ঢাকা ০৭:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না—পাঁচ দফা দাবিতে মৌলভীবাজারে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল

জুলাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না—পাঁচ দফা দাবিতে মৌলভীবাজারে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে মৌলভীবাজারে বর্ণাঢ্য গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে শহরে সৃষ্টি হয় প্রাণচাঞ্চল্য।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল ৫টায় শহরের দেওয়ানী মসজিদের সম্মুখ থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি শহরের সেন্ট্রাল রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিকান্দার আলী রোডের হামিদিয়া পয়েন্টে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় পুরো মিছিলজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন এবং স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন শহরের প্রধান সড়কগুলো।
মিছিলে “আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ”, “দালালি না, রাজপথ—রাজপথ”, “দিল্লি না, ঢাকা—ঢাকা”, “জনগণের অধিকার, আদায় করে নেব”, “জুলাই গণহত্যার বিচার চাই”সহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায় নেতাকর্মীদের।
মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মৌলভীবাজার জেলা শাখার সেক্রেটারি মো. ইয়ামির আলী। বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মৌলভীবাজার জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া, জেলা সদস্য সচিব মো. রুহুল আমিন, জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মো. আলাউদ্দিন শাহ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মৌলভীবাজার জেলা শাখার অফিস সম্পাদক মাওলানা আব্দুল ওয়াজিদ, মৌলভীবাজার পৌর জামায়াতের আমির হাফেজ মাওলানা তাজুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সভাপতির বক্তব্যে মো. ইয়ামির আলী বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের মানুষ একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করেছিল। জনগণ বিশ্বাস করেছিল চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, দখলদারিত্ব এবং ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির অবসান ঘটবে। কিন্তু বাস্তবে জনগণের সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। নতুন বাংলাদেশের যে স্বপ্ন মানুষ দেখেছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সংকট নিরসন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে রাজপথে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে।”
অন্য বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট ও জনভোগান্তিতে মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। জনগণের স্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক অধিকার, সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশের শেষদিকে প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে কর্মসূচি সফল করায় অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানান সভাপতি মো. ইয়ামির আলী। পরে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

জুলাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না—পাঁচ দফা দাবিতে মৌলভীবাজারে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল

আপডেট সময় : ০৯:২০:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে মৌলভীবাজারে বর্ণাঢ্য গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে শহরে সৃষ্টি হয় প্রাণচাঞ্চল্য।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল ৫টায় শহরের দেওয়ানী মসজিদের সম্মুখ থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি শহরের সেন্ট্রাল রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিকান্দার আলী রোডের হামিদিয়া পয়েন্টে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় পুরো মিছিলজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন এবং স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন শহরের প্রধান সড়কগুলো।
মিছিলে “আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ”, “দালালি না, রাজপথ—রাজপথ”, “দিল্লি না, ঢাকা—ঢাকা”, “জনগণের অধিকার, আদায় করে নেব”, “জুলাই গণহত্যার বিচার চাই”সহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায় নেতাকর্মীদের।
মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মৌলভীবাজার জেলা শাখার সেক্রেটারি মো. ইয়ামির আলী। বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মৌলভীবাজার জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া, জেলা সদস্য সচিব মো. রুহুল আমিন, জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মো. আলাউদ্দিন শাহ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মৌলভীবাজার জেলা শাখার অফিস সম্পাদক মাওলানা আব্দুল ওয়াজিদ, মৌলভীবাজার পৌর জামায়াতের আমির হাফেজ মাওলানা তাজুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সভাপতির বক্তব্যে মো. ইয়ামির আলী বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের মানুষ একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করেছিল। জনগণ বিশ্বাস করেছিল চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, দখলদারিত্ব এবং ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির অবসান ঘটবে। কিন্তু বাস্তবে জনগণের সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। নতুন বাংলাদেশের যে স্বপ্ন মানুষ দেখেছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সংকট নিরসন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে রাজপথে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে।”
অন্য বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট ও জনভোগান্তিতে মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। জনগণের স্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক অধিকার, সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশের শেষদিকে প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে কর্মসূচি সফল করায় অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানান সভাপতি মো. ইয়ামির আলী। পরে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।