ঢাকা ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‎কলমাকান্দায় পাতিমঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাগজে কলমে ছাত্র ছাত্রীর উপস্থিতি ১৫০ থাকলেও বাস্তবে তার উপস্থিতি শূন্য

‎নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পাতিমঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাজিরা খাতা মেইনটেইন করে বেতন নিলেও শিক্ষকরা নিয়মিত থাকছে অনুপস্থিতি।সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাতিমঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বর্তমানে কার্যত শিক্ষার্থীশূন্য অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মনগড়া কমিটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নুর মিয়া নামের এক ব্যক্তি পাতিমঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে উপজেলার নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রধান শিক্ষক আছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায় করেছেন। অভিযোগে, তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের নিয়মিত অনুপস্থিতি, দায়িত্বহীনতা এবং পাঠদানে অনীহাই বিদ্যালয়টিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী ১৫০ জন, শিক্ষক ৫ জন। কিন্তু বাস্তবের চিত্র ঠিক উল্টো, শ্রেণিকক্ষে থাকে মাত্র তিন চারজন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে কোনো কোনো শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থীই নেই। এদিকে অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাচঁ শিক্ষকের মধ্যে ৪ জন উপস্থিত ছিলেন, আর একজন শিক্ষিকা প্রশিক্ষণে। তবে শিক্ষার্থী উপস্থিতি ছিল প্রায় শূন্যের কোটায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর শিক্ষকরা শুধু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বেতন-ভাতা নিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু নিয়মিত ক্লাস নেই। অনিয়মিত পাঠদান আর অবহেলার কারণে অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে তাদের সন্তানদের অন্যত্র স্কুল ও মাদরাসায় ভর্তি করিয়েছেন। তাদের ভাষায়, “স্কুলে শিক্ষক ও পড়াশোনা থাকলে ছাত্রও থাকত।”

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক আছির উদ্দিনের আচরণও তেমন একটা ভালো না। তিনি এনজিওর চাকরি ছেড়ে ১/১/২০১৪ ইং সালে জাতীয়করণের ভিত্তিতে পাতিমঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন মো: আছির উদ্দিন। এলাকার স্থানীয় অভিভাবকদের ভাষ্য মতে একজন প্রধান শিক্ষকের শিষ্টাচার আচার-আচরণ এত আপত্তিকর খুবই দুঃখজনক! কমিটির কথা বলে রাতের আঁধারে স্বজন প্রীতির মাধ্যমে কাউকে না জানিয়ে কমিটি করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রধান শিক্ষক আছির উদ্দিনের দিকে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা বদলানোর চেষ্টা করছি কিন্তু অভিভাবকদের অনাগ্রহই বড় সমস্যা। তিনি জানান, “আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের ডেকেছি, চেষ্টা করছি শিক্ষার্থী বাড়াতে।” কিন্তু স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বিদ্যালয়ের এই সংকট নতুন নয়। বছরের পর বছর শিক্ষকরা নিয়ম অনুযায়ী স্কুলে উপস্থিত না থাকায় এবং পাঠদান না করায় আজ এই দুরবস্থা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, উর্ধতন কতৃপক্ষের নিকট দ্রুত তদন্ত করে দায়িত্বহীন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়টি পুরোপুরি অচল হয়ে যাবে অচিরেই।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

‎কলমাকান্দায় পাতিমঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাগজে কলমে ছাত্র ছাত্রীর উপস্থিতি ১৫০ থাকলেও বাস্তবে তার উপস্থিতি শূন্য

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

‎নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পাতিমঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাজিরা খাতা মেইনটেইন করে বেতন নিলেও শিক্ষকরা নিয়মিত থাকছে অনুপস্থিতি।সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাতিমঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বর্তমানে কার্যত শিক্ষার্থীশূন্য অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মনগড়া কমিটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নুর মিয়া নামের এক ব্যক্তি পাতিমঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে উপজেলার নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রধান শিক্ষক আছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায় করেছেন। অভিযোগে, তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের নিয়মিত অনুপস্থিতি, দায়িত্বহীনতা এবং পাঠদানে অনীহাই বিদ্যালয়টিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী ১৫০ জন, শিক্ষক ৫ জন। কিন্তু বাস্তবের চিত্র ঠিক উল্টো, শ্রেণিকক্ষে থাকে মাত্র তিন চারজন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে কোনো কোনো শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থীই নেই। এদিকে অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাচঁ শিক্ষকের মধ্যে ৪ জন উপস্থিত ছিলেন, আর একজন শিক্ষিকা প্রশিক্ষণে। তবে শিক্ষার্থী উপস্থিতি ছিল প্রায় শূন্যের কোটায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর শিক্ষকরা শুধু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বেতন-ভাতা নিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু নিয়মিত ক্লাস নেই। অনিয়মিত পাঠদান আর অবহেলার কারণে অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে তাদের সন্তানদের অন্যত্র স্কুল ও মাদরাসায় ভর্তি করিয়েছেন। তাদের ভাষায়, “স্কুলে শিক্ষক ও পড়াশোনা থাকলে ছাত্রও থাকত।”

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক আছির উদ্দিনের আচরণও তেমন একটা ভালো না। তিনি এনজিওর চাকরি ছেড়ে ১/১/২০১৪ ইং সালে জাতীয়করণের ভিত্তিতে পাতিমঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন মো: আছির উদ্দিন। এলাকার স্থানীয় অভিভাবকদের ভাষ্য মতে একজন প্রধান শিক্ষকের শিষ্টাচার আচার-আচরণ এত আপত্তিকর খুবই দুঃখজনক! কমিটির কথা বলে রাতের আঁধারে স্বজন প্রীতির মাধ্যমে কাউকে না জানিয়ে কমিটি করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রধান শিক্ষক আছির উদ্দিনের দিকে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা বদলানোর চেষ্টা করছি কিন্তু অভিভাবকদের অনাগ্রহই বড় সমস্যা। তিনি জানান, “আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের ডেকেছি, চেষ্টা করছি শিক্ষার্থী বাড়াতে।” কিন্তু স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বিদ্যালয়ের এই সংকট নতুন নয়। বছরের পর বছর শিক্ষকরা নিয়ম অনুযায়ী স্কুলে উপস্থিত না থাকায় এবং পাঠদান না করায় আজ এই দুরবস্থা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, উর্ধতন কতৃপক্ষের নিকট দ্রুত তদন্ত করে দায়িত্বহীন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়টি পুরোপুরি অচল হয়ে যাবে অচিরেই।