ঢাকা ০৭:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

 হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং 

 হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং 

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কার কাজের মান নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের সামগ্রী ও কম পরিমাণে বিটুমিন ব্যবহারের কারণে কাজ শেষ হওয়ার পরদিনই হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং। এ নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন নোয়াখালী প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন রনি।

ভয়েস ওভার: স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের ইটের খোয়া, পাথর এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম বিটুমিন ব্যবহার করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের সংস্কার কাজের দায়িত্ব পেয়েছেন ঠিকাদার মো.চাষী। কাজটির তদারকির দায়িত্বে রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির কবিরহাট উপজেলা কার্যালয়। স্থানীয়দের দাবি, নির্ধারিত কাজের মান ও সিডিউল অনুসরণ না করে সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার কাজের প্রায় ৯৮ শতাংশ শেষ হওয়ার পরদিন শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা হাত দিয়ে টান দিলে রাস্তার কার্পেটিং উঠে আসে। নলুয়া গ্রামের ননা মিয়ার দোকানের সামনে রাস্তার কার্পেটিং ওঠানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার ও নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মাহফুজুল হোসাইন ও কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো.ইসলাম হোসেনের যোগসাজশে নিম্নমানের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এলজিইডি কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের জন্য সরকারের বদনাম হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদার মো. চাষীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সট: মো.ইসলাম হোসেন, কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলী।

তিনি বলেন, স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি কয়েকবার কাজ পরিদর্শনে যান। যে অভিযোগ উঠেছে এটা কোন অভিযোগের আওতায় পড়েনা। কিছু উৎসুক জনতা কার্পেটিং তুলে ফেলেছে। কোন কিছু জানার থাকলে তথ্য আইনে আবেদন করুন। তখন আমি তথ্য দেব।

সট: শেখ মাহফুজুল হোসাইন, নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মাহফুজুল হোসাইন বলেন, এখানে কোনো সিন্ডিকেটের বিষয় নেই। কোথাও কাজের গাফিলতি হয়ে থাকলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

পে অফ- স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলেও অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলী। বরং তিনি বলেন, কাজের সিডিউল ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পেতে হলে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি অর্থে নির্মিত সড়ক সংস্কার কাজের গুণগত মান ও তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সড়ক নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

 হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং 

আপডেট সময় : ০১:০৭:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কার কাজের মান নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের সামগ্রী ও কম পরিমাণে বিটুমিন ব্যবহারের কারণে কাজ শেষ হওয়ার পরদিনই হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং। এ নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন নোয়াখালী প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন রনি।

ভয়েস ওভার: স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের ইটের খোয়া, পাথর এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম বিটুমিন ব্যবহার করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের সংস্কার কাজের দায়িত্ব পেয়েছেন ঠিকাদার মো.চাষী। কাজটির তদারকির দায়িত্বে রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির কবিরহাট উপজেলা কার্যালয়। স্থানীয়দের দাবি, নির্ধারিত কাজের মান ও সিডিউল অনুসরণ না করে সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার কাজের প্রায় ৯৮ শতাংশ শেষ হওয়ার পরদিন শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা হাত দিয়ে টান দিলে রাস্তার কার্পেটিং উঠে আসে। নলুয়া গ্রামের ননা মিয়ার দোকানের সামনে রাস্তার কার্পেটিং ওঠানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার ও নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মাহফুজুল হোসাইন ও কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো.ইসলাম হোসেনের যোগসাজশে নিম্নমানের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এলজিইডি কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের জন্য সরকারের বদনাম হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদার মো. চাষীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সট: মো.ইসলাম হোসেন, কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলী।

তিনি বলেন, স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি কয়েকবার কাজ পরিদর্শনে যান। যে অভিযোগ উঠেছে এটা কোন অভিযোগের আওতায় পড়েনা। কিছু উৎসুক জনতা কার্পেটিং তুলে ফেলেছে। কোন কিছু জানার থাকলে তথ্য আইনে আবেদন করুন। তখন আমি তথ্য দেব।

সট: শেখ মাহফুজুল হোসাইন, নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মাহফুজুল হোসাইন বলেন, এখানে কোনো সিন্ডিকেটের বিষয় নেই। কোথাও কাজের গাফিলতি হয়ে থাকলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

পে অফ- স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলেও অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলী। বরং তিনি বলেন, কাজের সিডিউল ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পেতে হলে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি অর্থে নির্মিত সড়ক সংস্কার কাজের গুণগত মান ও তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সড়ক নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।