ঢাকা ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘাটাইলের ধলাপাড়া রেঞ্জের সদর বিট ওদেওপাড়া বিটে অবৈধ করাত কলে নির্বিচারে উজাড় হচ্ছে বনের কচি-কাঁচন গাছ, বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ।

রাতে কিংবা দিনে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে করাতকলে চলছে কাঠ চেরাই। অনুমোদনহীন এসব করাত কল স্থাপন করা হয়েছে মূল সড়কের পাশে, সীমানা ঘেঁষে। এসব মিলের নেই কোনো সরকারি অনুমোদন। জানা গেছে, করাতকলের মধ্যে বেশিরভাগই চলছে অবৈধভাবে।

বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, অঞ্চলে চার শ্রেণির বন রয়েছে। সেগুলো হলো, সংরক্ষিত বন, রক্ষিত বন, ব্যক্তিমালিকাধীন বন ও অশ্রেণিভুক্ত বন৷ তবে বেশির ভাগই অশ্রেণিভুক্ত বনের আওতাভুক্ত।

জানা যায়, বিগত কয়েক দশকে সংরক্ষিত বন ও অশ্রেণিভুক্ত বনাঞ্চল ব্যাপক হারে উজাড় হয়েছে। বনখেকোদের দৌরাত্ম্যে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে এসব বনের গাছ । বিশেষ করে পাহাড় থেকে পরিবহণ করে এসব কাঠ বিভিন্ন উপজেলায় পোঁড়াতে এবং স’মিল গুলোতে নেয়া হয় পক্রিয়াজাত করতে। রাতের আঁধারে ট্রাক যোগে এসব কাঠ পাচার করা হয় ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই হারিয়ে যাবে প্রাকৃতিক বন।

অভিযোগ রয়েছে, এসব কাঠ জোগাড় হয়েছে আশপাশের বনাঞ্চল থেকেই। যার ফলে উজাড় হয়ে যাচ্ছে পাহাড়ি অঞ্চল, বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়ছে পাহাড়।

বন ও পরিবেশ আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপনের কোনো সুযোগ বা নিয়ম নেয়। তবে এসবের তোয়াক্কা করেন না বনখেকোরা। বনাঞ্চল ঘিরেই অবৈধভাবে করাতকল স্থাপন করে দিনে-রাতে কাঁটা হচ্ছে এসব বনের কাঠ।

করাতকল মিস্ত্রিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি করাতকলে দৈনিক অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ ঘনফুট পর্যন্ত কাঠ চিরানো হয়। সেই হিসেবে ধলাপাড়া রেঞ্জের করাতকলগুলোতে সপ্তাহিক গড়ে অন্তত সাড়ে ২২ হাজার ঘনফুট কাঠ চেরানো হয়। বছর শেষে যার পরিমাণ ৮০ লাখ ঘনফুট ছাড়িয়ে যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সাপ্টারবাইদ বাজার সানবান্দা রোড জাঙ্গালিয়া রোড ও,
বাসাবাইদ বাজার,রসুলপুর আমতলা মোড়, শোলাকিপাড়া, দেওপাড়া এলাকায় গড়ে উঠেছে এসব অবৈধ করাত কল। যার ফলে উজাড় হচ্ছে প্রাকৃতিক বন।

এছাড়া অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের কারণে বনের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বন ধ্বংসের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে শত প্রজাতির বৃক্ষ, লতা-গুল্ম। বিচরণ ক্ষেত্র কমে যাওয়ায় বনের উপর নির্ভরশীল বণ্যপ্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এসব নিয়ে বন বিভাগের কোন নজরদারি নেই। প্রাকৃতিক বন বিপন্ন হওয়ায় বিপন্ন হয়ে উঠছে বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষরা। বন ধ্বংস হওয়ায় পানি উৎস কমেছে প্রায় ৬১ শতাংশ। শুষ্ক মৌসুমে ঝিরি ঝরনায় পানি উৎস কমে আসে। কমে যাচ্ছে বন্যপ্রাণীসহ জীব বৈচিত্র।

এ বিষয়ে করাত কল মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায় তারা বিট ম্যানেজ করে এই করাত কলের ব্যবসা করছে তাতে নেই কোন নিষেধাজ্ঞ অবাদে চলছে করাত কল।

স্থানীয় লোকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এভাবেই চলছে করাত কল প্রতিনিয়ত, নেই কোন বন বিভাগের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা।

ধলাপাড়া বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সাব্বির হোসাইন জানান, এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

ঘাটাইলের ধলাপাড়া রেঞ্জের সদর বিট ওদেওপাড়া বিটে অবৈধ করাত কলে নির্বিচারে উজাড় হচ্ছে বনের কচি-কাঁচন গাছ, বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ।

আপডেট সময় : ০৩:৩৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

রাতে কিংবা দিনে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে করাতকলে চলছে কাঠ চেরাই। অনুমোদনহীন এসব করাত কল স্থাপন করা হয়েছে মূল সড়কের পাশে, সীমানা ঘেঁষে। এসব মিলের নেই কোনো সরকারি অনুমোদন। জানা গেছে, করাতকলের মধ্যে বেশিরভাগই চলছে অবৈধভাবে।

বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, অঞ্চলে চার শ্রেণির বন রয়েছে। সেগুলো হলো, সংরক্ষিত বন, রক্ষিত বন, ব্যক্তিমালিকাধীন বন ও অশ্রেণিভুক্ত বন৷ তবে বেশির ভাগই অশ্রেণিভুক্ত বনের আওতাভুক্ত।

জানা যায়, বিগত কয়েক দশকে সংরক্ষিত বন ও অশ্রেণিভুক্ত বনাঞ্চল ব্যাপক হারে উজাড় হয়েছে। বনখেকোদের দৌরাত্ম্যে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে এসব বনের গাছ । বিশেষ করে পাহাড় থেকে পরিবহণ করে এসব কাঠ বিভিন্ন উপজেলায় পোঁড়াতে এবং স’মিল গুলোতে নেয়া হয় পক্রিয়াজাত করতে। রাতের আঁধারে ট্রাক যোগে এসব কাঠ পাচার করা হয় ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই হারিয়ে যাবে প্রাকৃতিক বন।

অভিযোগ রয়েছে, এসব কাঠ জোগাড় হয়েছে আশপাশের বনাঞ্চল থেকেই। যার ফলে উজাড় হয়ে যাচ্ছে পাহাড়ি অঞ্চল, বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়ছে পাহাড়।

বন ও পরিবেশ আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপনের কোনো সুযোগ বা নিয়ম নেয়। তবে এসবের তোয়াক্কা করেন না বনখেকোরা। বনাঞ্চল ঘিরেই অবৈধভাবে করাতকল স্থাপন করে দিনে-রাতে কাঁটা হচ্ছে এসব বনের কাঠ।

করাতকল মিস্ত্রিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি করাতকলে দৈনিক অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ ঘনফুট পর্যন্ত কাঠ চিরানো হয়। সেই হিসেবে ধলাপাড়া রেঞ্জের করাতকলগুলোতে সপ্তাহিক গড়ে অন্তত সাড়ে ২২ হাজার ঘনফুট কাঠ চেরানো হয়। বছর শেষে যার পরিমাণ ৮০ লাখ ঘনফুট ছাড়িয়ে যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সাপ্টারবাইদ বাজার সানবান্দা রোড জাঙ্গালিয়া রোড ও,
বাসাবাইদ বাজার,রসুলপুর আমতলা মোড়, শোলাকিপাড়া, দেওপাড়া এলাকায় গড়ে উঠেছে এসব অবৈধ করাত কল। যার ফলে উজাড় হচ্ছে প্রাকৃতিক বন।

এছাড়া অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের কারণে বনের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বন ধ্বংসের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে শত প্রজাতির বৃক্ষ, লতা-গুল্ম। বিচরণ ক্ষেত্র কমে যাওয়ায় বনের উপর নির্ভরশীল বণ্যপ্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এসব নিয়ে বন বিভাগের কোন নজরদারি নেই। প্রাকৃতিক বন বিপন্ন হওয়ায় বিপন্ন হয়ে উঠছে বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষরা। বন ধ্বংস হওয়ায় পানি উৎস কমেছে প্রায় ৬১ শতাংশ। শুষ্ক মৌসুমে ঝিরি ঝরনায় পানি উৎস কমে আসে। কমে যাচ্ছে বন্যপ্রাণীসহ জীব বৈচিত্র।

এ বিষয়ে করাত কল মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায় তারা বিট ম্যানেজ করে এই করাত কলের ব্যবসা করছে তাতে নেই কোন নিষেধাজ্ঞ অবাদে চলছে করাত কল।

স্থানীয় লোকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এভাবেই চলছে করাত কল প্রতিনিয়ত, নেই কোন বন বিভাগের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা।

ধলাপাড়া বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সাব্বির হোসাইন জানান, এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি।