ঢাকা ০৭:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেকনাফে পাহাড় যেন আতঙ্কের ডেরা: ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণে ফিরলেন কামাল মাস্টার

​কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে অপহরণের এক দীর্ঘ সপ্তাহ পর অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরেছেন ৭০ বছর বয়সী সাবেক শিক্ষক ও সুপরিচিত পল্লী (হোমিওপ্যাথি) চিকিৎসক কামাল উদ্দিন (কামাল মাস্টার)। তবে এই ফেরা স্বাভাবিক কোনো উদ্ধার প্রক্রিয়ায় নয়, বরং অপহরণকারীদের চড়া দাবি মেনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ পরিশোধের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে।
​দুপুরের আলোয় অপহরণ, অতর্কিত হামলা
​পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুন দুপুরে বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীর জুমপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকেই কামাল উদ্দিনকে তুলে নেওয়া হয়। ৬ জনের একটি সশস্ত্র পাহাড়ি সন্ত্রাসী দল অতর্কিতে হানা দিয়ে তাকে জোরপূর্বক পাহাড়ের গহীন অরণ্যে নিয়ে যায়। এর পরপরই অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে বসে।
​সাত দিন ধরে চলে রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা ও দেনদরবার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা সত্ত্বেও কোনো কূলকিনারা না পেয়ে, শেষ পর্যন্ত প্রিয়জনকে অক্ষত ফিরে পেতে অপহরণকারীদের দাবি করা ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হয় পরিবারটি। মুক্তিপণ পাওয়ার পর কামাল উদ্দিনকে ছেড়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।
​কে এই কামাল মাস্টার?
​কামাল উদ্দিন এলাকায় একজন অত্যন্ত সম্মানিত ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। তিনি একজন বিএ পাস শিক্ষিত মানুষ, যিনি দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করার পাশাপাশি এলাকায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সেবা দিয়ে আসছেন। সৎ, ভদ্র ও পরোপকারী হিসেবে পরিচিত এই প্রবীণ মানুষের পরিবারে স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছেন। এমন একজন গুণী মানুষকে অপহরণের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে পুরো এলাকায়।
​প্রশাসনের ভূমিকা ও স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভ
​অপহরণের পরপরই বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও পুলিশ এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি। এই ব্যর্থতা ও একের পর এক অপহরণের ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে এখন তীব্র আতঙ্ক আর নিরাপত্তাহীনতা জেঁকে বসেছে।
​স্থানীয়দের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া:
“টেকনাফের পাহাড়গুলো এখন অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানা হয়ে উঠেছে। এভাবে চলতে থাকলে টেকনাফ একদিন মানুষশূন্য ও অভিভাবকহীন হয়ে পড়বে। বাংলাদেশ প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও স্থায়ী ব্যবস্থা এখানে কখন আসবে, তা আমাদের জানা নেই।”
​বর্তমানে পুরো বাহারছড়া এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি—অনতিবিলম্বে এই সন্ত্রাসী ও অপহরণকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং পাহাড়ি এলাকায় স্থায়ী সেনা বা পুলিশি ক্যাম্প স্থাপন করে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
​সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে এবং পাহাড়ি অপরাধ চক্রকে দমনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিরুনি অভিযান ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

টেকনাফে পাহাড় যেন আতঙ্কের ডেরা: ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণে ফিরলেন কামাল মাস্টার

আপডেট সময় : ০৬:১৫:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

​কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে অপহরণের এক দীর্ঘ সপ্তাহ পর অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরেছেন ৭০ বছর বয়সী সাবেক শিক্ষক ও সুপরিচিত পল্লী (হোমিওপ্যাথি) চিকিৎসক কামাল উদ্দিন (কামাল মাস্টার)। তবে এই ফেরা স্বাভাবিক কোনো উদ্ধার প্রক্রিয়ায় নয়, বরং অপহরণকারীদের চড়া দাবি মেনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ পরিশোধের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে।
​দুপুরের আলোয় অপহরণ, অতর্কিত হামলা
​পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুন দুপুরে বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীর জুমপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকেই কামাল উদ্দিনকে তুলে নেওয়া হয়। ৬ জনের একটি সশস্ত্র পাহাড়ি সন্ত্রাসী দল অতর্কিতে হানা দিয়ে তাকে জোরপূর্বক পাহাড়ের গহীন অরণ্যে নিয়ে যায়। এর পরপরই অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে বসে।
​সাত দিন ধরে চলে রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা ও দেনদরবার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা সত্ত্বেও কোনো কূলকিনারা না পেয়ে, শেষ পর্যন্ত প্রিয়জনকে অক্ষত ফিরে পেতে অপহরণকারীদের দাবি করা ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হয় পরিবারটি। মুক্তিপণ পাওয়ার পর কামাল উদ্দিনকে ছেড়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।
​কে এই কামাল মাস্টার?
​কামাল উদ্দিন এলাকায় একজন অত্যন্ত সম্মানিত ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। তিনি একজন বিএ পাস শিক্ষিত মানুষ, যিনি দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করার পাশাপাশি এলাকায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সেবা দিয়ে আসছেন। সৎ, ভদ্র ও পরোপকারী হিসেবে পরিচিত এই প্রবীণ মানুষের পরিবারে স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছেন। এমন একজন গুণী মানুষকে অপহরণের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে পুরো এলাকায়।
​প্রশাসনের ভূমিকা ও স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভ
​অপহরণের পরপরই বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও পুলিশ এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি। এই ব্যর্থতা ও একের পর এক অপহরণের ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে এখন তীব্র আতঙ্ক আর নিরাপত্তাহীনতা জেঁকে বসেছে।
​স্থানীয়দের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া:
“টেকনাফের পাহাড়গুলো এখন অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানা হয়ে উঠেছে। এভাবে চলতে থাকলে টেকনাফ একদিন মানুষশূন্য ও অভিভাবকহীন হয়ে পড়বে। বাংলাদেশ প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও স্থায়ী ব্যবস্থা এখানে কখন আসবে, তা আমাদের জানা নেই।”
​বর্তমানে পুরো বাহারছড়া এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি—অনতিবিলম্বে এই সন্ত্রাসী ও অপহরণকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং পাহাড়ি এলাকায় স্থায়ী সেনা বা পুলিশি ক্যাম্প স্থাপন করে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
​সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে এবং পাহাড়ি অপরাধ চক্রকে দমনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিরুনি অভিযান ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।