ঢাকা ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিস্তা তীরজুড়ে বন্যার অশনিসংকেত আতঙ্কে লাখো মানুষ, জরুরি সতর্কবার্তা প্রশাসন ও গণমাধ্যমের প্রতি

রংপুর বিভাগজুড়ে আবারও দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা। উজান থেকে নেমে আসা ঢল আর টানা ভারী বর্ষণে উত্তাল হয়ে উঠতে শুরু করেছে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদী। বিশেষ করে তিস্তা নদীর তীরবর্তী ও বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বসবাসরত হাজারো পরিবার এখন চরম উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কে দিন গুনছে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির আশঙ্কায় সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি জরুরি তথ্য প্রচার ও প্রস্তুতি জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২১ জুন থেকে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শনিবার রাতের বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাত সেই আশঙ্কাকে আরও তীব্র করেছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর-পূর্ব বিহার, আসাম ও সিকিম এবং বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।
বাংলাদেশের (FFWC)-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শনিবার ২০ জুন তিস্তা নদীর নীলফামারীর ডিমলা ও রংপুরের কাউনিয়া এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমার একেবারে কাছাকাছি অবস্থান করছিল। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে।
অন্যদিকে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ ইতোমধ্যে আসাম, সিকিম এবং পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করেছে। এসব এলাকার পাহাড়ি ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করায় উত্তরাঞ্চলে হঠাৎ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।
ফলে আজ রোববার থেকেই রংপুর বিভাগ নীলফামারী জেলা লালমনিহাট জেলা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা নদী, দুধ কুমার নদী সংলগ্ন জনপদগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গণমাধ্যমকর্মী এবং নদীপাড়ের সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পাশাপাশি আগাম নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের মানুষ এখন প্রার্থনা করছে— যেন আরেকটি ভয়াবহ বন্যা তাদের ঘরবাড়ি, ফসল আর জীবিকা কেড়ে না নেয়া

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

তিস্তা তীরজুড়ে বন্যার অশনিসংকেত আতঙ্কে লাখো মানুষ, জরুরি সতর্কবার্তা প্রশাসন ও গণমাধ্যমের প্রতি

আপডেট সময় : ০৭:৫৩:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

রংপুর বিভাগজুড়ে আবারও দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা। উজান থেকে নেমে আসা ঢল আর টানা ভারী বর্ষণে উত্তাল হয়ে উঠতে শুরু করেছে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদী। বিশেষ করে তিস্তা নদীর তীরবর্তী ও বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বসবাসরত হাজারো পরিবার এখন চরম উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কে দিন গুনছে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির আশঙ্কায় সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি জরুরি তথ্য প্রচার ও প্রস্তুতি জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২১ জুন থেকে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শনিবার রাতের বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাত সেই আশঙ্কাকে আরও তীব্র করেছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর-পূর্ব বিহার, আসাম ও সিকিম এবং বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।
বাংলাদেশের (FFWC)-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শনিবার ২০ জুন তিস্তা নদীর নীলফামারীর ডিমলা ও রংপুরের কাউনিয়া এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমার একেবারে কাছাকাছি অবস্থান করছিল। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে।
অন্যদিকে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ ইতোমধ্যে আসাম, সিকিম এবং পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করেছে। এসব এলাকার পাহাড়ি ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করায় উত্তরাঞ্চলে হঠাৎ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।
ফলে আজ রোববার থেকেই রংপুর বিভাগ নীলফামারী জেলা লালমনিহাট জেলা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা নদী, দুধ কুমার নদী সংলগ্ন জনপদগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গণমাধ্যমকর্মী এবং নদীপাড়ের সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পাশাপাশি আগাম নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের মানুষ এখন প্রার্থনা করছে— যেন আরেকটি ভয়াবহ বন্যা তাদের ঘরবাড়ি, ফসল আর জীবিকা কেড়ে না নেয়া