ঢাকা ১২:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিরামপুরে জাতীয় ফল মেলা-২০২৬

করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস”-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের বিরামপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় ফল মেলা-২০২৬। মেলায় দেশীয় ও বিদেশি নানা জাতের ফলের সমাহার যেমন দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে, তেমনি ফল চাষ ও সংরক্ষণ বিষয়ে নতুন আগ্রহও সৃষ্টি করেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তানজিনা খাতুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কমল কৃষ্ণ রায় এবং উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আকতারুজ্জামানসহ কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মেলায় সাজানো হয়েছিল-নানা রঙ ও স্বাদের ফলের আকর্ষণীয় পসরা। বিভিন্ন প্রজাতির আম, লিচু, কাঁঠাল, কলা, পেয়ারা, পেঁপে, আনারস, তরমুজ, বাঙ্গি, জাম, জামরুল, ডালিম, লেবু, মাল্টা, কমলা, আঙুর, ড্রাগন ফল, সফেদা, আমড়া, বেল, নারিকেল, তাল, খেজুর, বরই, করমচা, জলপাই, স্ট্রবেরিসহ মৌসুমি ও অপ্রচলিত অসংখ্য ফল প্রদর্শন করা হয়। প্রতিটি স্টলে ফলের পরিচিতি, পুষ্টিগুণ, চাষাবাদ পদ্ধতি এবং সংরক্ষণ কৌশল সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরা হয়।

মেলায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নতুন ও অপ্রচলিত বিভিন্ন ফলের আকার, গঠন ও বৈশিষ্ট্য দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ড্রাগন ফল, স্ট্রবেরি, মাল্টা ও অন্যান্য বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় ফলের প্রতি দর্শনার্থীদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

দর্শনার্থীদের অনেকেই জানান, শুধু ফল দেখাই নয়, ফল চাষ ও সংরক্ষণ সম্পর্কে বাস্তবধর্মী ধারণা লাভের সুযোগ হয়েছে এ মেলা থেকে। অনেক কৃষক ও আগ্রহী ব্যক্তি বিভিন্ন ফলের উৎপাদন পদ্ধতি, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষণের কৌশল সম্পর্কে কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেন।

এমন আয়োজন কৃষকদের আধুনিক ও লাভজনক ফল চাষে উদ্বুদ্ধ করবে। একই সঙ্গে পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পারিবারিক বাগান গড়ে তোলা এবং বাণিজ্যিক ফল উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে দেশের কৃষিতে বহুমুখীকরণের যে প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, ফল চাষ তার অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফল শুধু সুস্বাদু খাদ্য নয়; এটি মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ, রোগ প্রতিরোেধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম। তাই ফল চাষ সম্প্রসারণের পাশাপাশি ফল সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোও সময়ের দাবি।

বিরামপুরের জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ সেই সচেতনতা তৈরির ক্ষেত্র হিসেবে সফল ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছেন উপস্থিত দর্শনার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে নতুন প্রজন্ম ফল চাষে আগ্রহী হবে, কৃষকরা লাভবান হবেন এবং দেশীয় ফলের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

বিরামপুরে জাতীয় ফল মেলা-২০২৬

আপডেট সময় : ১২:২৭:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস”-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের বিরামপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় ফল মেলা-২০২৬। মেলায় দেশীয় ও বিদেশি নানা জাতের ফলের সমাহার যেমন দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে, তেমনি ফল চাষ ও সংরক্ষণ বিষয়ে নতুন আগ্রহও সৃষ্টি করেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তানজিনা খাতুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কমল কৃষ্ণ রায় এবং উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আকতারুজ্জামানসহ কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মেলায় সাজানো হয়েছিল-নানা রঙ ও স্বাদের ফলের আকর্ষণীয় পসরা। বিভিন্ন প্রজাতির আম, লিচু, কাঁঠাল, কলা, পেয়ারা, পেঁপে, আনারস, তরমুজ, বাঙ্গি, জাম, জামরুল, ডালিম, লেবু, মাল্টা, কমলা, আঙুর, ড্রাগন ফল, সফেদা, আমড়া, বেল, নারিকেল, তাল, খেজুর, বরই, করমচা, জলপাই, স্ট্রবেরিসহ মৌসুমি ও অপ্রচলিত অসংখ্য ফল প্রদর্শন করা হয়। প্রতিটি স্টলে ফলের পরিচিতি, পুষ্টিগুণ, চাষাবাদ পদ্ধতি এবং সংরক্ষণ কৌশল সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরা হয়।

মেলায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নতুন ও অপ্রচলিত বিভিন্ন ফলের আকার, গঠন ও বৈশিষ্ট্য দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ড্রাগন ফল, স্ট্রবেরি, মাল্টা ও অন্যান্য বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় ফলের প্রতি দর্শনার্থীদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

দর্শনার্থীদের অনেকেই জানান, শুধু ফল দেখাই নয়, ফল চাষ ও সংরক্ষণ সম্পর্কে বাস্তবধর্মী ধারণা লাভের সুযোগ হয়েছে এ মেলা থেকে। অনেক কৃষক ও আগ্রহী ব্যক্তি বিভিন্ন ফলের উৎপাদন পদ্ধতি, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষণের কৌশল সম্পর্কে কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেন।

এমন আয়োজন কৃষকদের আধুনিক ও লাভজনক ফল চাষে উদ্বুদ্ধ করবে। একই সঙ্গে পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পারিবারিক বাগান গড়ে তোলা এবং বাণিজ্যিক ফল উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে দেশের কৃষিতে বহুমুখীকরণের যে প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, ফল চাষ তার অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফল শুধু সুস্বাদু খাদ্য নয়; এটি মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ, রোগ প্রতিরোেধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম। তাই ফল চাষ সম্প্রসারণের পাশাপাশি ফল সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোও সময়ের দাবি।

বিরামপুরের জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ সেই সচেতনতা তৈরির ক্ষেত্র হিসেবে সফল ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছেন উপস্থিত দর্শনার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে নতুন প্রজন্ম ফল চাষে আগ্রহী হবে, কৃষকরা লাভবান হবেন এবং দেশীয় ফলের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।