ঢাকা ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা পলাতক

 

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নে মাহমুদা আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত মাহমুদা উপজেলার টেংরার ভিটা গ্রামের ময়নাল হোসেনের স্ত্রী। তার দুইটি শিশু সন্তান রয়েছে, যার মধ্যে একটির বয়স মাত্র ছয় মাস।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে রান্নার সময় চুলায় বেশি জ্বালানি ব্যবহার করাকে কেন্দ্র করে মাহমুদার সঙ্গে তার শাশুড়ির বাকবিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে দিনভর পারিবারিক কলহ চলতে থাকে। মাহমুদার বাবার বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় তার মা আতরভান বেগম দুই শিশুকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।

সন্ধ্যার দিকে ছয় মাস বয়সী শিশুটি কান্নাকাটি করলে তাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে আনতে এসে পরিবারের সদস্যরা মাহমুদাকে ঘরের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ নামিয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে বিকেলে বাবার বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়।

ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী, শাশুড়িসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

নিহতের চাচাতো ভাই আতাউর রহমান অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় যৌতুকের কিছু টাকা বাকি ছিল। সেই টাকা নিয়ে মাহমুদাকে প্রায়ই নির্যাতন করা হতো। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে ঘটনাটি উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তবে স্বামী ময়নাল হোসেন, তার মা ও বড় ভাইসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ সাইদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্বশুরবাড়ির কাউকে পাওয়া যায়নি। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। যদি এটি হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, বুধবার রাতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

কুড়িগ্রামে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা পলাতক

আপডেট সময় : ০২:১৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

 

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নে মাহমুদা আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত মাহমুদা উপজেলার টেংরার ভিটা গ্রামের ময়নাল হোসেনের স্ত্রী। তার দুইটি শিশু সন্তান রয়েছে, যার মধ্যে একটির বয়স মাত্র ছয় মাস।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে রান্নার সময় চুলায় বেশি জ্বালানি ব্যবহার করাকে কেন্দ্র করে মাহমুদার সঙ্গে তার শাশুড়ির বাকবিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে দিনভর পারিবারিক কলহ চলতে থাকে। মাহমুদার বাবার বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় তার মা আতরভান বেগম দুই শিশুকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।

সন্ধ্যার দিকে ছয় মাস বয়সী শিশুটি কান্নাকাটি করলে তাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে আনতে এসে পরিবারের সদস্যরা মাহমুদাকে ঘরের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ নামিয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে বিকেলে বাবার বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়।

ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী, শাশুড়িসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

নিহতের চাচাতো ভাই আতাউর রহমান অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় যৌতুকের কিছু টাকা বাকি ছিল। সেই টাকা নিয়ে মাহমুদাকে প্রায়ই নির্যাতন করা হতো। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে ঘটনাটি উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তবে স্বামী ময়নাল হোসেন, তার মা ও বড় ভাইসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ সাইদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্বশুরবাড়ির কাউকে পাওয়া যায়নি। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। যদি এটি হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, বুধবার রাতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।