চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় মাত্র চার দিনের ব্যবধানে হত্যা, সড়ক দুর্ঘটনা ও পানিতে ডুবেসহ পৃথক ঘটনায় ৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো উপজেলায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, পাশাপাশি দেখা দিয়েছে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
শনিবার, ৩০ মে সকালে বাগানবাজার ইউনিয়নে পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একই দিন বিকেলে পাইন্দং ইউনিয়নের নয়াবাজার আর্মি ক্যাম্প সংলগ্ন একটি মাছের খামারের পুকুর থেকে শিশু মুমতাহিনা ও খামার মালিক মফিজ উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে প্রাণ হারান খামার মালিক।
দিনের শেষভাগে হাজারীখিলের রাঙাপানি চা-বাগান এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলেই নিহত হন দুই যুবক—সীমান্ত দাশ ও জয় মল্লিক।
এরপর সোমবার সকালে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের আমতলী এলাকায় বাসচাপায় প্রাণ হারান মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে শাহজাহান ও আরিফ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়।
একই দিন বিকেলে নয়াবাজার এলাকায় আরেকটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন প্রবাসী রবিউল ইসলাম।
এভাবে মাত্র চার দিনে ৮ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ফটিকছড়িজুড়ে বিরাজ করছে শোকাবহ পরিস্থিতি। স্থানীয়দের দাবি, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির সময় এখনই।
পুলিশ জানিয়েছে, পৃথক ঘটনাগুলোতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ধারাবাহিক এসব প্রাণহানির পর নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে ফটিকছড়ির সাধারণ মানুষের মধ্যে।
মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন রাসেল, ফটিকছড়ি প্রতিনিধি 



















