ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামের ভোগডাঙ্গায় আবারও ভয়াবহ ধরলা নদীর ভাঙন; হুমকিতে শতাধিক পরিবার ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

কুড়িগ্রাম জেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চরবড়াই বাড়ি এলাকায় আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ধরলা নদীর ভাঙন। প্রতিদিনই নদীর তীব্র স্রোতে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি এবং মানুষের বহু বছরের গড়ে তোলা স্বপ্ন। আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের শত শত মানুষ|

এলাকাবাসীর অভিযোগ, চরবড়াই বাড়ি এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধে কাজের জন্য বাজেট বরাদ্দ থাকলেও অজ্ঞাত কারণে সেই কাজ চরবড়াই বাড়িতে বাস্তবায়ন না করে মধ্যকুমোরপুর ও পাটেশ্বরী এলাকায় করা হয়। এর ফলে ধরলা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে আবার চরবড়াই বাড়ির দিকে ফিরে এসেছে এবং নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে একের পর এক বাড়িঘর ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ইতোমধ্যে আব্দুল আউয়াল চৌকিদার, শমসের আলী, মেহের আলী, সিরাজ (পাগলা), গাজিউর রহমান, কলিমুদ্দি ও হাফিজুর রহমানসহ বহু পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে। এছাড়া চলতি বছর প্রায় ১০০ বিঘারও বেশি আবাদি জমি ধরলা নদীতে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ফলে অনেক পরিবার তাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে|

নদীভাঙনের তীব্রতা এখন চরবড়াই বাড়ি সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বিদ্যালয়টিও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লী চিকিৎসক মো. আমির হোসাইন (আমু) বলেন, “আজ চরবড়াই বাড়ির মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। প্রতিদিন নদী আমাদের স্বপ্ন, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি গ্রাস করছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আমাদের আকুল আবেদন—অন্তত জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করুন। পরে স্থায়ীভাবে ব্লক বা পাইলিং নির্মাণ করা হোক। মানুষের শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করুন।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. নবির হোসেন (ডিপজল) বলেন, “প্রতিদিন ঘুম ভাঙে নদীর গর্জন শুনে, আর রাতে ঘুমাতে হয় বাড়ি থাকবে কি না সেই দুশ্চিন্তা নিয়ে। আমরা কোনো বিলাসিতা চাই না, শুধু আমাদের বসতভিটা বাঁচানোর ব্যবস্থা চাই। সরকার ও পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিক।”

আব্দুল আউয়াল চৌকিদারসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন জানান, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ, বালুভর্তি বস্তা অথবা কংক্রিট ব্লক ফেলে নদীভাঙন প্রতিরোধ করা হলে শত শত পরিবার নিরাপদে বসবাস করতে পারবে এবং ঝুঁকিতে থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও রক্ষা পাবে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের একটাই দাবি—সময় থাকতে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে মানুষের শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষা করা হোক।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

কুড়িগ্রামের ভোগডাঙ্গায় আবারও ভয়াবহ ধরলা নদীর ভাঙন; হুমকিতে শতাধিক পরিবার ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

আপডেট সময় : ০৮:৪৫:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

কুড়িগ্রাম জেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চরবড়াই বাড়ি এলাকায় আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ধরলা নদীর ভাঙন। প্রতিদিনই নদীর তীব্র স্রোতে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি এবং মানুষের বহু বছরের গড়ে তোলা স্বপ্ন। আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের শত শত মানুষ|

এলাকাবাসীর অভিযোগ, চরবড়াই বাড়ি এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধে কাজের জন্য বাজেট বরাদ্দ থাকলেও অজ্ঞাত কারণে সেই কাজ চরবড়াই বাড়িতে বাস্তবায়ন না করে মধ্যকুমোরপুর ও পাটেশ্বরী এলাকায় করা হয়। এর ফলে ধরলা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে আবার চরবড়াই বাড়ির দিকে ফিরে এসেছে এবং নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে একের পর এক বাড়িঘর ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ইতোমধ্যে আব্দুল আউয়াল চৌকিদার, শমসের আলী, মেহের আলী, সিরাজ (পাগলা), গাজিউর রহমান, কলিমুদ্দি ও হাফিজুর রহমানসহ বহু পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে। এছাড়া চলতি বছর প্রায় ১০০ বিঘারও বেশি আবাদি জমি ধরলা নদীতে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ফলে অনেক পরিবার তাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে|

নদীভাঙনের তীব্রতা এখন চরবড়াই বাড়ি সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বিদ্যালয়টিও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লী চিকিৎসক মো. আমির হোসাইন (আমু) বলেন, “আজ চরবড়াই বাড়ির মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। প্রতিদিন নদী আমাদের স্বপ্ন, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি গ্রাস করছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আমাদের আকুল আবেদন—অন্তত জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করুন। পরে স্থায়ীভাবে ব্লক বা পাইলিং নির্মাণ করা হোক। মানুষের শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করুন।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. নবির হোসেন (ডিপজল) বলেন, “প্রতিদিন ঘুম ভাঙে নদীর গর্জন শুনে, আর রাতে ঘুমাতে হয় বাড়ি থাকবে কি না সেই দুশ্চিন্তা নিয়ে। আমরা কোনো বিলাসিতা চাই না, শুধু আমাদের বসতভিটা বাঁচানোর ব্যবস্থা চাই। সরকার ও পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিক।”

আব্দুল আউয়াল চৌকিদারসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন জানান, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ, বালুভর্তি বস্তা অথবা কংক্রিট ব্লক ফেলে নদীভাঙন প্রতিরোধ করা হলে শত শত পরিবার নিরাপদে বসবাস করতে পারবে এবং ঝুঁকিতে থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও রক্ষা পাবে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের একটাই দাবি—সময় থাকতে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে মানুষের শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষা করা হোক।