ঢাকা ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫ মাসে বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণের পর হত্যা :আতঙ্কে অভিভাবক, প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা

বাংলাদেশে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের পর হত্যার
ঘটনা উদ্বেগ জনক মাত্রায় পৌঁছেছে। চলতি বছরে প্রথম পাঁচ মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর একশিশু ধর্ষণ, নির্যাতন এবং হত্যার ঘটনা সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত শতাধিক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের প্রতি সহিংসতার এই ধারাবাহিকতা আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ নয়, এটি সামাজিক অবক্ষয়েরও একটি ভয়াবহ প্রতিফলন। অধিকাংশ ঘটনায় দেখা গেছে, অপরাধীরা ভুক্তভোগী শিশুদের পরিচিত ব্যক্তি, প্রতিবেশী, আত্মীয় কিম্বা স্থানীয় প্রভাবশালী কেউ। ফলে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছেই।

উদ্বেগ জনক পরিসংখ্যান

মানবাধিকার সংখ্যাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে অন্তত ১১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে বেশ কয়েকটি ঘটনার ধর্ষণের পর হত্যা, মরদেহ ঘুমের চেষ্টাএবং প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেও এখনো অধিকাংশ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয় নাই।

কেন বাড়ছে এ ধরনের অপরাধ?

সমাজ বিজ্ঞানী ও শিশু অধিকারকর্মীরা বলেছেন, পারিবার সচেতনতার অভাব, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, মাদকাসক্তি, অপরাধীদের দ্রুত বিচার না হওয়া এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার এ ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

বিচারহীনতা সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বেগ

শিশু নির্যাতন ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হওয়ার অনেক অপরাধী আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে অপরাধীদের মধ্যে শাস্তির ভয় কমে যাচ্ছে এবং নতুন করে অপরাধ সংগঠনের প্রবণতা বাড়ছে।

আইনজীবীরা বলছেন, শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মামলাগুলো দ্রুত তদন্ত ও বিচার সম্পূর্ণ করা গেলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।

শিশু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী অভিভাবকদের যা করণীয়……..

# শিশুদের একা নির্জন স্থানে না দেওয়া।
# অপরিচিত বা সন্দেহজনক ব্যক্তির বিষয়ে সতর্ক করা।
# শিশুদের সঙ্গে নিয়মিত খোলামেলা আলোচনা করা।
# কোন ধরনের নির্যাতনের ইঙ্গিত পেলে দ্রুত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করা।
# স্কুল ও পরিবারের শিশু সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

সমাজের প্রতি আহ্বান

শিশুরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সবার দায়িত্ব। শিশু ধর্ষণ ও নৃশংস অপরাধ বন্ধে কঠোর আইন পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। প্রতিটি শিশু নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

পরিশেষে পাঁচ মাসে শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার এরপর এক ঘটনা বাংলাদেশের বিবেক কে নাড়া দিয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে এগিয়ে আসার এখনই সময়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

৫ মাসে বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণের পর হত্যা :আতঙ্কে অভিভাবক, প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা

আপডেট সময় : ০৬:২৯:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

বাংলাদেশে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের পর হত্যার
ঘটনা উদ্বেগ জনক মাত্রায় পৌঁছেছে। চলতি বছরে প্রথম পাঁচ মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর একশিশু ধর্ষণ, নির্যাতন এবং হত্যার ঘটনা সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত শতাধিক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের প্রতি সহিংসতার এই ধারাবাহিকতা আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ নয়, এটি সামাজিক অবক্ষয়েরও একটি ভয়াবহ প্রতিফলন। অধিকাংশ ঘটনায় দেখা গেছে, অপরাধীরা ভুক্তভোগী শিশুদের পরিচিত ব্যক্তি, প্রতিবেশী, আত্মীয় কিম্বা স্থানীয় প্রভাবশালী কেউ। ফলে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছেই।

উদ্বেগ জনক পরিসংখ্যান

মানবাধিকার সংখ্যাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে অন্তত ১১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে বেশ কয়েকটি ঘটনার ধর্ষণের পর হত্যা, মরদেহ ঘুমের চেষ্টাএবং প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেও এখনো অধিকাংশ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয় নাই।

কেন বাড়ছে এ ধরনের অপরাধ?

সমাজ বিজ্ঞানী ও শিশু অধিকারকর্মীরা বলেছেন, পারিবার সচেতনতার অভাব, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, মাদকাসক্তি, অপরাধীদের দ্রুত বিচার না হওয়া এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার এ ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

বিচারহীনতা সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বেগ

শিশু নির্যাতন ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হওয়ার অনেক অপরাধী আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে অপরাধীদের মধ্যে শাস্তির ভয় কমে যাচ্ছে এবং নতুন করে অপরাধ সংগঠনের প্রবণতা বাড়ছে।

আইনজীবীরা বলছেন, শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মামলাগুলো দ্রুত তদন্ত ও বিচার সম্পূর্ণ করা গেলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।

শিশু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী অভিভাবকদের যা করণীয়……..

# শিশুদের একা নির্জন স্থানে না দেওয়া।
# অপরিচিত বা সন্দেহজনক ব্যক্তির বিষয়ে সতর্ক করা।
# শিশুদের সঙ্গে নিয়মিত খোলামেলা আলোচনা করা।
# কোন ধরনের নির্যাতনের ইঙ্গিত পেলে দ্রুত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করা।
# স্কুল ও পরিবারের শিশু সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

সমাজের প্রতি আহ্বান

শিশুরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সবার দায়িত্ব। শিশু ধর্ষণ ও নৃশংস অপরাধ বন্ধে কঠোর আইন পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। প্রতিটি শিশু নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

পরিশেষে পাঁচ মাসে শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার এরপর এক ঘটনা বাংলাদেশের বিবেক কে নাড়া দিয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে এগিয়ে আসার এখনই সময়।