ঢাকা ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশের দ্রুত অভিযানে ০৩ অপহরণকারী গ্রেফতার, অপহৃত যুবক উদ্ধার

 

মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ, তথ্য উপাত্তের নিখুঁত বিশ্লেষণ ও গুলশান থানার দায়িত্বপূর্ণ সহায়তায় সমন্বিত অভিযানে অপহৃত এক যুবককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার এবং অপহরণচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ২৭-০৬-২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকালে এক ভদ্রমহিলা মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় উপস্থিত হয়ে জানান, তার ছেলে ইনছান বেপারী (২২), পিতা- মোঃ আনোয়ার হোসেন বেপারী, মাতা- মোসাঃ ইয়াসমিন আক্তার, সাং- ঘাসিপুকুরপাড়, মহাকালী ইউপি, থানা ও জেলা- মুন্সীগঞ্জ, আগের দিন রাতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। পরবর্তীতে তার ছেলের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে ইমো কলের মাধ্যমে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা চার লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাৎক্ষণিকভাবে জিডি রেকর্ড করেন এবং তদন্তের দায়িত্ব একজন সাব-ইন্সপেক্টরের ওপর অর্পণ করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেলকে অবহিত করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ভুক্তভোগীর মায়ের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশ তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণপূর্বক দ্রুত প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে। পরবর্তীতে আরও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও কৌশলগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য গুলশান থানাকে প্রয়োজনীয় রিকুইজিশন ও তথ্য সরবরাহ করা হয়।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার সরবরাহকৃত তথ্যের ভিত্তিতে গুলশান থানা পুলিশ সমন্বয়পূর্বক দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে। ২৮-০৬-২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ০০:৩০ ঘটিকায় ডিএমপি, গুলশান থানাধীন শাহজাদপুর ভোলা মসজিদের সামনে অবস্থিত কাজী ভিলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গুলশান থানা পুলিশের সহায়তায় অপহৃত যুবককে নিরাপদে উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত তিন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উদ্ধার হওয়ার পর ভুক্তভোগী জানান, তার সাবেক স্ত্রী সাফামনি (২২), পিতা- হাবিুবুর রহমান, মাতা-মোসাঃ হ্যাপী আক্তার, সাং-দক্ষিণ ইসলামপুর, থানা ও জেলা- মুন্সীগঞ্জ, কৌশলে তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাবেক স্ত্রী সাফা মনির কথিত বয়ফ্রেন্ড মো: নাইম সহ চার সহযোগীর সহায়তায় তাকে শাহজাদপুরের কাজী ভিলা এলাকায় একটি বাসায় জিম্মি করে মারধর করা হয় এবং তার পরিবারের কাছে চার লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চলাকালেই পুলিশের সফল অভিযানে তিনি উদ্ধার হন।

গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা হলোঃ-
১। মোঃ সোহেল (২৪), পিতা- মোঃ গিয়াস উদ্দিন, মাতা- মোসাঃ জরিনা খাতুন, সাং- চরবৈয়াগাছী, থানা- চরজব্বার, জেলা- নোয়াখালী, বর্তমানে- কাজী ভিলা, শাহজাদপুর, থানা- গুলশান, ঢাকা।

২। মোঃ বেলায়েত হোসেন (২৫), পিতা- সামছু উদ্দিন, মাতা- তৈয়মা খাতুন, সাং- কেরামতপুর, থানা- সুধারাম, জেলা- নোয়াখালী, বর্তমানে- কাজী ভিলা, শাহজাদপুর, থানা- গুলশান, ঢাকা।

৩। মোঃ রোমান ইসলাম (২৩), পিতা- মোঃ বিল্লাল, মাতা- মোসাঃ চায়না বেগম, সাং- পশ্চিমপাড়া, থানা- ধনবাড়ী, জেলা- টাঙ্গাইল, বর্তমানে- কাজী ভিলা, শাহজাদপুর, থানা- গুলশান, ঢাকা।

গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, পিপিএম বলেন,মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ যেকোনো অপরাধ দমনে সর্বদা তৎপর। অভিজ্ঞতা ও কৌশলের কার্যকর ব্যবহার, আন্তঃথানা সমন্বয় এবং দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

পুলিশের দ্রুত অভিযানে ০৩ অপহরণকারী গ্রেফতার, অপহৃত যুবক উদ্ধার

আপডেট সময় : ০১:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

 

মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ, তথ্য উপাত্তের নিখুঁত বিশ্লেষণ ও গুলশান থানার দায়িত্বপূর্ণ সহায়তায় সমন্বিত অভিযানে অপহৃত এক যুবককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার এবং অপহরণচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ২৭-০৬-২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকালে এক ভদ্রমহিলা মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় উপস্থিত হয়ে জানান, তার ছেলে ইনছান বেপারী (২২), পিতা- মোঃ আনোয়ার হোসেন বেপারী, মাতা- মোসাঃ ইয়াসমিন আক্তার, সাং- ঘাসিপুকুরপাড়, মহাকালী ইউপি, থানা ও জেলা- মুন্সীগঞ্জ, আগের দিন রাতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। পরবর্তীতে তার ছেলের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে ইমো কলের মাধ্যমে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা চার লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাৎক্ষণিকভাবে জিডি রেকর্ড করেন এবং তদন্তের দায়িত্ব একজন সাব-ইন্সপেক্টরের ওপর অর্পণ করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেলকে অবহিত করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ভুক্তভোগীর মায়ের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশ তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণপূর্বক দ্রুত প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে। পরবর্তীতে আরও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও কৌশলগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য গুলশান থানাকে প্রয়োজনীয় রিকুইজিশন ও তথ্য সরবরাহ করা হয়।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার সরবরাহকৃত তথ্যের ভিত্তিতে গুলশান থানা পুলিশ সমন্বয়পূর্বক দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে। ২৮-০৬-২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ০০:৩০ ঘটিকায় ডিএমপি, গুলশান থানাধীন শাহজাদপুর ভোলা মসজিদের সামনে অবস্থিত কাজী ভিলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গুলশান থানা পুলিশের সহায়তায় অপহৃত যুবককে নিরাপদে উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত তিন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উদ্ধার হওয়ার পর ভুক্তভোগী জানান, তার সাবেক স্ত্রী সাফামনি (২২), পিতা- হাবিুবুর রহমান, মাতা-মোসাঃ হ্যাপী আক্তার, সাং-দক্ষিণ ইসলামপুর, থানা ও জেলা- মুন্সীগঞ্জ, কৌশলে তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাবেক স্ত্রী সাফা মনির কথিত বয়ফ্রেন্ড মো: নাইম সহ চার সহযোগীর সহায়তায় তাকে শাহজাদপুরের কাজী ভিলা এলাকায় একটি বাসায় জিম্মি করে মারধর করা হয় এবং তার পরিবারের কাছে চার লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চলাকালেই পুলিশের সফল অভিযানে তিনি উদ্ধার হন।

গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা হলোঃ-
১। মোঃ সোহেল (২৪), পিতা- মোঃ গিয়াস উদ্দিন, মাতা- মোসাঃ জরিনা খাতুন, সাং- চরবৈয়াগাছী, থানা- চরজব্বার, জেলা- নোয়াখালী, বর্তমানে- কাজী ভিলা, শাহজাদপুর, থানা- গুলশান, ঢাকা।

২। মোঃ বেলায়েত হোসেন (২৫), পিতা- সামছু উদ্দিন, মাতা- তৈয়মা খাতুন, সাং- কেরামতপুর, থানা- সুধারাম, জেলা- নোয়াখালী, বর্তমানে- কাজী ভিলা, শাহজাদপুর, থানা- গুলশান, ঢাকা।

৩। মোঃ রোমান ইসলাম (২৩), পিতা- মোঃ বিল্লাল, মাতা- মোসাঃ চায়না বেগম, সাং- পশ্চিমপাড়া, থানা- ধনবাড়ী, জেলা- টাঙ্গাইল, বর্তমানে- কাজী ভিলা, শাহজাদপুর, থানা- গুলশান, ঢাকা।

গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, পিপিএম বলেন,মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ যেকোনো অপরাধ দমনে সর্বদা তৎপর। অভিজ্ঞতা ও কৌশলের কার্যকর ব্যবহার, আন্তঃথানা সমন্বয় এবং দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।