ঢাকা ১২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদের দিন নির্ধারণে মতপার্থক্য: কী বলে ইসলাম?

সৌদি আরবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পবিত্র ঈদুল আযহার ধর্মীয় আবহে মুখরিত হয়ে উঠেছিল মৌলভীবাজার-এর আকাশ-বাতাস। বুধবার সকাল ৭টায় শহরের সার্কিট হাউস এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত, যেখানে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ।
ঈদের জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা আবদুল মাওফিক চৌধুরী। নামাজে অংশ নিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে শতাধিক নারী-পুরুষ ছুটে আসেন। সাদা পাঞ্জাবি, টুপি আর তাকওয়ার আবরণে মুসল্লিদের মিলনমেলা যেন ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও আত্মত্যাগের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবিতে রূপ নেয়।

নামাজ শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য দোয়া করা হয়। পরে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী পশু কোরবানির মাধ্যমে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগের মহান আদর্শ স্মরণ করেন মুসল্লিরা।

এদিকে, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশে ঈদের নামাজ আদায় করা ইসলামে বৈধ কি না—এটি মূলত ফিকহি (ইসলামী আইনশাস্ত্রভিত্তিক) মতপার্থক্যের বিষয় বলেই মনে করেন ইসলামি চিন্তাবিদরা। এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে।

একদল আলেমের মতে, চাঁদ দেখার বিষয়টি স্থানীয়তার সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ, বাংলাদেশে ঈদ হবে দেশের আকাশে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে। তারা হাদিসের “তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে ঈদ করো” — এই নির্দেশনার ভিত্তিতে স্থানীয় চাঁদ দেখাকে গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশে সরকারিভাবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা হয়।
অন্যদিকে, কিছু আলেম ও মুসল্লি মনে করেন, বিশ্বের কোথাও বিশেষত সৌদি আরবে চাঁদ দেখা গেলে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের স্বার্থে সেই অনুযায়ী ঈদ পালন করা যেতে পারে। তারা বৈশ্বিক চাঁদ দেখার ধারণাকে সমর্থন করেন।

তবে বাংলাদেশের অধিকাংশ আলেম, মাদরাসা বোর্ড ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দৃষ্টিতে স্থানীয় চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই ঈদ উদযাপন করাই প্রচলিত ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি। ইসলামি বিশ্লেষকদের মতে, এটি আকিদাগত বিভেদের নয়; বরং ফিকহি ব্যাখ্যার ভিন্নতা। তাই মতপার্থক্যের মধ্যেও সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা।

পবিত্র ঈদুল আযহার এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা ছিল আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার এক গভীর তাৎপর্যময় বার্তা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

ঈদের দিন নির্ধারণে মতপার্থক্য: কী বলে ইসলাম?

আপডেট সময় : ০৩:৫২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

সৌদি আরবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পবিত্র ঈদুল আযহার ধর্মীয় আবহে মুখরিত হয়ে উঠেছিল মৌলভীবাজার-এর আকাশ-বাতাস। বুধবার সকাল ৭টায় শহরের সার্কিট হাউস এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত, যেখানে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ।
ঈদের জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা আবদুল মাওফিক চৌধুরী। নামাজে অংশ নিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে শতাধিক নারী-পুরুষ ছুটে আসেন। সাদা পাঞ্জাবি, টুপি আর তাকওয়ার আবরণে মুসল্লিদের মিলনমেলা যেন ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও আত্মত্যাগের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবিতে রূপ নেয়।

নামাজ শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য দোয়া করা হয়। পরে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী পশু কোরবানির মাধ্যমে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগের মহান আদর্শ স্মরণ করেন মুসল্লিরা।

এদিকে, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশে ঈদের নামাজ আদায় করা ইসলামে বৈধ কি না—এটি মূলত ফিকহি (ইসলামী আইনশাস্ত্রভিত্তিক) মতপার্থক্যের বিষয় বলেই মনে করেন ইসলামি চিন্তাবিদরা। এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে।

একদল আলেমের মতে, চাঁদ দেখার বিষয়টি স্থানীয়তার সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ, বাংলাদেশে ঈদ হবে দেশের আকাশে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে। তারা হাদিসের “তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে ঈদ করো” — এই নির্দেশনার ভিত্তিতে স্থানীয় চাঁদ দেখাকে গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশে সরকারিভাবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা হয়।
অন্যদিকে, কিছু আলেম ও মুসল্লি মনে করেন, বিশ্বের কোথাও বিশেষত সৌদি আরবে চাঁদ দেখা গেলে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের স্বার্থে সেই অনুযায়ী ঈদ পালন করা যেতে পারে। তারা বৈশ্বিক চাঁদ দেখার ধারণাকে সমর্থন করেন।

তবে বাংলাদেশের অধিকাংশ আলেম, মাদরাসা বোর্ড ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দৃষ্টিতে স্থানীয় চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই ঈদ উদযাপন করাই প্রচলিত ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি। ইসলামি বিশ্লেষকদের মতে, এটি আকিদাগত বিভেদের নয়; বরং ফিকহি ব্যাখ্যার ভিন্নতা। তাই মতপার্থক্যের মধ্যেও সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা।

পবিত্র ঈদুল আযহার এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা ছিল আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার এক গভীর তাৎপর্যময় বার্তা।