ঢাকা ১১:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সব প্রতিকূলতা জয় করে কক্সেসবাজার কর অঞ্চলে মেধা তালিকায় দ্বিতীয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম উল্লাহ

 

পারিবারিক ইতিহাসে তৈরি হলো এক নতুন মহাকাব্য। সকল বাধা-বিপত্তি আর জীবনের কঠিন সংগ্রামকে পেছনে ফেলে পুরো গোষ্ঠীর মধ্যে প্রথমবারের মতো সরকারি চাকরিতে যোগদান করতে যাচ্ছেন পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ ও স্নেহের সন্তান সেলিম উল্লাহ।
​সম্প্রতি প্রকাশিত কক্সবাজার কর অঞ্চলের নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে ১২২ জন উত্তীর্ণ প্রার্থীর মধ্যে মেধা তালিকায় ২য় স্থান অধিকার করেছেন তিনি। তার এই অভাবনীয় সাফল্যে তিনি কর কর্পোরেশন, কক্সবাজার-এর “প্রধান সহকারী” পদে নিয়োগ পেয়েছেন।
​সেলিম উল্লাহর এই সাফল্যের পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। পৃথিবীতে আসার মাত্র ৬ মাস বয়সে তিনি তার মাথার ওপর থেকে ছায়ার মতো থাকা ‘বটবৃক্ষ’ বাবাকে হারান। একজন পিতৃহীন সন্তানের জন্য জীবনের নানামুখী প্রতিকূলতা পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মতো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। তবে বাবার অভাব তাকে বুঝতে দেননি তার পিতৃতুল্য বড় ভাইয়েরা। বিশেষ করে মেজ ভাইয়ের নিজের অবস্থান থেকে দেওয়া সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও ত্যাগের কারণে সেলিমকে ছাত্রজীবনে কখনোই টিউশনি বা অন্য কোনো আর্থিক সংকটে পড়তে হয়নি। পরিবারের অকুন্ঠ সমর্থন আর সেলিমের নিজের একাগ্রতাই আজ তাকে এই গৌরবময় অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
​ছোট ভাইয়ের এই অনন্য সাফল্যে আবেগাপ্লুত বড় ভাই তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন—
​”তুর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও অধ্যাবসায় তোকে আগামীতে আরও অনেক দূর নিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে দেশের স্বার্থে সর্বদা সততা, নীতি ও নৈতিকতার সাথে সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়ে যাবি—এটাই আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা।”
​সেলিম উল্লাহর এই কৃতিত্বে পুরো পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। সততা ও মেধার জোরে শূন্য থেকে কীভাবে শীর্ষে পৌঁছানো যায়, সেলিম উল্লাহ আজ তরুণ প্রজন্মের কাছে তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

সব প্রতিকূলতা জয় করে কক্সেসবাজার কর অঞ্চলে মেধা তালিকায় দ্বিতীয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম উল্লাহ

আপডেট সময় : ১২:২০:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

 

পারিবারিক ইতিহাসে তৈরি হলো এক নতুন মহাকাব্য। সকল বাধা-বিপত্তি আর জীবনের কঠিন সংগ্রামকে পেছনে ফেলে পুরো গোষ্ঠীর মধ্যে প্রথমবারের মতো সরকারি চাকরিতে যোগদান করতে যাচ্ছেন পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ ও স্নেহের সন্তান সেলিম উল্লাহ।
​সম্প্রতি প্রকাশিত কক্সবাজার কর অঞ্চলের নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে ১২২ জন উত্তীর্ণ প্রার্থীর মধ্যে মেধা তালিকায় ২য় স্থান অধিকার করেছেন তিনি। তার এই অভাবনীয় সাফল্যে তিনি কর কর্পোরেশন, কক্সবাজার-এর “প্রধান সহকারী” পদে নিয়োগ পেয়েছেন।
​সেলিম উল্লাহর এই সাফল্যের পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। পৃথিবীতে আসার মাত্র ৬ মাস বয়সে তিনি তার মাথার ওপর থেকে ছায়ার মতো থাকা ‘বটবৃক্ষ’ বাবাকে হারান। একজন পিতৃহীন সন্তানের জন্য জীবনের নানামুখী প্রতিকূলতা পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মতো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। তবে বাবার অভাব তাকে বুঝতে দেননি তার পিতৃতুল্য বড় ভাইয়েরা। বিশেষ করে মেজ ভাইয়ের নিজের অবস্থান থেকে দেওয়া সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও ত্যাগের কারণে সেলিমকে ছাত্রজীবনে কখনোই টিউশনি বা অন্য কোনো আর্থিক সংকটে পড়তে হয়নি। পরিবারের অকুন্ঠ সমর্থন আর সেলিমের নিজের একাগ্রতাই আজ তাকে এই গৌরবময় অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
​ছোট ভাইয়ের এই অনন্য সাফল্যে আবেগাপ্লুত বড় ভাই তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন—
​”তুর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও অধ্যাবসায় তোকে আগামীতে আরও অনেক দূর নিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে দেশের স্বার্থে সর্বদা সততা, নীতি ও নৈতিকতার সাথে সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়ে যাবি—এটাই আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা।”
​সেলিম উল্লাহর এই কৃতিত্বে পুরো পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। সততা ও মেধার জোরে শূন্য থেকে কীভাবে শীর্ষে পৌঁছানো যায়, সেলিম উল্লাহ আজ তরুণ প্রজন্মের কাছে তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।