ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিন্ডারগার্টেন নয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই মানসম্মত শিক্ষা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন নীলফামারী সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জছিজুল আলম মণ্ডল। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের সন্তানদের অবশ্যই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠাবেন। প্রশিক্ষিত শিক্ষক, আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি ও সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে সরকারি বিদ্যালয়েই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে।”
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও উপস্থিতি কমে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের কিন্ডারগার্টেন, ইবতেদায়ী মাদ্রাসা, হেফজখানা ও বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন। তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকারা জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুসরণ করে পাঠদান করছেন। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে এসব বিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, উপবৃত্তি প্রদান, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, খেলাধুলার সামগ্রী সরবরাহ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ।
জছিজুল আলম মণ্ডল আরও বলেন, নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা উপজেলায় ইতোমধ্যে মিড-ডে মিল কার্যক্রম চালু হয়েছে। জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও আগামী জুলাই মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে মিড-ডে মিল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রম চালু হলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি পাবে এবং ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও যুগোপযোগী ও আকর্ষণীয় করতে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের জন্য জুতা, পোশাক, শিক্ষা উপকরণ এবং খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়েও বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং অভিভাবকদের মধ্যেও সরকারি বিদ্যালয় সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হবে।
সকল অভিভাবকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, “একটি শিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিকল্প নেই। সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠান, তাদের লেখাপড়ার খোঁজখবর রাখুন এবং বিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখুন। সরকারের সকল সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে আমরা আমাদের সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারি।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, মিড-ডে মিলসহ সরকারের চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি অভিভাবকদের আস্থা আরও বাড়বে এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়ে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

কিন্ডারগার্টেন নয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই মানসম্মত শিক্ষা

আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন নীলফামারী সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জছিজুল আলম মণ্ডল। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের সন্তানদের অবশ্যই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠাবেন। প্রশিক্ষিত শিক্ষক, আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি ও সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে সরকারি বিদ্যালয়েই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে।”
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও উপস্থিতি কমে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের কিন্ডারগার্টেন, ইবতেদায়ী মাদ্রাসা, হেফজখানা ও বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন। তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকারা জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুসরণ করে পাঠদান করছেন। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে এসব বিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, উপবৃত্তি প্রদান, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, খেলাধুলার সামগ্রী সরবরাহ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ।
জছিজুল আলম মণ্ডল আরও বলেন, নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা উপজেলায় ইতোমধ্যে মিড-ডে মিল কার্যক্রম চালু হয়েছে। জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও আগামী জুলাই মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে মিড-ডে মিল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রম চালু হলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি পাবে এবং ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও যুগোপযোগী ও আকর্ষণীয় করতে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের জন্য জুতা, পোশাক, শিক্ষা উপকরণ এবং খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়েও বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং অভিভাবকদের মধ্যেও সরকারি বিদ্যালয় সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হবে।
সকল অভিভাবকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, “একটি শিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিকল্প নেই। সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠান, তাদের লেখাপড়ার খোঁজখবর রাখুন এবং বিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখুন। সরকারের সকল সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে আমরা আমাদের সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারি।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, মিড-ডে মিলসহ সরকারের চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি অভিভাবকদের আস্থা আরও বাড়বে এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়ে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।