বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পেশাগত দায়িত্ব, জবাবদিহিতা ও রাষ্ট্রীয় অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে প্রণীত এমপিও নীতিমালা-২০২৫ সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে নীতিমালায় শিক্ষক-কর্মচারীদের অন্য কোনো আর্থিক লাভজনক পেশায় সম্পৃক্ততার বিষয়ে কঠোর বিধান যুক্ত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নে এক ব্যক্তির একাধিক পেশাগত পরিচয় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আবুল কালাম আজাদ একটি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি কাজী হিসেবে বিবাহ নিবন্ধন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং সাংবাদিকতাও করছেন বলে এলাকায় পরিচিত।
এমপিও নীতিমালা-২০২৫-এর ১১.১৭ ধারায় উল্লেখ রয়েছে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক চাকরি বা আর্থিক লাভজনক পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। একই ধারার ব্যাখ্যায় সাংবাদিকতা, আইন পেশাসহ বিভিন্ন সম্মানীভিত্তিক পেশাকে ‘আর্থিক লাভজনক পেশা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক একই সঙ্গে অন্য পেশায় সম্পৃক্ত থাকলে তা নীতিমালার সঙ্গে কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ?
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষকতা শুধু একটি চাকরি নয়; এটি একটি পূর্ণকালীন দায়িত্ব। পাঠদান, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিবেশ রক্ষায় একজন শিক্ষকের সার্বক্ষণিক মনোযোগ প্রয়োজন। ফলে একই সঙ্গে একাধিক পেশায় সক্রিয় সম্পৃক্ততা থাকলে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের অবকাশ তৈরি হয়।
এদিকে স্থানীয়ভাবে আলোচিত ব্যক্তির নাম আদালতের একটি মামলার নথিতেও রয়েছে বলে জানা গেছে। স্বত্ব মোকদ্দমা নং-০৬/২০২১, মাননীয় সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, বালাগঞ্জ, সিলেটে তিনি বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তবে মামলাটি বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি কোনো ব্যক্তি বিশেষকে কেন্দ্র করে নয়; বরং এমপিও নীতিমালার কার্যকারিতা ও সমভাবে প্রয়োগের প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত। নীতিমালার বিধান যদি বাস্তবে প্রতিফলিত হয়, তবে শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে।
স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে নীতিমালার বিধান কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে, তা সময়ে সময়েই পর্যালোচনা হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগ, তথ্য ও বাস্তবতার ভিত্তিতে বিষয়গুলোর স্বচ্ছ মূল্যায়ন হওয়াও জরুরি।
সব মিলিয়ে ওসমানীনগরে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে একটাই প্রশ্ন—এমপিও নীতিমালায় বর্ণিত শর্তগুলো বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে, এবং একাধিক পেশায় সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে নীতিমালার অবস্থান কী?
মোঃ রাজন আহমদ, স্টাফ রিপোর্ট, 



















