ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়: চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল, ফলাফল প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা

 

ঋণখেলাপির অভিযোগে অবশেষে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সর্বোচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে উক্ত আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি রইল।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত আপিল বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন। এর আগে গত ১৫ জুন উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিনটি (৩০ জুন) ধার্য করা হয়েছিল।

আদালতে আসলাম চৌধুরীর পক্ষে আইনি লড়াই চালান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী। তাঁদের সহযোগিতা করেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মো. ফারুক। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং ব্যাংক এশিয়া পিএলসির পক্ষে লড়েন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল উল আলম।

উল্লেখ্য, মামলার জটিলতা নিরসনে গত ২০ জুন আপিল বিভাগ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগীকে ‘অ্যামিকাস কিউরি’ (আদালত-বন্ধু) হিসেবে নিয়োগ দিয়ে তাঁদের মতামত গ্রহণ করেন। এর আগে গত ৯ জুন ব্যাংক এশিয়ার করা আপিলের ওপর ভিত্তি করে এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

 

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেছিলেন। তবে তিনি ঋণখেলাপি—এমন দাবি তুলে জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী এবং ব্যাংক এশিয়া কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করে। পরবর্তীতে ১৮ জানুয়ারি ইসি সেই আপিল খারিজ করে দিলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে।

কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট করা হলেও গত ২৭ জানুয়ারি তা খারিজ হয়ে যায়। ফলে আইনি বাধা কেটে যাওয়ায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আসলাম চৌধুরী এবং বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেন। তবে উচ্চ আদালতের পূর্ব নির্দেশনার কারণে তাঁর বিজয়ের আনুষ্ঠানিক ফলাফল এত দিন স্থগিত রাখা হয়েছিল, যা আজকের রায়ের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে বাতিল হলো।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়: চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল, ফলাফল প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা

আপডেট সময় : ০৬:২৩:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

 

ঋণখেলাপির অভিযোগে অবশেষে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সর্বোচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে উক্ত আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি রইল।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত আপিল বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন। এর আগে গত ১৫ জুন উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিনটি (৩০ জুন) ধার্য করা হয়েছিল।

আদালতে আসলাম চৌধুরীর পক্ষে আইনি লড়াই চালান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী। তাঁদের সহযোগিতা করেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মো. ফারুক। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং ব্যাংক এশিয়া পিএলসির পক্ষে লড়েন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল উল আলম।

উল্লেখ্য, মামলার জটিলতা নিরসনে গত ২০ জুন আপিল বিভাগ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগীকে ‘অ্যামিকাস কিউরি’ (আদালত-বন্ধু) হিসেবে নিয়োগ দিয়ে তাঁদের মতামত গ্রহণ করেন। এর আগে গত ৯ জুন ব্যাংক এশিয়ার করা আপিলের ওপর ভিত্তি করে এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

 

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেছিলেন। তবে তিনি ঋণখেলাপি—এমন দাবি তুলে জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী এবং ব্যাংক এশিয়া কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করে। পরবর্তীতে ১৮ জানুয়ারি ইসি সেই আপিল খারিজ করে দিলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে।

কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট করা হলেও গত ২৭ জানুয়ারি তা খারিজ হয়ে যায়। ফলে আইনি বাধা কেটে যাওয়ায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আসলাম চৌধুরী এবং বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেন। তবে উচ্চ আদালতের পূর্ব নির্দেশনার কারণে তাঁর বিজয়ের আনুষ্ঠানিক ফলাফল এত দিন স্থগিত রাখা হয়েছিল, যা আজকের রায়ের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে বাতিল হলো।