পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার লামা উপজেলাধীন ৫ নং সরই ইউনিয়নের কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের লোকেরা গফুর ম্যানেজার নামে এক বৃদ্ধকে রক্তাক্ত হামলা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রমতে, লম্বাখোলা বৃদ্ধাশ্রমের পাশে জমির সীমানা বিরোধ নিয়ে দ্বন্ধের জের ধরে এ ঘটনার সূত্রপাত। সকাল থেকে ঔক্যবদ্ধ স্থানীয় জনতা লুলাইন ক্যায়াজুপাড়া সড়কে জড়ো হয়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের লোকদেরকে হামলাকারী হিসেব দায়ি করে বিচারের দাবিতে মিছিল স্লোগান দিচ্ছেন। উত্তেজিত জনতার রোষনল থেকে বাঁচতে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের লোকজন বৃদ্ধাশ্রমে অবস্থান নেন।
উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে দুপুর আড়াইটার দিকে সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পরিবেশ কিছুটা শান্ত হয়।
জানাযায়, শনিবার ২০ জুন সকাল সাড়ে ৯টায় গফুর ম্যানেজার-কাসেম বনাম কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের লোকদের মধ্যে জমির সীমানা বিরোধ সংক্রান্ত পূর্ব নির্ধারিত সামজিক বৈঠক ছিলো। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই বৈঠকে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের একজন নিজেকে বান্দরবান ও ক্যায়াজুপাড়ার গুন্ডা মাস্তান দাবি করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথাবার্তা বললে দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এর এক পর্যায়ে
গফুর ম্যানেজারের উপর হামলা করে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের লোকজন। এই হামলার খবর পেয়ে সেখানে শত শত নারী পুরুষ জড়ো হতে থাকে।
দুপুর থেকে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, গফুর ম্যানেজারের উপর হামলাকারী তিনজনকে গ্রেফতার না করলে, তাদের অবস্থান ত্যাগ করবেনা। গফুর ম্যানেজারকে হামলার আগে সেখানে মোটর সাইকেলযোগে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রায় শ্ খানেক কর্মচারী একত্রিত হয়ে গ্রামবাসী নারী পুরুষের উপর হামলা করেছে বল কয়েকজন নারী জানান। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে চারদিক থেকে প্রচুর গ্রামবাসী ছুটে আসতে দেখে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের লোকেরা বৃদ্ধাশ্রমের ব্যরাকে ঢুকে পড়ে ভিতর থেকে তালাবদ্ধ করে নিজেদেরকে নিরাপদে নেন। এ সময় বাহিরে শত শত গ্রামবাসী বিচারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যায়। পরে সেনাবাহিনীর একটি টিম সেখানে হাজির হয়ে আন্দোলনকারী স্থানীয়দের সাথে কথা বললে,
পরিস্থিতি শান্ত আরেক দফা শান্ত হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শি আবদুল হামিদসহ কয়েকজন নারী জানান, সকাল প্রায় ১০টার দিকে গফুর ম্যানেজারের নার্সারীতে গিয়ে এডভোকেট ফয়সালের উপস্থিতিতে কোয়ান্টামের স্ট্যাফ শাওন নামের একজন গফুর ম্যানেজারকে বক্সিন মেরে নাক পাঠিয়ে রক্তাক্ত করে। এ সময় গফুরকে হামলার কবল থেকে রক্ষা করতে গেলে মোহাম্মদ আলী, আবদুল হামিদ, দোকানদার আবু রায়হান ও মমতাজ বেগম, সুমি আক্তার,
সালমা বেগম, কফিল উদ্দিন আবুল বসরকে এডভোকেট ফয়সালসহ কোয়ান্টাম এর অন্যান্য স্ট্যাফেরা হামলা করেন। এর কিছুক্ষনের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। রক্তাক্ত গফুর ম্যানেজারকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া পদুয়া হসপিটালে ভর্তি করান।
বিকেল পৌনে চারটা এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত দেখা গেছে। তবে স্থানীয়রা হামলাকারীদেরকে হাতকড়া লাগিয়ে পুলিশে হস্তান্তরের দাবিতে কিছুক্ষণ পরপর স্লোগান দিতে দেখা গেছে। ঘটনাস্থলে লামা থানার ওসি ও লামা সার্কেল এএসপি পুলিশ নিয়ে অবস্থান করছেন।
এই বিষয়ে বৃদ্ধাশ্রমের ব্যারাকের ভেতর স্বেচ্ছায় অবরোধ কয়েকজনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা কেউ মুখ খোলেননি। এসময় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের এডমিন আসাদ সাংবাদিদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন এক পর্যায়ে ভিতর থেকে গ্রীলের ফাঁক দিয়ে হাত বাড়ি সাংবাদিকের মোবাইল ক্যামেরা কেড়ে নেয়ার নির্লজ্জ চেষ্টা চালাই।
বিষয়টি জানাতে কোয়ান্টামের অপর কর্মকর্তা পারভেজকে মুঠোফোনে দুই দফা কল করা হয়, কিন্তু তিনি রেসপন্স করেন নাই। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের এডমিন আসাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরনে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সংবাদ কর্মিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এই ঘটনার সম্পুর্ন ভিডিও চিত্র সাংবাদিকদের নিকট রক্ষিত আছে। প্রসঙ্গত: দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে পরিবেশ ধ্বংস করে পাহাড় কর্তনের অভিযোগ ও স্থানীয়দের সাথে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে।
ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক বান্দরবান (প্রতিনিধি) 



















