ঢাকা ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার্থী মাত্র ৫, শিক্ষক-কর্মচারী ১৭: বাউফলের একটি মাদ্রাসা ঘিরে নানা প্রশ্ন

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের পূর্ব ইন্দ্রকুল এলাকার পূর্ব ইন্দ্রকুল ফিরোজা কামাল বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র পাঁচজন, অথচ শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে কর্মরত রয়েছেন ১৭ জন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১১টায় সরেজমিনে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, পঞ্চম শ্রেণির ওপরে কোনো শিক্ষার্থী নেই। উপস্থিত পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে একজন করে এবং চতুর্থ শ্রেণিতে দুইজন অধ্যয়ন করছে।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানে ১৩ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তবে পরিদর্শনের সময় শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে উপস্থিত ছিলেন সাতজন। একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে দেখা যায়। এছাড়া কয়েকজন শিক্ষককে অবসর সময়ে একসঙ্গে বসে থাকতে দেখা গেছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির কোনো হাজিরা খাতা প্রদর্শন করা হয়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালে আব্দুল মোতালেব মিয়া মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তার পুত্রবধূ মাহফুজা আক্তার মাদ্রাসার সুপার, মেয়ে নুরজাহার রাঢ়ি ইবতেদায়ি শিক্ষক এবং দুই ছেলে খাইরুল ইসলাম অফিস সহকারী ও সিদ্দিকুর রহমান নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত আছেন।

মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থী সংখ্যা কম হওয়ায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা বলেন, এমপিওবিহীন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই মাদ্রাসার মাধ্যমে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এছাড়া শাপলাখালী এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানে সম্মানীর ভিত্তিতে শিক্ষক পাঠানো হয় এবং সেখানকার কিছু শিক্ষার্থীও এ মাদ্রাসার অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী সংকট থাকলেও শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মাহফুজা আক্তার বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং বর্ষা মৌসুমে রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে আগ্রহ দেখায় না। ফলে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে গেছে। তিনি আরও জানান, এমপিওভুক্ত নয় এমন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তাদের মাদ্রাসার অধীনে নিবন্ধন করিয়ে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

শিক্ষার্থী মাত্র ৫, শিক্ষক-কর্মচারী ১৭: বাউফলের একটি মাদ্রাসা ঘিরে নানা প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৬:২৮:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের পূর্ব ইন্দ্রকুল এলাকার পূর্ব ইন্দ্রকুল ফিরোজা কামাল বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র পাঁচজন, অথচ শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে কর্মরত রয়েছেন ১৭ জন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১১টায় সরেজমিনে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, পঞ্চম শ্রেণির ওপরে কোনো শিক্ষার্থী নেই। উপস্থিত পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে একজন করে এবং চতুর্থ শ্রেণিতে দুইজন অধ্যয়ন করছে।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানে ১৩ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তবে পরিদর্শনের সময় শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে উপস্থিত ছিলেন সাতজন। একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে দেখা যায়। এছাড়া কয়েকজন শিক্ষককে অবসর সময়ে একসঙ্গে বসে থাকতে দেখা গেছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির কোনো হাজিরা খাতা প্রদর্শন করা হয়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালে আব্দুল মোতালেব মিয়া মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তার পুত্রবধূ মাহফুজা আক্তার মাদ্রাসার সুপার, মেয়ে নুরজাহার রাঢ়ি ইবতেদায়ি শিক্ষক এবং দুই ছেলে খাইরুল ইসলাম অফিস সহকারী ও সিদ্দিকুর রহমান নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত আছেন।

মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থী সংখ্যা কম হওয়ায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা বলেন, এমপিওবিহীন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই মাদ্রাসার মাধ্যমে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এছাড়া শাপলাখালী এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানে সম্মানীর ভিত্তিতে শিক্ষক পাঠানো হয় এবং সেখানকার কিছু শিক্ষার্থীও এ মাদ্রাসার অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী সংকট থাকলেও শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মাহফুজা আক্তার বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং বর্ষা মৌসুমে রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে আগ্রহ দেখায় না। ফলে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে গেছে। তিনি আরও জানান, এমপিওভুক্ত নয় এমন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তাদের মাদ্রাসার অধীনে নিবন্ধন করিয়ে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।