছে ভুরভুড়ি জোড়া ব্রিজ এলাকা। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে প্রতিদিনই এখানে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ।

‎তবে দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সামনে এসেছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাও। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবাসী মো. সুজন মিয়া এবং জয়নুল আবেদিন জানান, সন্ধ্যা নামলেই পুরো ব্রিজ এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এছাড়া বর্ষাকালে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো শেড নেই। দর্শনার্থীদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থারও ঘাটতি রয়েছে।

‎পর্যটক ও স্থানীয়দের দাবি, ব্রিজ এলাকায় সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন, আধুনিক আশ্রয়শেড নির্মাণ, বসার বেঞ্চ স্থাপন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং নিয়মিত নিরাপত্তা তদারকির ব্যবস্থা করা হলে স্থানটি আরও আকর্ষণীয় ও নিরাপদ হয়ে উঠবে।

‎এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, ভুরভুড়ি জোড়া ব্রিজ এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে পরিকল্পিত উন্নয়ন করা হলে এটি রাজনগর উপজেলার অন্যতম জনপ্রিয় প্রাকৃতিক পর্যটন হিসেবে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে আরও পরিচিতি লাভ করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

নেট দুনিয়ায় আলোড়ন বর্ষার অপরূপ সৌন্দর্যে রাজনগর–বালাগঞ্জ সড়কে অবস্থিত ভুরভুড়ি জোড়া ব্রিজ এলাকা

আপডেট সময় : ০৩:৩৭:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬



‎মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার রাজনগর–বালাগঞ্জ সড়কের ভুরভুড়ি জোড়া ব্রিজ এলাকা বর্ষার অপরূপ সৌন্দর্যে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। চারদিকে বিস্তীর্ণ জলরাশি, সবুজে ঘেরা প্রকৃতি, সারিবদ্ধ গাছপালা, আঁকাবাঁকা সড়ক এবং খোলা আকাশের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মিলিয়ে স্থানটি যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক জীবন্ত ছবি।

‎ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ এলাকার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই প্রতিদিন বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়। সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল হলেই ব্রিজ এলাকায় পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব, ভ্রমণপিপাসু ও প্রকৃতিপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মৌলভীবাজার ছাড়াও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা এবং দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসছেন প্রকৃতির নির্মল সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কেউ স্মরণীয় মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করছেন, আবার কেউ শান্ত পরিবেশে হাঁটাহাঁটি করে কাটাচ্ছেন অবসর সময়।

‎স্থানীয়দের মতে, বর্ষাকালে রাজনগর ও আশপাশের এলাকায় এমন দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থান খুবই কম। ফলে শিশুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস, তরুণ-তরুণীদের আড্ডা, বয়স্কদের হাঁটাচলা এবং পরিবার নিয়ে অবসর সময় কাটানোর অন্যতম জনপ্রিয় স্থানে পরিণত হয়েছে ভুরভুড়ি জোড়া ব্রিজ এলাকা। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে প্রতিদিনই এখানে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ।

‎তবে দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সামনে এসেছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাও। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবাসী মো. সুজন মিয়া এবং জয়নুল আবেদিন জানান, সন্ধ্যা নামলেই পুরো ব্রিজ এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এছাড়া বর্ষাকালে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো শেড নেই। দর্শনার্থীদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থারও ঘাটতি রয়েছে।

‎পর্যটক ও স্থানীয়দের দাবি, ব্রিজ এলাকায় সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন, আধুনিক আশ্রয়শেড নির্মাণ, বসার বেঞ্চ স্থাপন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং নিয়মিত নিরাপত্তা তদারকির ব্যবস্থা করা হলে স্থানটি আরও আকর্ষণীয় ও নিরাপদ হয়ে উঠবে।

‎এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, ভুরভুড়ি জোড়া ব্রিজ এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে পরিকল্পিত উন্নয়ন করা হলে এটি রাজনগর উপজেলার অন্যতম জনপ্রিয় প্রাকৃতিক পর্যটন হিসেবে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে আরও পরিচিতি লাভ করবে।