আজ থেকে ২৬-২৭ বছর আগে ভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আসা ব্যক্তিরা আজ নেতৃত্বের আসনে বসছেন। অথচ যারা দলের জন্মলগ্ন থেকে ত্যাগ, শ্রম, নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করে দলকে সংগঠিত করেছেন, তাদের অনেকেই আজও মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত। কুড়িগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বাস্তবতা এখন সাধারণ মানুষের আলোচনার অন্যতম বিষয়।
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন,দলের নিজস্ব কর্মী ও ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করে একজন ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা “ওয়ান ম্যান” রাজনীতির মাধ্যমে কি সত্যিই সংগঠন শক্তিশালী হবে? নাকি এটি ধীরে ধীরে গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের পরিবর্তে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করছে?
কুড়িগ্রামের সাধারণ মানুষের অভিযোগ, অনেক তথাকথিত “হাইব্রিড” নেতা রাজনীতি করতে আসেননি আদর্শের টানে; বরং ব্যক্তিগত সুবিধা, ক্ষমতা ও প্রভাব অর্জনের লক্ষ্যে এসেছেন। ইতিহাস সাক্ষী,এ ধরনের সুবিধাবাদীরা সময়মতো সুবিধা নিয়ে আবার অন্যত্র চলে যান। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয় সংগঠন, হতাশ হয় তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
আজ যারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন, তাদের অনেকেই দলের দুর্দিনে ছিলেন না। অথচ জন্মলগ্ন থেকে যারা দলকে ভালোবেসে নিজের সময়, শ্রম, অর্থ ও জীবন উৎসর্গ করেছেন, তারা আজও নেতৃত্বের বাইরে। এই অবমূল্যায়ন শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো সংগঠনের ভবিষ্যতের জন্যও উদ্বেগের কারণ।
রাজনীতির ইতিহাস বলে,যেখানে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হতে দেওয়া হয় না, যেখানে তৃণমূলকে অবহেলা করা হয়, সেখানে একসময় সংগঠনের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেকের মুখে আজ একটি কথাই শোনা যায়,“নেতৃত্ব যত কম তৈরি হবে, ততই কিছু নেতার সুবিধা হবে।” কুড়িগ্রামের সাধারণ মানুষও এই বাস্তবতা উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের ত্যাগী নেতাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অপপ্রচার চালানো হলেও তার কোনো শক্ত প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না। যারা আজ পদ-পদবী পেয়েছেন, সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত, তাদের নীরবতা সাধারণ মানুষের মনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। দলের সম্মান রক্ষায় তারা কেন সোচ্চার নন?
কুড়িগ্রামের রাজনীতিতে অতীতের অনেক ঘটনা আজও মানুষ ভুলে যায়নি। ৯০-এর দশকের কুড়িগ্রামের বাঘা বাঘা নেতাদের রাজনৈতিক পরিণতির উদাহরণ টেনে অনেকে সতর্ক করছেন,যদি ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন অব্যাহত থাকে, তবে ভবিষ্যতে বর্তমান নেতৃত্বকেও একই ধরনের রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, শেষ সময়ে পদ-পদবী নয়, মানুষের ভালোবাসা ও কর্মীদের আস্থা-ই একজন নেতার প্রকৃত শক্তি।
এখনই সময় দলীয় আদর্শ, ত্যাগ এবং দীর্ঘদিনের অবদানকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করার। জন্মলগ্ন থেকে যারা দলের পাশে ছিলেন, তাদের যথাযথ সম্মান ও নেতৃত্বে স্থান নিশ্চিত করতে হবে। কারণ শক্তিশালী সংগঠন কখনো সুবিধাবাদীদের ওপর নয়, ত্যাগী ও আদর্শবান কর্মীদের কাঁধের ওপর দাঁড়িয়েই গড়ে ওঠে।
কুড়িগ্রামের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই,ত্যাগের মূল্যায়ন হোক, হাইব্রিড রাজনীতির অবসান হোক, এবং তৃণমূলের প্রকৃত নেতাকর্মীরাই নেতৃত্বে আসুক। তবেই সংগঠন হবে শক্তিশালী, আর রাজনীতি ফিরে পাবে জনগণের আস্থা।
ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন ও কুড়িগ্রামের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে জনগণের মতামত
-
মোঃ জাফর আহমেদ কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা - আপডেট সময় : ১১:৩৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
- 57
জনপ্রিয় সংবাদ




















