তারাকান্দা উপজেলার ঢাকুয়া ইউপির ভালকী নয়াপাড়ার কৃষক রফিকুল হত্যা মামলায় সাড়ে ৯ মাসেও তারাকান্দা থানা পুলিশ হত্যার কোন সত্যতা উদঘাটন করতে পারেনি বলে এলাকার জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একটি প্রভাবশালী মহল চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত না করে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে বলে স্থানীয় একটি সূত্র দাবি করছে।
জানা যায় গত ৩১ আগস্ট ২০২৫ রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৮ টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে গভীর রাতেও রফিকুল ইসলাম ঘরে ফিরেনি। তার ছেলে রাকিব এবং ভাই আমিনুল ইসলাম তাঁকে খুঁজতে বের হয়। রাত আনুমানিক পৌনে ৩ টায় ছেলে রাকিব মিয়াকে কালভার্টের পাশে তার পিতার জুতো জোড়া পড়ে থাকতে দেখায় জনৈক এমদাদ মিয়া। রাত আনুমানিক ৩ টা ১০ মিনিটে সেই এমদাদের ফিসারির পাড়ে কলাগাছের নীচে হাত বাঁধা গলায় রশি পেচানো এবং মাথা গাল বুক এবং যৌনাঙ্গে ১১ টি কাটা জখমে মৃত রফিকুলের লাশ খুঁজে পায় তার ছোট ভাই আমিনুল ইসলাম। তারাকান্দা থানা পুলিশ ভোরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ ময়না তদন্তের জন্যে ময়মনসিংহ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় নিহত রফিকুলের ছেলে রাকিব (২৫) বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় আসামীদের নাম খুঁজে তারাকান্দা থানায় হত্যা মামলা নং-৪ তারিখ ০২/০৯/২০২৫ ইং (ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ দণ্ডবিধি রুজু করে।
মামলাটি এসআই শরীফুজ্জামান শরীফ কে তদন্তভার অর্পণ করেন ওসি টিপু সুলতান। মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেই এসআই শরীফ এলাকায় তদন্তের নামে গণ নির্যাতন শুরু করে। এ ঘটনার একাধিক সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে থানায় ডেকে নিয়ে আটক ও টাকার বিনিময়ে পরে ছেড়ে দেয়। এক পর্যায়ে স্থানীয় পুলিশের দালাল কথিত প্রভাবশালী চক্রের সহযোগিতায় মামলার বাদীর সাথে যোগসাজসে নিরীহ গ্রামবাসীকে ধরা-ছাড়া বাণিজ্য শুরু করলে ৩ বারের নির্বাচিত জনপ্রিয় মেম্বার নজরুল ইসলাম পুলিশী বাণিজ্যের বিরোধিতা করে সুষ্ঠু তদন্তে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন করে।
এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত থানা পুলিশ রফিকুল হত্যার তদন্তের নামে এলাকাবাসীকে থানায় ডেকে নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ ছাড়া পুলিশী ক্ষমতার অপব্যবহার করে বর্তমান মেম্বার নজরুল ইসলাম কে গত ৯ সেপ্টেম্বর/২৫ সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে গ্রেফতার করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে তারাকান্দা থানা এবং ডিবি অফিসে নিয়ে ব্যাপক নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে এসআই শরীফের বদলি হলে এ মামলাটি এসআই আলালের হাতে অর্পণ করেন ওসি টিপু সুলতান। মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেই এসআই আলাল কথিত ওসির নির্দেশে গাজীপুরের শ্রীপুর মডেল থানা এলাকা থেকে গত ২২ শে অক্টোবর/২৫ রাত সাড়ে তিনটায় রফিকুল হত্যায় জড়িত সন্দেহে আব্দুল জলিলের ছেলে রায়হান কে ধরে এনে ২দিন রিমান্ডে ডিবি অফিসে উপর্যুপরি বৈদ্যুতিক শট দিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ে ব্যর্থ হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীরা জানান, মামলার বাদী এবং রফিকুল হত্যাকাণ্ডের মূল আসামীদের মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষের বিনিময়ে প্রকৃত পরকীয়া খুনের ঘটনা আড়াল করতে পুলিশ নিজেই ধানাই পানাই তদন্ত করে মামলা টি কে বাণিজ্যের উপকরণে পরিণত করেছে। সাড়ে ৯ মাসে ২ জন এসআই তদন্তের নামে কালক্ষেপন করে এখন পর্যন্ত হত্যা উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার ময়মনসিংহ বরাবরে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে খুনের ঘটনায় জড়িত সম্ভাব্য পরকীয়া ঘটনা তদন্ত এবং প্রকৃত খুনীদের নাম সহ তদন্তের আবেদন করেও কোন প্রতিকার পায়নি ভুক্তভোগীরা। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত খুনীদের গ্রেফতার থানা পুলিশের দ্বারা অসম্ভব বিধায় মামলাটি পিবিআই বা ডিবি তদন্তের দাবী জানান এলাকার জনসাধারণ।
মোঃ হেলাল উদ্দিন সরকার। 



















