সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় একটি জরাজীর্ণ কুঁড়েঘর থেকে তুরন মিয়া (৪৬) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, পূর্ব বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
শুক্রবার (১৯ জুন) উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর রাইকদাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তুরন মিয়া ওই গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার ছেলে। তিনি দরজা-জানালাবিহীন একটি ভাঙাচোরা কুঁড়েঘরে একাই বসবাস করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ঘরের ভেতরে তুরন মিয়াকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেন। পরে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় বিকেল ৪টার দিকে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) মানছুরা আক্তারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরশেদুল আলম ভূইয়া, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে প্রাথমিক তদন্তে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ৬ জুন তুরন মিয়া প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে ওসমানীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগের পর স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
নিহতের ভাই এলাইছ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে আমার ভাই থানায় অভিযোগ দিয়েছিল, তারাই তাকে হত্যা করেছে। তার মুখমণ্ডলে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, তুরন মিয়া অধিকাংশ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন এবং মাঝেমধ্যে নিজ বাড়িতে আসতেন। অবিবাহিত তুরন মিয়া এর আগে দু’বার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ফলে তার মৃত্যু স্বাভাবিক কারণে নাকি কোনো অপরাধমূলক ঘটনার ফল—তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য এম রুম্মান আহমদ জানান, সরকারি রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে তুরন মিয়ার সঙ্গে তার এক চাচাতো ভাইয়ের ঠিকাদার পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয়নি।
ওসমানীনগর থানার ওসি মো. মুরশেদুল আলম ভূইয়া বলেন, “মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এটি হত্যাকাণ্ড নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।”
সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) মানছুরা আক্তার বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
রহস্যজনক এ মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও কৌতূহল বিরাজ করছে। এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনই বলে দেবে তুরন মিয়ার মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো হত্যার ঘটনা।
মোঃ রাজন আহমদ, স্টাফ রিপোর্ট 



















