ঢাকা ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ কোটালীপাড়াবাসী, দুর্ভোগে শিশু-বৃদ্ধ-রোগীরা

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে ও রাতে প্রায় এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবী মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অসহনীয় মাত্রায় লোডশেডিং চলছে। কোনো কোনো এলাকায় আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর আবার এক থেকে দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে দিনের পাশাপাশি রাতেও স্বস্তি মিলছে না মানুষের।

প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশুদের মধ্যে অস্থিরতা বেড়েছে। অনেক শিশু গরমে ঘুমাতে পারছে না, কান্নাকাটি করছে এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। একইভাবে বয়স্ক মানুষদের দুর্ভোগও চরমে পৌঁছেছে। উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট ও নানা জটিল রোগে আক্রান্ত বৃদ্ধরা গরম সহ্য করতে না পেরে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

অসুস্থ রোগীদের অবস্থাও করুণ। অনেক পরিবারে রোগীদের জন্য ফ্যানই একমাত্র স্বস্তির মাধ্যম। কিন্তু ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় রোগীদের কষ্ট কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ঘরের বাইরে উঠানে কিংবা বারান্দায় রাত কাটাচ্ছেন।

লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী চার্জার লাইট, মোমবাতি কিংবা কুপির আলোয় পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে তাদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গৃহিণীদের দৈনন্দিন কাজেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক ভোগান্তি। ফ্রিজে সংরক্ষিত খাবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। অনেক এলাকায় পানির মোটর চালানো সম্ভব না হওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকটও তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিদ্যুৎনির্ভর ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বাজার এলাকায় সন্ধ্যার পর অনেক দোকানে বিক্রি কমে গেছে। ফলে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনে কয়েকবার লোডশেডিং হলেও রাতের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। বিদ্যুৎ না থাকায় মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। গরম ও মশার যন্ত্রণায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে হাজারো পরিবারকে।

কোটালীপাড়ার সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করলেও তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। দিনের পর দিন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও লোডশেডিং নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয়রা দ্রুত এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জিলানী এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কোটালীপাড়াবাসীর প্রশ্ন—আর কতদিন এমন দুর্ভোগ সহ্য করতে হবে? নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনার দাবি এখন পুরো উপজেলার।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ কোটালীপাড়াবাসী, দুর্ভোগে শিশু-বৃদ্ধ-রোগীরা

আপডেট সময় : ০২:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে ও রাতে প্রায় এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবী মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অসহনীয় মাত্রায় লোডশেডিং চলছে। কোনো কোনো এলাকায় আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর আবার এক থেকে দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে দিনের পাশাপাশি রাতেও স্বস্তি মিলছে না মানুষের।

প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশুদের মধ্যে অস্থিরতা বেড়েছে। অনেক শিশু গরমে ঘুমাতে পারছে না, কান্নাকাটি করছে এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। একইভাবে বয়স্ক মানুষদের দুর্ভোগও চরমে পৌঁছেছে। উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট ও নানা জটিল রোগে আক্রান্ত বৃদ্ধরা গরম সহ্য করতে না পেরে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

অসুস্থ রোগীদের অবস্থাও করুণ। অনেক পরিবারে রোগীদের জন্য ফ্যানই একমাত্র স্বস্তির মাধ্যম। কিন্তু ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় রোগীদের কষ্ট কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ঘরের বাইরে উঠানে কিংবা বারান্দায় রাত কাটাচ্ছেন।

লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী চার্জার লাইট, মোমবাতি কিংবা কুপির আলোয় পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে তাদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গৃহিণীদের দৈনন্দিন কাজেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক ভোগান্তি। ফ্রিজে সংরক্ষিত খাবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। অনেক এলাকায় পানির মোটর চালানো সম্ভব না হওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকটও তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিদ্যুৎনির্ভর ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বাজার এলাকায় সন্ধ্যার পর অনেক দোকানে বিক্রি কমে গেছে। ফলে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনে কয়েকবার লোডশেডিং হলেও রাতের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। বিদ্যুৎ না থাকায় মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। গরম ও মশার যন্ত্রণায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে হাজারো পরিবারকে।

কোটালীপাড়ার সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করলেও তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। দিনের পর দিন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও লোডশেডিং নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয়রা দ্রুত এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জিলানী এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কোটালীপাড়াবাসীর প্রশ্ন—আর কতদিন এমন দুর্ভোগ সহ্য করতে হবে? নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনার দাবি এখন পুরো উপজেলার।