ঢাকা ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ তরুণীবাড়ী যমুনেশ্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়াল ঘেঁষে দোকানপাট, শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

নীলফামারীর দক্ষিণ তরুণীবাড়ী যমুনেশ্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ স্থাপনা ও অতিরিক্ত শব্দদূষণের কারণে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল ঘেঁষে গড়ে ওঠা দোকান, বাস কাউন্টার ও অটো কাউন্টার থেকে সারাদিন উচ্চস্বরে গান-বাজনা, এবং যানবাহনের হর্নের শব্দে শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
বিদ্যালয়টি মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় এমনিতেই যানবাহনের শব্দে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ব্যাহত হয়। এর সঙ্গে বিদ্যালয়ের সীমানা ঘেঁষে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ স্থাপনায় উচ্চ শব্দে গান-বাজনা চলায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এতে শিক্ষকরা স্বাভাবিকভাবে পাঠদান করতে পারছেন না এবং শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হরিপদো রায় বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সহকারী শিক্ষিকা জানান, অতিরিক্ত শব্দের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, ক্লাস চলাকালে বাইরে থেকে ভেসে আসা উচ্চ শব্দ ও গান-বাজনার কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। একই অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরাও। তাদের মতে, বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়ালসংলগ্ন অবৈধ দোকান, বাস কাউন্টার ও অটো কাউন্টার অপসারণ করা হলে শব্দদূষণ অনেকাংশে কমবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর ও নিরিবিলি শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: জছিজুল আলম (মন্ডল)সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুদের স্বার্থে দ্রুত অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও মনোযোগী শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

দক্ষিণ তরুণীবাড়ী যমুনেশ্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়াল ঘেঁষে দোকানপাট, শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

আপডেট সময় : ১০:৪২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

নীলফামারীর দক্ষিণ তরুণীবাড়ী যমুনেশ্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ স্থাপনা ও অতিরিক্ত শব্দদূষণের কারণে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল ঘেঁষে গড়ে ওঠা দোকান, বাস কাউন্টার ও অটো কাউন্টার থেকে সারাদিন উচ্চস্বরে গান-বাজনা, এবং যানবাহনের হর্নের শব্দে শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
বিদ্যালয়টি মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় এমনিতেই যানবাহনের শব্দে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ব্যাহত হয়। এর সঙ্গে বিদ্যালয়ের সীমানা ঘেঁষে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ স্থাপনায় উচ্চ শব্দে গান-বাজনা চলায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এতে শিক্ষকরা স্বাভাবিকভাবে পাঠদান করতে পারছেন না এবং শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হরিপদো রায় বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সহকারী শিক্ষিকা জানান, অতিরিক্ত শব্দের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, ক্লাস চলাকালে বাইরে থেকে ভেসে আসা উচ্চ শব্দ ও গান-বাজনার কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। একই অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরাও। তাদের মতে, বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়ালসংলগ্ন অবৈধ দোকান, বাস কাউন্টার ও অটো কাউন্টার অপসারণ করা হলে শব্দদূষণ অনেকাংশে কমবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর ও নিরিবিলি শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: জছিজুল আলম (মন্ডল)সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুদের স্বার্থে দ্রুত অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও মনোযোগী শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।