ঢাকা ০৭:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেড়ামারায় ইয়ামিনের শখ থেকে রঙিন মাছের খামার!

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পূর্ব মওলাহাবাসপুর গ্রামে শখ থেকে রঙিন মাছের খামার গড়ে তুলেছেন মুহাঃ ইয়ামিন ইসলাম।

২০২০ সালের প্রথম দিকে বাড়ির ছাদে কয়েকটি ড্রামে রঙিন মাছ চাষ শুরু করেন তিনি। সেখানে মাছগুলো বড় হতে থাকে। কয়েক মাস পর তা বিক্রিও করেন। শখের বশে মাছ পোষা ইয়ামিন বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তুলেছেন ‘রংধনু মাছের রাজ্য’ নামে রঙিন মাছের খামার। পড়াশুনা করার পাশাপাশি অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন বাহারি রঙের এই মাছের খামার। মাছের খামার দেখতে প্রতিদিন ভিড় করেন দর্শনার্থীরাও।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারীতে উপজেলার পূর্ব মওলাহাবাসপুর এলাকায় পৈতৃক ৪ কাঠা জমির ওপর ‘রংধনু মাছের রাজ্য’ নামে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এ খামারে উৎপাদিত রঙিন মাছ আশপাশের জেলাসহ অ্যাকুরিয়ামের দোকানগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। সরেজমিন দেখা যায়, রঙিন মাছ চাষের জন্য তৈরি করা সারি সারি চৌবাচ্চা। যেখানে রয়েছে বাহারি সব রঙিন মাছ। বিশেষ কৌশলে মাছের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। নিয়মিত খাবার দেওয়া হয়। মাছ বড় হচ্ছে, বাচ্চাও দিচ্ছে। রঙিন মাছকে হাত দিয়ে পানিতে খাবার দিলেই ঝাকে ঝাকে মাছ চলে আসে। দেখতেও অনেক ভাল লাগে।

চৌবাচ্চা, আনুসঙ্গিক জিনিসপত্র ও রঙিন মাছ কেনা বাবদ ৭০-৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এই মাসে ১৫-২০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করেছেন ইয়ামিন।

এসব রঙিন মাছের মধ্যে রয়েছে ১৬ প্রজাতির গাপ্পি, হোয়াইট মলি, গোল্ডেন মলি, ২০ প্রজাতির অটোবিটের মাছ, গোল্ডফিস, কইকার্প সহ বেশ কিছু প্রজাতি। রঙিন মাছের খাবার হিসেবে অ্যাকুরিয়াম ফিশ ফিড খাওয়াতে হয়।

তরুণ এ উদ্যোক্তা ইয়ামিন জানান, খুবই ছোট্ট পরিসরে তিনি এই রঙিন মাছ চাষ শুরু করেন।‌ আশেপাশের শিশু-কিশোর, তরুণ, যুবক ও মধ্যবয়সীসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও দেখতে আসেন এখানে। নিজের খামারে উৎপাদিত এসব মাছ তিনি বিক্রি করছেন। সরকারিভাবে সহযোগীতা পেলে তার খামার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান এই তরুণ উদ্যোক্তা।

ভেড়ামারা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাশেদ হাসান বলেন, ভেড়ামারায় প্রথমবারের মতো ছোট হাউসে শৌখিন মাছের খামার করেছেন ইয়ামিন। আমি ইতিমধ্যে তার খামার পরিদর্শন করেছি। বিদেশি বিভিন্ন জাতের রঙিন মাছ চাষ করে স্বল্প বয়সে একজন উদ্যোক্তায় রূপান্তরিত হয়েছেন ইয়ামিন। যেকোনো সহযোগিতায় সব সময় তার পাশে আছে ভেড়ামারা উপজেলা মৎস্য অফিস। ইয়ামিনের এই রঙিন মাছ চাষের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব বলে জানান এই মৎস্য কর্মকর্তা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

ভেড়ামারায় ইয়ামিনের শখ থেকে রঙিন মাছের খামার!

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পূর্ব মওলাহাবাসপুর গ্রামে শখ থেকে রঙিন মাছের খামার গড়ে তুলেছেন মুহাঃ ইয়ামিন ইসলাম।

২০২০ সালের প্রথম দিকে বাড়ির ছাদে কয়েকটি ড্রামে রঙিন মাছ চাষ শুরু করেন তিনি। সেখানে মাছগুলো বড় হতে থাকে। কয়েক মাস পর তা বিক্রিও করেন। শখের বশে মাছ পোষা ইয়ামিন বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তুলেছেন ‘রংধনু মাছের রাজ্য’ নামে রঙিন মাছের খামার। পড়াশুনা করার পাশাপাশি অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন বাহারি রঙের এই মাছের খামার। মাছের খামার দেখতে প্রতিদিন ভিড় করেন দর্শনার্থীরাও।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারীতে উপজেলার পূর্ব মওলাহাবাসপুর এলাকায় পৈতৃক ৪ কাঠা জমির ওপর ‘রংধনু মাছের রাজ্য’ নামে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এ খামারে উৎপাদিত রঙিন মাছ আশপাশের জেলাসহ অ্যাকুরিয়ামের দোকানগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। সরেজমিন দেখা যায়, রঙিন মাছ চাষের জন্য তৈরি করা সারি সারি চৌবাচ্চা। যেখানে রয়েছে বাহারি সব রঙিন মাছ। বিশেষ কৌশলে মাছের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। নিয়মিত খাবার দেওয়া হয়। মাছ বড় হচ্ছে, বাচ্চাও দিচ্ছে। রঙিন মাছকে হাত দিয়ে পানিতে খাবার দিলেই ঝাকে ঝাকে মাছ চলে আসে। দেখতেও অনেক ভাল লাগে।

চৌবাচ্চা, আনুসঙ্গিক জিনিসপত্র ও রঙিন মাছ কেনা বাবদ ৭০-৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এই মাসে ১৫-২০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করেছেন ইয়ামিন।

এসব রঙিন মাছের মধ্যে রয়েছে ১৬ প্রজাতির গাপ্পি, হোয়াইট মলি, গোল্ডেন মলি, ২০ প্রজাতির অটোবিটের মাছ, গোল্ডফিস, কইকার্প সহ বেশ কিছু প্রজাতি। রঙিন মাছের খাবার হিসেবে অ্যাকুরিয়াম ফিশ ফিড খাওয়াতে হয়।

তরুণ এ উদ্যোক্তা ইয়ামিন জানান, খুবই ছোট্ট পরিসরে তিনি এই রঙিন মাছ চাষ শুরু করেন।‌ আশেপাশের শিশু-কিশোর, তরুণ, যুবক ও মধ্যবয়সীসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও দেখতে আসেন এখানে। নিজের খামারে উৎপাদিত এসব মাছ তিনি বিক্রি করছেন। সরকারিভাবে সহযোগীতা পেলে তার খামার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান এই তরুণ উদ্যোক্তা।

ভেড়ামারা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাশেদ হাসান বলেন, ভেড়ামারায় প্রথমবারের মতো ছোট হাউসে শৌখিন মাছের খামার করেছেন ইয়ামিন। আমি ইতিমধ্যে তার খামার পরিদর্শন করেছি। বিদেশি বিভিন্ন জাতের রঙিন মাছ চাষ করে স্বল্প বয়সে একজন উদ্যোক্তায় রূপান্তরিত হয়েছেন ইয়ামিন। যেকোনো সহযোগিতায় সব সময় তার পাশে আছে ভেড়ামারা উপজেলা মৎস্য অফিস। ইয়ামিনের এই রঙিন মাছ চাষের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব বলে জানান এই মৎস্য কর্মকর্তা।