ঢাকা ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোংলায় অভিযোগ নিষ্পত্তিতে আস্থার প্রতীক চিলা ইউনিয়নের সালিশী টিম : দুই মাসে ১১ অভিযোগ নিষ্পত্তি, চলমান ২০; বাড়ছে সাধারণ মানুষের ভরসা

(বাগেরহাট), ২৬ জুন ২০২৬:
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ সালিশী টিমগুলোর মধ্যে ৬ নম্বর চিলা ইউনিয়নের সালিশী কার্যক্রম বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে স্থানীয় জনগণের আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এই টিম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের দপ্তরে গত ৩ এপ্রিল থেকে ৮ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চিলা ইউনিয়ন থেকে মোট ৪০টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১১টি অভিযোগ সফলভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
বর্তমানে আরও ২০টি অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তির বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। জটিলতা ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তার কারণে ৬টি অভিযোগ থানা পর্যায়ের কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে উভয় পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে ২টি অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সালিশী টিমের সদস্যরা জানান, অধিকাংশ অভিযোগই জমিজমা, সীমানা নির্ধারণ এবং মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে। এসব বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তথ্য-প্রমাণ যাচাই, সরেজমিন তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করতে হয়। ফলে কিছু অভিযোগ নিষ্পত্তিতে সময় লাগলেও প্রতিটি বিষয়ে ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
চিলা ইউনিয়নের সালিশী টিমে রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আবু তালেব হাওলাদার, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফারুক হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক মো. কাজল খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আনোয়ার শেখ, বিএনপি নেতা মো. হালিম শেখ এবং যুবদল নেতা মো. সাইফুল শিকদার।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সালিশী টিমের কার্যক্রমে আস্থা রেখে গত এক সপ্তাহেই নতুন করে আরও ১৯টি অভিযোগ জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে স্থানীয় পর্যায়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আগ্রহ ও আস্থা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নতুন অভিযোগ দাখিলকারী এক ভুক্তভোগী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধের একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের আশায় আমরা এই টিমের কাছে এসেছি। তাদের কাজের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত এই সালিশী টিম মাঠপর্যায়ে মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং মামলাজট কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের মতে, চিলা ইউনিয়নের এই কার্যক্রম ভবিষ্যতে মোংলার অন্যান্য ইউনিয়নের জন্যও একটি অনুসরণীয় মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

মোংলায় অভিযোগ নিষ্পত্তিতে আস্থার প্রতীক চিলা ইউনিয়নের সালিশী টিম : দুই মাসে ১১ অভিযোগ নিষ্পত্তি, চলমান ২০; বাড়ছে সাধারণ মানুষের ভরসা

আপডেট সময় : ০৮:৩৮:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

(বাগেরহাট), ২৬ জুন ২০২৬:
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ সালিশী টিমগুলোর মধ্যে ৬ নম্বর চিলা ইউনিয়নের সালিশী কার্যক্রম বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে স্থানীয় জনগণের আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এই টিম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের দপ্তরে গত ৩ এপ্রিল থেকে ৮ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চিলা ইউনিয়ন থেকে মোট ৪০টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১১টি অভিযোগ সফলভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
বর্তমানে আরও ২০টি অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তির বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। জটিলতা ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তার কারণে ৬টি অভিযোগ থানা পর্যায়ের কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে উভয় পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে ২টি অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সালিশী টিমের সদস্যরা জানান, অধিকাংশ অভিযোগই জমিজমা, সীমানা নির্ধারণ এবং মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে। এসব বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তথ্য-প্রমাণ যাচাই, সরেজমিন তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করতে হয়। ফলে কিছু অভিযোগ নিষ্পত্তিতে সময় লাগলেও প্রতিটি বিষয়ে ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
চিলা ইউনিয়নের সালিশী টিমে রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আবু তালেব হাওলাদার, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফারুক হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক মো. কাজল খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আনোয়ার শেখ, বিএনপি নেতা মো. হালিম শেখ এবং যুবদল নেতা মো. সাইফুল শিকদার।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সালিশী টিমের কার্যক্রমে আস্থা রেখে গত এক সপ্তাহেই নতুন করে আরও ১৯টি অভিযোগ জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে স্থানীয় পর্যায়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আগ্রহ ও আস্থা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নতুন অভিযোগ দাখিলকারী এক ভুক্তভোগী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধের একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের আশায় আমরা এই টিমের কাছে এসেছি। তাদের কাজের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত এই সালিশী টিম মাঠপর্যায়ে মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং মামলাজট কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের মতে, চিলা ইউনিয়নের এই কার্যক্রম ভবিষ্যতে মোংলার অন্যান্য ইউনিয়নের জন্যও একটি অনুসরণীয় মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।